ঢাকা, শুক্রবার 28 October 2016 ১৩ কার্তিক ১৪২৩, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সরকার খাদ্যশস্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে অঙ্গীকারাবদ্ধ -প্রধানমন্ত্রী

বাসস : দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণ ও আপদকালীন খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলার জন্য খাদ্যশস্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন শস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম (সাইলো) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। এছাড়া সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় পরিচালিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ উদ্বোধনকালে তিনি নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলী জাগিয়ে তুলে সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের চিন্তাভাবনাই ছিল দেশে খাদ্য ঘাটতি রাখা। কারণ, খাদ্য ঘাটতি থাকলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মংলায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন শস্য ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্য গুদাম (সাইলো) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুসংহতকরণ, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য সংরক্ষণ ও আপদকালীন খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলার জন্য খাদ্যশস্য মজুদ সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ আমরা খাদ্য গুদামজাত করার জন্য সাইলো উদ্বোধন করছি। এখন আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই অর্জন আমাদের চিন্তাভাবনার কারণেই সম্ভব হয়েছে। আমরা শুধু খাদ্য উৎপাদনই করবো না খাদ্যকে সংরক্ষণও করবো যেন আপদকালে আমরা তার ব্যবহার করতে পারি এবং এজন্য অন্যের কাছে হাত পাততে না হয়।

তিনি বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনা হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষ অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমরা ভাবি, নিজেরা কীভাবে দেশের মানুষকে খাদ্যের নিরাপত্তা দেবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণকালে সরকারি পর্যায়ে দেশে খাদ্যশস্যের মোট ধারণ ক্ষমতা ছিল মাত্র ১৪ লক্ষ মেট্রিক টন। বর্তমানে এ ধারণ ক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ২০ লক্ষ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। ২০২১ সালের মধ্যে খাদ্যশস্য ধারণ ক্ষমতা ৩০ লক্ষ মে. টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির চিন্তাভাবনা ছিল, যদি দেশে ঘাটতি থাকে তাহলে বিদেশি সাহায্য পাওয়া যাবে।’

 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ভিক্ষা করে যাবে, আর আমি ভিক্ষুকের সরদার হয়ে বসে থাকবো, তার জন্য ক্ষমতায় আসিনি। আমরা নিজেরা স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে চলবো।

তিনি দেশের খাদ্য ও কৃষিখাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তুলে ধরেন কৃষক ও বর্গাচাষিদের দেওয়া নানা সুযোগ ও প্রণোদনার কথাও।

নবনির্মিত সাইলোর ওপর অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

মংলা বন্দর থেকে ১৭ কিঃ মিঃ ভাটিতে জয়মনিরঘোল নামক স্থানে মোট ৪২ একর জমিতে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই সাইলো নির্মাণ করা হয়েছে।

এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতায় আরও ৭.১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার আধুনিক খাদ্যগুদাম ও সাইলো নির্মাণ কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।

বগুড়া জেলার সান্তাহারে ২৫,০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ (৩৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সোলার প্ল্যান্ট স্থাপনসহ) নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই দুটি প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুবিধা সম্বলিত কনক্রিট গ্রেইন সাইলো এবং মাল্টিস্টোরিড ওয়্যারহাউজ নির্মিত হওয়ায় সরকারি পর্যায়ে খাদ্যশস্যের ধারণ ক্ষমতা ২১.১৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় পাঁচ হাজার বর্গমিটার পরিসরের একটি জেটি নির্মিত হয়েছে। জেটির মাধ্যমে সরাসরি জাহাজ থেকে সাইলোতে গম খালাস করার জন্য বেলজিয়ামের ‘ভিগান’ কোম্পানির সরবরাহকৃত দুটি নিউমেটিক আনলোডার স্থাপন করা হয়েছে। আনলোডার দুটি দ্বারা ঘণ্টায় ৪০০ মেট্রিক টন গম খালাস করা যাবে।

বাসস’র আরেক খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলী জাগিয়ে তুলে সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপরের ক্ষতি করতে গেলে সেই ক্ষতিটা যে নিজের হতে পারে সেই চিন্তা থেকে নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলীটা জাগিয়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করা। মানুষের ভেতরের সুপ্রবৃত্তিগুলো যেন জাগ্রত হয় সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আমি বলব, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রচারটা করে যাওয়া, মানুষের ভেতরকার পশুত্বটা যেন জেগে না ওঠে।’

 শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা-মাকেও একটা জিনিস বুঝতে হবে ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিলেই কিন্তু কোন সমস্যার সমাধান হলো না। বরং তাদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষায় পরিচালিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এবং ইউনিসেফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ এর কল সেন্টারের ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা এর সেবা পাওয়া যাবে।

চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ এর কেন্দ্রীয় কলসেন্টারে কর্মরত সমাজকর্মীগণ দুস্থ এবং সামাজিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন মাফিক তথ্য ও কাউন্সেলিং সেবা প্রদান করে থাকেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে চাইল্ড হেল্প লাইন বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শিত হয়।

ইউনিসেফ এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২৫ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোস্যাল প্রটেকশন ইন বাংলাদেশ (সিএসপিবি)’ শীর্ষক একটি কারিগরি প্রকল্পের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১৬ মেয়াদি এই ‘চাইল্ড হেল্প লাইন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের সুবিধবঞ্চিত পথশিশুদের সামাজিক সুরক্ষা, পরিবারে পুনঃএকত্রিকরণ, আশ্রয় ও অন্যান্য সেবা প্রদান করা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের যে হেল্প লাইন- ১০৯৮ চালু হয়েছে এটা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও কমে যাবে। যারা অপকর্ম করবে তারা একটু ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে যে, সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যাবার ভয় থাকবে। আর এই লাইনটি যদি কেউ অপব্যবহার করে তাহলে তাদেরও শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কাজেই বিনা কারণে বিরক্তটা যেন কেউ করতে না পারে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব জিল্লার রহমান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ঈমান আলী এবং ইউনিসেফ প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী রাজবাড়ি এবং ফরিদপুরের সেইফহোমে থাকা ভিকটিম এবং তাদের পরিবারের সঙ্গেও মত বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য, চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ ব্যবহারের মাধ্যমে এ পর্যন্ত সারা দেশে ৩৭৯ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করাসহ মোট ২০৭০ জন শিশুকে বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। চাইল্ড হেল্পলাইন-১০৯৮ এ পর্যন্ত মোট কল হয়েছে ৪৫,৭০৫ টি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ