ঢাকা, শুক্রবার 28 October 2016 ১৩ কার্তিক ১৪২৩, ২৬ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাড়তি শ্রমশক্তির প্রায় পঞ্চাশ লাখ নারী

স্টাফ রিপোর্টার : গত এক দশকে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রায় এক কোটি ত্রিশ লাখ বাড়তি শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ লাখ নারী শ্রমিক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুন বাগিচায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ‘কৃষিতে নারীর অবদানের মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি প্রদান, ভূমিতে নারীর সমঅধিকার এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক’ শীর্ষক এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন নারী মৈত্রী নামক একটি এনজিওর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের (বিএনপিএস) নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীরের সভাপতিত্বে এ সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) ফেলো ড. এম আসাদুজ্জামান, সাবেক সিনিয়র রিসার্চ ফেলো প্রতিমা পাল মজুমদার ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা অক্সফামের সিনিয়র পলিসি অফিসার মেহবুবা ইয়াসমীন। 

সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজকদের পক্ষে শাহিন আকতার বলেন, কৃষিতে নারীর অবদানকে অবৈতনিক পারিবারিক শ্রম হিসেবে গণ্য করা হয়। যদিও নারীরা খামার ও পরিবারের উৎপাদনের জন্য দ্বিমুখী চাপ সহ্য করেন। গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাড়তি শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে। যার প্রায় ৫০ লাখই নারী শ্রমিক।

তিনি বলেন, ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের এক কোটি বিশ লাখ নারী শ্রমিকের প্রায় ৭৭ শতাংশই গ্রামীণ নারী। এই নারীরা কৃষিকাজ, পশুপালন, হাঁসমুরগি পালন, মাছ চাষ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত। তিনি বলেন, ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রামে নারীর এই অবদান স্বীকৃতি ও উচ্চারণের বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমাদের উচিত কৃষিক্ষেত্রে নারীর শ্রমকে মূল্যয়ন করা। তিনি আরো বলেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকার থাকলেও পুরুষেরা ৯৬ শতাংশ জমির মালিক। যেখানে নারীর রয়েছে মাত্র চার শতাংশ।

উন্নয়ন গবেষক ড. এম আসাদুজ্জামান বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অবদান ৫৩ শতাংশ। বিপরীতে পুরুষের অবদান ৪৭ শতাংশ। কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে নারীরা মূল্যায়ন পান না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রণোদনার অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে প্রদত্ত এক কোটি ৩৯ লাখ কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো নরীর ভাগ্যে একটিও জোটেনি। যেখানে নারীর শ্রমশক্তির ৬৮ শতাংশ কৃষি উৎপাদন থেকে বিপণন কাজের সঙ্গে জড়িত। এদিকে ভূমিতেও নারীর সমঅধিকার নেই। বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও নারীদের রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

সাংবাদিক সম্মেলনে নারী কৃষকদের স্বীকৃতিসহ তাদের রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ব্যবস্থার আওতায় আনা, পারিবারিক কৃষি কার্ড প্রবর্তন, সর্বজনীন উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করাসহ কৃষি সম্প্রসারণ সেবা নারীর কাছে পৌঁছে দেয়া, শ্রম বাজারে নারীর প্রবেশগম্যতা বাড়াতে বাজারের নির্দিষ্ট স্থান আলাদাভাবে নারী কৃষকদের জন্য সংরক্ষিত রাখার দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ