ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার পদ্মা ডিপোতে তেল কম দেয়াসহ নানা অভিযোগ

খুলনা অফিস : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-বিপিসি’র খুলনায় অবস্থিত পদ্মা ডিপো ইনচার্জ মো. শওকত আলীর বিরুদ্ধে ওজনে তেল কম দেয়া এবং নিয়মের বাইরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিপো থেকে তেল উত্তোলনের সময় কম দেয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এছাড়া তিনি তাপমাত্রার হেরফের সংক্রান্ত অজুহাতে জাহাজ থেকে তেল বেশি নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ সব কারসাজি করে তিনি ভিন্নপথে মোটা অংকের অর্থ লুটে নিচ্ছেন। ডিপো ইনচার্জের এ সব অনিয়ম-দুর্নীতিতে খুলনা অঞ্চলের জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগে জানা গেছে, পদ্মা ডিপো থেকে ডিলারদের ব্যারেলে ভরে তেল দেয়ার সময় কম দেয়া হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যারেল প্রতি ৩ থেকে ৪ লিটার করে তেল কম পেয়েছেন। প্রথমে ব্যবসায়ীরা তেল কম পাওয়ার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে ধরতে পারেন। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা ডিপো ইনচার্জকে বিষয়টি অবহিত করলেও তিনি নানা অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিদিন এ ডিপো থেকে ৬ লাখ লিটার তেল বিক্রি হয়।

অপরদিকে, ডিপো ইনচার্জ মো. শওকত আলী নিয়মের বাইরে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমেও কালোবাজারে তেল বিক্রি করে থাকেন। একদিকে ব্যবসায়ীদের ওজনে কম দেয়া, অন্যদিকে তাপমাত্রার হেরফের দেখিয়ে জাহাজ থেকেও বেশি নেয়া তেল এ প্রক্রিয়ায় বিক্রি করেন বলে অভিযোগে জানা গেছে।

বাগেরহাটের চিতলমারির ডিলার মেসার্স শরীফ ব্রাদার্সের মালিক মো. জাকির শরীফ অভিযোগ করেন, তিনি গত ১৫ অক্টোবর পদ্মা ডিপো থেকে ১৭ ব্যারেল (প্রতি ব্যারেলে ২শ’ লিটার) পেট্রোল ও ডিজেল উত্তোলন করেন। কিন্তু প্রতি ব্যারেলে ৪ লিটার করে ৪৪ লিটার তেল কম পান। এ বিষয়ে তিনি ডিপো ইনচার্জের কাছে অভিযোগ করলে ৩২ লিটার ফেরত দেয়া হয়। এছাড়া পরবর্তীতে গত ২৩ অক্টোবরও তিনি ১১ ব্যারেল পেট্রোল উত্তোলন করলে তাতেও দু’লিটার করে ২২ লিটার তেল কম পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর উত্তোলনকৃত ১৬ ব্যারেল তেলেও কম পেয়েছেন।

রূপসা উপজেলার সেনেরবাজারের রফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. রফিক অভিযোগ করেন, তিনি গত ১৩ অক্টোবর ডিলারের মাধ্যমে পদ্মা ডিপো থেকে ৬ ব্যারেল পেট্রোল উত্তোলন করেন। পরে ওজন করে ১৮ লিটার তেল কম পান। এ বিষয়ে তিনি অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয়নি। একইভাবে মাগুরার ব্যবসায়ী জামির হোসেনও প্রতি ব্যারেলে ৪ লিটার করে তেল কম পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তেল কম দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পদ্মা ডিপো খুলনার ইনচার্জ মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, ওজন পরিমাপক মিটারে ত্রুটিজণিত কারণে তেল পরিমাণে কম হতে পারে। মিটার ত্রুটিমুক্ত করতে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে কালবাজারে তেল বিক্রিসহ অন্যান্য অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ