ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের অফুরন্ত সুযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : বহির্বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল পথে অগ্রসর হচ্ছে। ইতিবাচক ম্যাক্রো অর্থনীতি, হ্রাসমান মূদ্রাস্ফীতি, রিজার্ভের ক্রমাগত বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত রাজস্ব ঘাটতি, স্থিতিশীল সরকারি ঋণ, যা অর্থনীতির উজ্জ্বল সম্ভাবনাকে বোঝায়। বাংলাদেশ হচ্ছে ১২টি উন্নয়নশীল দেশের একটি যে সমস্ত দেশসমূহ ২০১৬ সালে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে যে কোন মাপকাঠিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালো করছে এবং এ অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার আইসিসিবি ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এ কথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের মূল চ্যালেঞ্জসমূহ ছিল বেসরকারি বিনিয়োগ গতিশীলকরণ এবং সরকারি খাতের সম্পদসমূহের অধিকতর ভালো ব্যবহার।

২০১৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ/ জিডিপি হার কমেছে, ফলে বর্তমান অর্থবছরে ৭ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২২ শতাংশের মধ্যে স্থবির রয়েছে এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ জিডিপির এক শতাংশের মধ্যে রয়েছে, উভয়ই ষষ্ঠ এবং সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রয়েছে। যাহোক, চলতি অর্থবছরে অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ আসছে।

চলতি অর্থবছরে সরকার ১০টি ফাস্ট ট্র্যাক মেগা প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং ১০টার মধ্যে ৮টি প্রকল্পের জন্য ১৮৭.২৭ বিলিয়ন টাকা ফান্ড অনুমোদন দিয়েছে। মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে পদ্মা সেতু, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ, মেট্রো রেল, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর, রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পায়রা সমুদ্র বন্দর, রামপাল থারমাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, মাতারবাড়ী পাওয়ার প্ল্যান্ট, এলএনজি টারমিনাল এবং দোহাজারী-কক্সবাজার-গুনডুম রেল লাইন। বিশেষজ্ঞরা সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে এটা অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিনমাসে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অনেকগুলোই বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন তৈরির জন্য ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফান্ডের ঘোষণা দিয়েছে, যা এশিয়া মহাদেশে রেলওয়েতে এডিবির সর্বোচ্চ বিনিয়োগ হবে। নতুন রেলরোডে এডিবির এ বিনিয়োগ ট্রান্স-এশিয়া রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ, এটা মিয়ানমার এবং এর বাইরেও বাংলাদেশের প্রবেশকে উন্নততর করবে।

পদ্মা রেল সংযোগের জন্য চায়না রেল গ্রুপ লিমিটেড ৩৪৯.৮৮ বিলিয়ন টাকার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ডিপি রেইল (একটি বৃটিশ কোম্পানী) ঢাকা-পায়রা সমুদ্রবন্দর রেল সংযোগ প্রকল্পে ৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। ঢাকা এবং পায়রার মধ্যে রেল সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু সরকার ২০২২ সালের মধ্যে পায়রা সমুদ্র বন্দরকে মূল সমুদ্রবন্দর হিসাবে তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পায়রা বন্দর বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে পরিণত হওয়ার সব সম্ভাবনাই রয়েছে, কিন্তু এ মুহূর্তে এর সড়ক এবং রেল সংযোগ ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে একেবারেই সঙ্গীন।

বিগত সাত বছরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে বিদ্যুৎ খাতে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাইপলাইনে আছে। বিদ্যুৎ খাতে এ বিনিয়োগের ফলে জনসংখার প্রায় ৮০ শতাংশের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। “কিন্তু এখনও বিদ্যুৎ খাতে অপরিসীম বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, যেহেতু ২০২১ সালের মধ্যে ২৪,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।” 

বাংলাদেশের ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম-আয়ের দেশের স্ট্যাটাস পাওয়া এবং সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা ও দারিদ্র্য্র হ্রাসকরণ এবং আয়ের অসমতা দূরীকরণের লক্ষ্যে বাৎসরিক বিনিয়োগ যা কিনা ২০১৫ অর্থবছরে জিডিপির ২৯ শতাংশ ছিল তা থেকে বাড়িয়ে ২০২০ সালের মধ্যে জিডিপির ৩৪.৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। সরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বাহ্যিক সম্পদের প্রয়োজন হবে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এর আরও বেশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার পূর্ব অংশের কেন্দ্রবিন্দু এবং দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার সংযোগকারী।  

এছাড়া বাংলাদেশ ডব্লিউটিওর ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, আশা করা যায় এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে এবং বহুমুখী হবে। এ অঞ্চলের প্রধান তিনটি দেশ চায়না, জাপান এবং ইন্ডিয়া এনার্জিসহ অবকাঠামো খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সময়মত বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ খুব দ্রুতই আরও সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।

সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে কলে সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও বেশি গতিশীল এবং তৎপর হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ