ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কায়েমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে -মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আহ্বায়ক মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুর রহ. বলেছেন, ইসলাম আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক মনোনীত একমাত্র ধর্ম। এর মাঝেই মানবজাতির মুক্তি ও শান্তি নিহিত। অতএব ইসলাম কায়েমে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আল্লাহ তা’আলার রজ্জু তথা কুরআনকে ঐক্যবদ্ধতা ও দৃঢ়তার সাথে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং কুরআনী সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় লেগে থাকতে হবে। কুরআনী সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে সমাজে শান্তি আসবে। সকল প্রকার অশান্তি, হানাহানি, জুলুম ও বিচারহীনতা দূর হবে।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর লালবাগ কেল্লার মোড়স্থ খিলাফত মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক থানা প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন খেলাফত আন্দোলনের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, আহবায়ক কমিটির সদস্য মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি এবং মুফতী ফখরুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর প্রচার সম্পাদক মো: মোফাচ্ছির হোসেনের সঞ্চালনায় পরিচালিত প্রতিনিধি সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মাহবুবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন খেলাফত আন্দোলন ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক মুফতী আব্দুর রহিম কাসেমী, ঢাকা মহানগর সহকারি প্রচার সম্পাদক মুফতী মামুনুর রশিদ, মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন,মো: গোলাম সারওয়ার, আলী মাকসোদ খান মামুন, যাত্রাবাড়ি থানা আমীর হাফেজ মাওলানা মাহফুজুর রহমান, লালবাগ থানা প্রতিনিধি হাফেজ মাওলানা আবু বকর, মতিঝিল থানা সাধারণ সম্পাদক মো: জাকির হোসাইন, উত্তরা-পূর্ব থানা প্রতিনিধি মো: জহিরুল ইসলামসহ মহানগর ও থানা নেতৃবৃন্দ।

মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেন, আজ দেশে-বিদেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নির্যাতন চলছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের দ্বীনি চেতনা অনুযায়ী আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি এবং যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি তাহলে কাশ্মীর, চেচনিয়া, আমাদের নিকটস্থ আরাকানসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যড়যন্ত্র, নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে আমাদের অন্তরের যথাযথ পরিশুদ্ধি অর্জন করতে হবে। তাহলে বদরি সাহাবীদের ন্যায় অল্পসংখ্যক কর্মীর মাধ্যমেই আল্লাহ তা’আলা আমাদের সাহায্য ও বিজয় দান করবেন ইনশাআল্লাহ।

মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজি বলেন, হাফেজ্জী হুজুর রহ. বৃদ্ধ বয়সে খেলাফত প্রতিষ্ঠার জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছেন। তিনি মানুষের মুখাপেক্ষী না হয়ে আল্লাহর মুখাপেক্ষী হয়ে খেলাফত আন্দোলনের সমস্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। দিনভর দেশব্যাপী সাংগঠনিক প্রোগ্রাম করেছেন আর রাতের বেলায় তাহাজ্জুদে মগ্ন হয়ে আল্লাহর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে চেয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছেন এবং এদেশে ইসলামী রাষ্ট্র তথা খেলাফত প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের মজবুত বুনিয়াদ স্থাপন করে গেছেন। খেলাফত আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে হাফেজ্জী হুজুরের এই আদর্শকে সামনে নিয়ে পথ চলতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, আল্লাহর জমীনে আল্লাহর আইন ও রাসূলের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। এই কর্তব্য আদায়ের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রত্যেক কর্মী কাজ করে যাচ্ছে। এই কর্তব্যে অবহেলা করলে প্রত্যেককেই আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। হাফেজ্জী হুজুর রহ. যেমন বৃদ্ধ বয়সে এই কাজকে সামনে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ঠিক তেমনিভাবে খেলাফত আন্দোলনের প্রতিটি কর্মীকে নিজ নিজ এলাকার জনগণকে সুসংগঠিত করে ঈমানী বলে বলীয়ান ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাগুতি শক্তিকে উৎখাত করত আল্লাহর জমীনে আল্লাহর আইন ও রাসূলের সুন্নাহ তথা খেলাফত প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ