ঢাকা, শুক্রবার 28 October 2016 ১৩ কার্তিক ১৪২৩, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাতীয় দলের ব্যর্থতায় বাফুফের সমালোচনায় সাবেক ফুটবলাররা

স্পোর্টস রিপোর্টার : ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবলে খেলবে বাংলাদেশ! বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দায়িত্ব নেয়ার পরই এমন স্বপ্নের কথাই মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন সভাপতি কাজি সালাউদ্দিন। দু’বারের নির্বাচিত এই সভাপতির সময়েই আগামী ৩ বছরের জন্য ফিফা ও এএফসির কোন ম্যাচ খেলতে পারবেনা লাল-সবুজ দলটি। কোথায় দাঁড়িয়ে আছে দেশের ফুটবল! ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এখন ২০৯ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৮। তারপরও দাম্ভিকতা নিয়ে কথা বলেন বাফুফের কর্তারা,ভাবতেই অবাক লাগে! তাদের কি একটুও লজ্জা হয় না! ব্যর্থতার দায় নিয়ে তারা তো নতুন কাউকে দায়িত দিয়ে স্বেচ্ছায় বিদায় নিতে পারেন। কিন্তু করবেননা। কি মধু আছে। দেনার দায়ে জর্জরিত ফেডারেশন অথচ বাফুফের কর্তারা দিব্বি বিদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন। হয়তো দেনার পরিমান আরো বাড়বে। এই অনিয়মগুলো সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলেও দাবী জানালেন সাবেক ফুটবলার ও বাফুফের সাবেক সদস্য হাসানুজ্জামান খান বাবলু। গতকাল বৃহস্পতিবার ফুটবলের সংকট নিয়ে সাবেক ফুটবলার ও সংগঠকদের ব্যানারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছিলো। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাফুফের সাবেক সাধারন সম্পাদক মনজুর হোসেন মালু, সাবেক ফুটবলার গোলাম সারোয়ার টিপু, সামসুল আলম মঞ্জু, কায়সার হামিদ, আমিনুল হক ও হাসান আল মামুন। অনুষ্ঠানের আয়োজক আমিনুল হক লিখিত বক্তব্যে দাবী জানান, বাফুফের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারির যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা ফিফার পাশাপাশি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের।  

সাবেক তারকা ফুটবলার হাসানুজ্জামান খান বাবলু ভুটানের কাছে হারার বিষয়ে বলেন, ‘১৫ বছর আগেও ভুটান আমাদের সঙ্গে খেলতেই সাহস করতো না। বরং দল পাঠিয়ে এদেশে অনুশীলন করতে আসতো। আর এই দেড়যুগ পড় এসে তাদের কাছে আমরা হারি। এই দায় বিগত ও বর্তমান কমিটির। তাই দায় স্বীকার করে এই কমিটিকে চেয়ার ছেড়ে দিতে হবে। নতুনদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাহলে যদি দেশের ফুটবল গতি ফিরে পায়।’ আরেক সাবেক তারকা ফুটবলার গোলাম সারওয়ার টিপুর কথা, ‘বিদেশী কোচদের কোন প্রকার সময় দিচ্ছেন না বাফুফের সভাপতি। দেখুন এমিলি অসুস্থ থাকার পরও দলে নেয়া হয়েছিল। অবসর দেয়ার পরও মামুনুলকে নিতে বাধ্য হয়েছেন কোচ। মূলত ফুটবলার তৈরি না করাতেই আজ এই দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’ সাবেক তারকা ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু বলেন, ‘ফুটবলকে এই দৈন্যদশা থেকে মুক্ত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরাও প্রস্তুত ফুটবল উন্নয়নে কাজ করতে।’ সাবেক তারকা ফুটবলার কায়সার হামিদের কথা, ‘আমরা চাই সুদিনে ফিরে আসুক আমাদের প্রাণপ্রিয় খেলা ফুটবল। সে জন্য লক্ষ্য ঠিক করা প্রয়োজন।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও গোলকিপার আমিনুল হক বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন আমি ফুটবল খেলা শুরু করি, তখন ফিফা র‌্যাংকিংয়ে আমাদের অবস্থান ছিল ১১৭/১১৮ নম্বরে। এখন ১৮৮ তে। ফুটবলটা তলানীতে রয়েছে। দেশের ফুটবলের উন্নয়ন চাইলে চেয়ার ছেড়ে নতুন কাউকে দয়িত্ব দিয়ে সরে যাওয়া উচিত বাফুফের বর্তমান কর্মকর্তাদের।’ তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি ৩ নবেম্বর ফিফার একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। আমাদের দাবি, সুযোগ থাকলে আমরাও তাদের সঙ্গে দেখা করে দেশের ফুটবল নিয়ে কথা বলতে চাই।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাসান আল মামুনের কথা, ‘প্রায় সত্তর দশক ধরে আমরা ফুটবল খেলছি। অথচ ফুটবলকে প্রাতিষ্ঠানিক প্লাটফর্মে তুলে আনতে কোন পরিকল্পনা ছিল না। বর্তমানে বাফুফের কমিটির পরিকল্পনা থাকলেও তা দুর্বল এবং বাস্তবায়নহীন। আমরা এর পরিত্রাণ চাই। এ ব্যাপারে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ নতুন মান সম্পন্ন ফুটবলার তৈরি হচ্ছে না বলেই আজ এ দূরাবস্থা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ