ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনেই ১৩ উইকেটের পতন

  • বাংলাদেশ - ২২০/১০ (৬৩.৫ ওভার)
  • ইংল্যান্ড - ৫০/৩ (১২.৩ ওভার)

রফিকুল ইসলাম মিঞা : ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনেই পতন হয়েছে ১৩ উইকেট। আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২২০ রানে। বাংলাদেশের দলীয় ২২০ রানের মধ্যে তামিম একাই করেছেন ১০৪ রান। শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে ইংল্যান্ডও হারিয়েছে ৩ উইকেট। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ইংল্যান্ড ১২.৩ ওভার ব্যাট করে তিন উইকেট হারিয়ে করে ৫০ রান। এখনও দলটি বাংলাদেশ থেকে ১৭০ রানে পিছিয়ে আছে। গতকাল মোট খেলা হয়েছে ৭৬.২ ওভার। খেলা বাকি ছিল ১৩.৪ ওভার। আর ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনটা নিয়ন্ত্রণ করেছে স্পিনাররাই। 

ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের শুরুটার মতো ইনিংসের শেষটা হয়নি বাংলাদেশের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের দিনের শুরুটা হয়েছিল চমক দিয়েই। তামিমের সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-মুমিনুলের ১৭০ রানের পার্টনাশীপ। আর দ্বিতীয় উইকেট হারানোর আগেই দলীয় সংগ্রহ ১৭১ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়ার কথা ছিল টাইগারদের। কিন্তু শুরুর মতো ইনিংসের শেষটা হয়নি। ইংল্যান্ডের বোলারদের সামনে বাংলাদেশের স্কোরটা থেমে যায় মাত্র ২২০ রানেই। ইংল্যান্ডের পক্ষে মঈন আলী ৫টি, ক্রিস ওকস ৩টি আর বেন স্টোকস ২টি করে উইকেট নিয়েই বাংলাদেশকে আটকে ফেলে ৬৩.৫ ওভারে ২২০ রানে। তবে সেঞ্চুরি করেই তামিম দলকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচান। গতকাল তামিমের বিদায়ের পরই ভেঙ্গে পড়ে দলের ব্যাটিং অর্ডার। একে একে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে বিদায় নেন দলের বাকি ব্যাটসম্যানরা। আসা যাওয়ার মিছিলেই যেন যোগ দিচ্ছেন সবাই। ফলে প্রথম দিনটাই পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড প্রথম দিনেই বাংলাদেশকে ২২০ রানে অলআউট করে শেষ বিকেটে ব্যাট করার সুযোগ নিয়ে শুরুটা ভালো করতে পারেনি। তিন উইকেটে করেছে ৫০ রান। ফলে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং দেখে বাংলাদেশের ব্যর্থ ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সান্ত¡না খোঁজার চেষ্টা করেছে। 

গতকাল মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়ে বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন ছিল মুশফিকদের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার কারনে। গতকাল তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে নেমে মোটেই ভালো করতে পারেননি ওপেনার ইমরুল কায়েস। দলীয় ১ রানে ইমরুর বিদায় নিয়ে দিনের ভালো শুরুর চেষ্টায় প্রশ্নবোধক চিহ্ন একে দেন ইমরুল। ক্রিস ওকসের বলে পয়েন্টে ডকেট এর হাতে ক্যাচ তুলে বিদায়ের আগে ইমরুল করেন এক রান। ব্যাটিংয়ের শুরুতে ইমরুলের উইকেট হারালেও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তামিম-মুমিনুল চমতকার জুটি করে দলকে এগিয়ে নেন। এই জুটি ভাংগার আগেই বাংলাদেশ পৌঁছে যায় ১৭১ রানে। ১৭০ রানের পার্টনাশীপ করে এই জুটি। ফলে ঢাকা টেস্টে বড় স্কোর করার টার্গেট ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু কে জানত ইনিংসের সকালের মতো বিকালটা টাইগারদের পক্ষে থাকবে না। না হলে দুই উইকেটে ১৭১ রান করা দলটির স্কোর থেমে যায় ২২০ রানেই। দলীয় ১৭১ রানে তামিমের বিদায়ের পরই দলের ব্যাটিং চেহারাটা পাল্টে যায়। তামিমের বিদায়ে দলীয় ১৯০ রানে আউট হন মুমিনুল। মুমিনুল ৬৬ রান করে আউট হলেও তামিম ১০৪ রান করে মাঠ ছাড়েন। এর পর আর কোন ব্যাটসম্যানই উল্লেখ করার মতো রান করতে পারেনি। সবাই ছিল আসা-যাওয়ার মধ্যে ব্যস্ত। ফলে তামিমের ১০৪ রান আর মুিমনুলের ৬৬ রান বাদ দিলে বাকি ৮ ব্যাটসম্যান মিলে করেছেন ৫০ রান। এর মধ্যে রিয়াদ ১৩ আর সাকিব ১০ রান করলেও বাকি সবার স্কোর ছিল একক ফিগারেই। চট্টগ্রাম টেস্টে ফিফটি করা সাব্বির গতকাল ফিরেছেন শূন্য রানেই। আর নিজের ফিফটি টেস্টের দিনেও ভালো করতে পারেননি অধিনায়ক মুশফিক। আউট হয়েছেন মাত্র ৪ রানে। ফলে প্রথম ইনিংসে মাত্র ২২০ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের স্কোর। তামিমের সেঞ্চুরিসহ ১০৪ রান আর মুমিনুলের হাফ সেঞ্চুরিসহ ৬৬ রানের স্কোর বাদ দিলে উল্লেখ করার মতো কিছুই নেই। 

বাংলাদেশকে ২২০ রানে অলআউট হরে গতকাল শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমেছিল ইংল্যান্ড দল। কিন্তু দলটি বোলিংয়ের মতো ব্যাটিংয়ে ভালো করতে পারেনি। কারণ দলটি ৫০ রানেই হারিয়েছে তিন উইকেট। দলীয় ১০ রানে ওপেনার ডকেট আউট হওয়ার পর দলীয় ২৪ রানে দলের সেরা ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুকও বিদায় নেন। সাকিবের বলে ডয়েট ৭ রানে আউট হওয়ার পর ১৪ রান করে কুক মেহেদি হাসান মিরাজের বলে এলবির শিকার হন। ফলে ২৪ রানে দু-ওপেনারকে ফিরিয়ে দিলে ব্যাংলাদেশ বোলিংয়ের শুরুটা করে ভালো ভাবেই। এখানেই শেষ নয়। দলীয় ৪২ রানে মিরাজের বলেই উইকেট হারান গ্যারি ব্যালেন্স। বিদায়ের আগে তিনি করেন ৯ রান। দলের পক্ষে জো রুট ১৫ রানে আর মঈন আলী ২ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদি হাসান মিরাজ ২টি আর সাকিব একটি উইকেট নেন। ফলে ৭ উইকেট হাতে নিয়ে আজ ব্যাট করতে নামবে ইংল্যান্ড।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ