ঢাকা, বুধবার 26 September 2018, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাঞ্জিবারের অক্টোপাস শিকারি

অনলাইন ডেস্ক : জাঞ্জিবারের সাদা বালুর সমুদ্র তীর পর্যটকদের কাছে এক বড় আকর্ষণ। কিন্তু প্রতিদিন যখন সাগরে ভাটার টান ধরে, পর্যটকরা তাদের হোটেলে ফিরতে থাকেন, তখন লাঠি আর বর্শা হাতে একদল মানুষকে দেখা যায় সাগর তীরের হাঁটু পানি ভেঙ্গে এগিয়ে চলেছেতানজানিয়ায় সবচেয়ে উপাদেয় খাবার অক্টোপাসের সন্ধানে বেরিয়েছে এর।

সাগর তট থেকে ফিরছে এক কিশোরি

ভাটার সময় একজন অক্টোপাস শিকারি তার বর্শায় গাঁথতে পারেন দশটি পর্যন্ত অক্টোপাস। এসব অক্টোপাস থাকে সাগর তীরের বড় বড় পাথর, প্রবাল আর লতাগুল্মের ফাঁকে।

জাঞ্জিবারের বড় বড় হোটেলের পর্যটকদের কাছে এসব অক্টোপাসের ভীষণ চাহিদা জাঞ্জিবারের উপকুল বরাবার আছে এক প্রবাল প্রাচীর। এর ফলে সেখানে বহু বিচিত্র সামূদ্রিক প্রাণীর বিচরণ। 

অক্টোপাস ধরার পর সেটি পানিতে ধুয়ে নিচ্ছেন এক শিকারি

পুরো পশ্চিম ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অক্টোপাস ধরা হয় তানজানিয়ায়।

৩৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আলী ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকায় অক্টোপাস শিকারে বেরুনোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগে কেবল মহিলাদেরকেই এই অক্টোপাস শিকারের কাজে দেখা যেত। কিন্তু এর চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে বেশি আয়ের আকর্ষণে পুরুষরা এখন এই কাজ বেছে নিচ্ছে।

সাগর তটে ধরা পড়া একটি অক্টোপাস

অক্টোপাস শিকার করে প্রতিদিন ভালোই আয় হয় সাইদ আলীর। প্রতি কেজি অক্টোপাসের জন্য পান দুই ডলার তিরিশ সেন্ট।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, তানজানিয়ায় অক্টোপাসের উৎপাদন যেখানে ১৯৯০ সালে ছিল মাত্র ৪৮২ টন, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২৫০ টনে।

সাগর তটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেসব প্রবাল পাথরের খন্ড, তার ফাঁকে লুকিয়ে থাকে অক্টোপাস। সহজে চোখে পড়ার কথা নয়, কিন্তু পাকা শিকারিরা ঠিকই খুজে পান কোথায় লুকিয়ে থাকে এই অক্টোপাস।

বিরান সমূদ্র তটে এক নিঃসঙ্গ শিকারি অক্টোপাসের সন্ধানে। এই সাগর তট তাদের জীবিকার একমাত্র উৎস।

গ্রিলড অক্টোপাস। অনেকের কাছে খুবই উপাদেয় এক খাবার। তানজানিয়ার বেশিরভাগ অক্টোপাস রফতানি করা হয় ইউরোপে। তবে জাঞ্জিবারের পর্যটকদের কাছেও এর অনেক চাহিদা। ছবি তুলেছেন টমি ট্রেনচার্ড এবং ম্যারিয়ার ইউনিয়েনভিল। সূত্র: বিবিসি বাংলা। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ