ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুই কর্মকর্তাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে দু’টি মামলা ॥ সমন জারি

খুলনা অফিস : খুলনায় ‘এহসান সোসাইটি’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনজন গ্রাহকের পক্ষে মাঠকর্মী মো. আবু জর বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আমলী আদালত ‘ঙ’ অঞ্চলে এ মামলা দু’টি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আয়শা আক্তার মৌসুমী মামলাটি বিচারের জন্য আমলে নেন। একই সাথে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। মামলার আসামীরা হলো-এহসান সোসাইটির আওতাধীন প্রতিষ্ঠান এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড-এর পরিচালক মুফতী গোলাম রহমান, এহসান সোসাইটি খুলনার এরিয়া সমন্বয়কারী মুফতী রশীদ আহমাদ এবং এহসান সোসাইটি খুলনার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) মো. রবিউল ইসলাম।

এজাহারে বাদি উল্লেখ করেছেন, মুফতী গোলাম রহমান ও মুফতী রশীদ আহমাদ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হওয়ায় তাদের প্রতি আশ্বস্ত হয়ে খুলনা মহানগরীর মুসলমানপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিন এবং তার স্ত্রী ফিরোজা বেগম এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড-এ বিভিন্ন সময় মোট ১৪ লাখ ৪৩৫ টাকা বিনিয়োগ করেন। এ অর্থ বিনিয়োগের শর্ত হিসেবে আসামীরা কয়েক কিস্তিতে তাদের সামান্য পরিমাণ লভ্যাংশ প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাইয়্যে মুদারাবা হিসেবের শর্ত মোতাবেক মেয়াদ শেষ হলেও তাদের লভ্যাংশসহ মূল টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরাতে থাকেন। আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে এ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ কারণেই তারা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে, একইভাবে বাগমারা মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা মো. নূরুল আমিন চৌধুরীর স্ত্রী সাহিদা আক্তারও মুফতী গোলাম রহমান ও মুফতী রশীদ আহমাদ’র কথায় বিশ্বাস করে এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভলপমেন্ট লিমিটেড-এ এক লাখ ১৪৫ টাকা বিনিয়োগ করেন। পরিচালক ও সমন্বয়কারীর উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম এ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু তিন বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও তারা নানা টালবাহানা করে টাকা আত্মসাৎ করেন।

এদিকে, এহসান সোসাইটিতে জমানো অর্থ ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে গঠিত সংগ্রাম কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা ১০ সহস্রাধিক গ্রাহকের জমানো অর্থ ফেরত পেতে তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্তদের কথা শুনে মিজানুর রহমান মিজান এ বিষয়ে সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বলে কমিটির আহ্বায়ক মুফতী আবুজর জানিয়েছেন।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী এডভোকেট রজব আলী জানান, দু’টি মামলায় মোট ১৫ লাখ ৫৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আসামীদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন। মামলার পরবর্তী ধার্য দিনে আসামীদের আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এহসান সোসাইটি খুলনা মহানগরী ও দিঘলিয়া উপজেলা থেকে ১০ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছে বলে মাঠ-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা এলাকা থেকে এহসান সোসাইটিতে মাসিক সঞ্চয় বাবদ তিন কোটি টাকা, খালিশপুর এলাকা থেকে দেড় কোটি টাকা এবং দিঘলিয়া উপজেলা থেকে ৪০ লাখসহ মোট চার কোটি ৯০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া রিয়েল এস্টেটের (জমির ব্যবসা) নামে মাসিক মুনাফার নামে আরও সংগ্রহ করা হয় ছয় কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মুফতী গোলাম রহমান এহসান সোসাইটির কেন্দ্রীয় শরীয়াহ কাউন্সিলের সহ- সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি নগরীর বাগমারাস্থ মারকাযুল ফিকহিল ইসলামী মাদরাসার পরিচালক। জেলা সমন্বয়কারী মুফতী রশিদ আহমাদ নগরীর ডালমিল মোড়স্থ মক্কি মসজিদের ইমাম। তিনি এহসান সোসাইটির খুলনা জেলার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ