ঢাকা, শুক্রবার 28 October 2016 ১৩ কার্তিক ১৪২৩, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সিরাজগঞ্জে ৪৯২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে প্রধান শিক্ষক ছাড়া

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জে ৪৯২ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে প্রাথমিক শিক্ষা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল। 

সিরাজগঞ্জ  জেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায় যে, সহকারী শিক্ষক পদ থেকে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি বন্ধ এবং প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ থাকার কারণে জেলার ৪৯২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রয়েছে । এছাড়াও ৬৬৭ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। যে কারণে এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে হুমকীর মুখে পরেছে। এইসব বিদ্যালয়  চলছে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দিয়ে। বিদ্যালয়গুলো যে কারণে একদিকে যেমন ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা- কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে অপরদিকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ করতে গিয়েও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকগণ তাদের ক্লাস নিতেও সমস্যায় পরছেন । 

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে শতকরা ৬৫ভাগ পদোন্নতি এবং ৩৫ ভাগ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের বিধান রয়েছে। অথচ এই নীতির বাস্তবায়ন না হওয়ায় দীর্ঘ দিন ধরে সিরাজগঞ্জ জেলা জুড়ে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার উল্লাপাড়ায় ৭১ টি প্রধান শিক্ষক এবং ৫৮ টি সহকারী, কাজিপুরে ৮২ টি প্রধান শিক্ষক এবং ১৩০ টি সহকারী, কামারখন্দে ২১ টি প্রধান শিক্ষক এবং ৪২ টি সহকারী শিক্ষক , চৌহালিতে ৩৪ টি প্রধান শিক্ষক এবং ১২৮ টি সহকারী শিক্ষক, তাড়াশে ৫৫ টি প্রধান শিক্ষক এবং ১৭ টি সহকারী শিক্ষক ,বেলকুচিতে ৫১ টি প্রধান শিক্ষক এবং ৬৫ টি সহকারী শিক্ষক, রায়গঞ্জে ৫১ টি প্রধান শিক্ষক এবং ৬৪ টি সহকারী শিক্ষক, শাহজাদপুরে ৬৪ টি প্রধান শিক্ষক এবং ১০০ টি সহকারী শিক্ষক এবং সিরাজগঞ্জ সদরে ৬৩ টি প্রধান শিক্ষক এবং ৬৩ টি সহকারী শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। 

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ  জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ শহিদুল ইসলাম শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িক  ব্যহতের কথা স্বীকার করে  বলেন, ইতোমধ্যেই শতকরা ৬৫ ভাগ পদোন্নতির জন্য ৩৩২ জনের তালিকা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বাকী ৩৫ ভাগ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে অধিদপ্তর নিয়োগ দিবে যা প্রক্রিয়াধীন আছে। সহকারী শিক্ষকের ব্যাপারে তিনি বলেন, নতুন নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে এই পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ