ঢাকা, বৃহস্পতিবার 27 October 2016 ১২ কার্তিক ১৪২৩, ২৫ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিকিৎসকদের প্রতি আরো আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যসেবাকে যুগোপযোগী করে জনগণের দোড়গোঁড়ায় নিয়ে যাবার জন্য ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে চিকিৎসকদের আরো আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য আমরা ১৫ বছর মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। এ লক্ষ্যে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। বিসিপিএস এই মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা রোগীদের চিকিৎসা সেবাটা ভালোভাবে দেবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, ওষুধের চাইতে একজন ডাক্তারের মুখের কথাতেই অর্ধেক অসুখ কিন্তু ভাল হয়ে যায়। কারণ আমরাতো রোগী হই মাঝে মাঝে আমরা বুঝি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স (বিসিপিএস) এর ১৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।
চিকিৎসাসেবাকে একটি মহান ব্রত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসা শুধু একটি পেশা নয়, একটি মহান ব্রত। আপনারা নিষ্ঠা ও মেধা প্রয়োগ করে বিশেষজ্ঞ হয়েছেন। আর্ত-পীড়িতদের সেবাদানের জন্য সামর্থ্য অর্জন করেছেন। এখানেই শেষ নয়, আপনাদের মধ্যে সেবাদানের মনোভাব তৈরি করতে হবে। প্রতিটি রোগীকে নিজের পরিবারের একজন সদস্য মনে করে সেভাবে সেবা প্রদান করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কারণ বাংলাদেশকে আমরা আত্মমর্যাদাশীল ও আত্মনির্ভরশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’
১৯৭২ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন পিজি হাসপাতাল এবং আজকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতার দেয়া একটি ভাষণের উদ্বৃতি দেন প্রধানমন্ত্রী- ‘আপনারা ডাক্তার, আপনাদের মন হতে হবে অনেক উদার। আপনাদের মন হবে সেবার। আপনাদের কাছে বড় ছোট থাকবে না। আপনাদের কাছে থাকবে রোগ, কার রোগ বেশি কার রোগ কম। তাহলেই তো সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে এবং আপনারা মানুষের মনের সহযোগিতা পাবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চ শিক্ষার জন্য আমরা সব সুবিধা নিশ্চিত করে যাচ্ছি। একের পর এক বিশেষায়িত হাসপাতাল করে দিচ্ছি। আপনারা এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে জ্ঞান অর্জন করেন, রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেন- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং সমাবর্তন বক্তৃতা প্রদান করেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান্স (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক মো. সানাওয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মো.নাসিম। স্বাগত বক্তৃতা করেন কলেজের সাবেক সভাপতি এসএএম গোলাম কিবরিয়া।
প্রধানমন্ত্রী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এফসিপিএস এবং এমসিপিএস ডিগ্রী অর্জনকারী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাঝে সনদ এবং কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বর্ণপদক বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিসিপিএস সভাপতি অধ্যাপক মো. সানওয়ার হোসেন এদিন সমাবর্তনে সনদ লাভকারি শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশে প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করি। এখন আমরা প্রত্যেক ডিভিশনে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।
তার সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে গৃহিত পদক্ষেপ সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বাস্থ্যনীতি ২০১১ এবং জনসংখ্যা নীতিমালা ২০১২ প্রণয়ন করেছি এবং এ পর্যন্ত সারা দেশে ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছি।
চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রসারে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩শ’ ৪৫টি নতুন চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে মোট ১২ হাজার ৮শ’ ৪টি আসন বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সরকারের সাত বছরে ১২ হাজার ৭শ’ ২৮ জন সহকারী সার্জন এবং ১শ’ ১৮ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫ হাজার নতুন নার্স নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দান প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ৩ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির সর্বমোট ৩ হাজার ৭১টি পদে জনবল নিয়োগ দিয়েছি। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন পর্যায়ে ৪ হাজার ৮শ’ ৫৮ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারিকে নিয়োগ দিয়েছি।
সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসক সংকট নিরসনে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের ৩৩তম ব্যাচে ৬ হাজার ২৩৫ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ