ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্ষমতা দিয়েই আমাদের দেশের বেশির ভাগ বিচার করা হয় -এডভোকেট এলিনা খান

স্টাফ রিপোর্টার : ক্ষমতা দিয়েই আমাদের দেশের বেশির ভাগ বিচার করা হয় বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধীকার কর্মী এডভোকেট এলিনা খান। তিনি বলেন, প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে ক্ষমতার ওপরে ক্ষমতার প্রভাব দেখানো হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একথা বলেন। 

এলিনা খান বলেন, ১৯৯৮ সালের তানিয়া নামে একটি শিশু ৬ বছর বয়সে ধর্ষণের স্বীকার হয়েছিল ঢাকা সিএমএম কোর্টের পুলিশ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। তানিয়ার সেই ঘটনার ২০ বছর পার হওয়া সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত বিচার পায়নি। সেখানে অতি সম্প্রতি শিশু পূজাকে ধর্ষণের বিচার আশা করি কিভাবে? তিনি আরও বলেন, তানিয়ার বয়স হয়তো এখন ২৫ থেকে ২৬। তখন ওই ঘটনার বিচারের জন্য আমরা সবে মিলে আন্দোলনও করেছিলাম কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ওই অপরাধী আজও মুক্ত। এখন পর্যন্ত তার কোন বিচার হয়নি। সেখানে বর্তমান এমন পরিস্থিতির নিষ্পত্তির আশা করি কিভাবে?

এলিনা খান বলেন, তানিয়া তখন পুলিশকে অপরাধীর মাথায় লম্বাচুলসহ বিভিন্ন উপসর্গ বর্ণনা দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ তার কোন কথাই পাত্তা দেয়নি। বরং অপরাধীকে সাহায্য করেছে। কারণ, পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই হয়তো তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেটি আমি বলবো সৎ ইচ্ছার অভাব ছিল আমাদের পুলিশ প্রশাসনের। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন একটা বড় ব্যাপার। ব্যক্তি অন্যায় করতে পারে, সেই অন্যায়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য যদি পুলিশই সাহায্য করে তখন কিন্তু তা অবিরত বেড়েই চলবে।

এলিনা খান বলেন, আজকের ১৯৯৮-এর ৬ বছরের তানিয়া যদি বিচার পেত তাহলে বর্তমানের এমন এই ৫ বছরের শিশুটি আর ধর্ষণের স্বীকার হতো না। ও আজকের ঢাকা মেডিকেলে যেভাবে চিৎকার করছে ঠিক একইভাবে তানিয়াও সেই সময়ে ঢাকা মেডিকেলে চিৎকার করছিল। এলিনা খান বলেন, আমরা তখন তানিয়ার বিচারের জন্য আন্দোলন করেছিলাম কিন্তু বিচার পাইনি। এই যে বিচারহীনতা প্রভাব, এটা কিন্তু সমাজে আস্তে আস্তে আরও বৃহৎ আকারে হবে বলে ধারণা করছি। তাই অবিলম্বে এটা বন্ধ করা দরকার।

অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, আমরা বিচার মানে মনে করি যে আদালতে বিচার। কিন্তু তা নয়। কারণ, বিচার শুরু হয় থানা থেকে। কোর্টে যাওয়ার আগে যে কাজগুলো হয় এফআইয়ার, চার্জশিট, আলামাতসহ বিভিন্ন অনুসন্ধানগুলো যদি সঠিকভাবে না দেওয়া হয় তাহলে কোর্টের কাছে গিয়ে কিন্তু সঠিক বিচার আশা করা যায় না। কারণ, কোর্টে যা দেওয়া হয়েছে সেই অনুযায়ীই কোর্ট বিচার করেন। যেটা আমি মনে করি বিচারহীনতার আরও একটি অন্যতম দিক। তাই পুলিশের এই সকল বন্ধে দায়িত্ব অনেক। সুতরাং ওই সকল কর্মকাণ্ডে যখন বাধা সৃষ্টি হয় তখন কিন্তু সুষ্ঠু বিচার আশা করা যায় না। আর এইগুলো হয় ক্ষমতার কারণে। ক্ষমতা দিয়েই আমাদের দেশের বেশির ভাগ বিচার করা হয়। তাই আমি একজন আইনজীবী হিসেবে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এটা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটবে। তবে আমাদের দেশে ক্ষমতাসীন ঘরেও এমন ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাদের এত ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তারা কিন্তু বিচার পায়নি। এর কারণ কি? জাবাবে তিনি বলেন, এটা ক্ষমতার ওপরে ক্ষমতার প্রভাব দেখানো হয়েছে। মোট কথা ক্ষমতা প্রভাব থেকেই যাচ্ছে। তাই ক্ষমতা ক্ষমতার লড়াইয়ে আমরা না যাই। এখানে আমার মতে বিচারহীনতার প্রভাব বেড়েই চলছে। অতএব আমরা যদি প্রথম থেকেই এই সকল ঘটনার বিচার পেতাম তাহলে আজকের আবার এমন ঘটার সম্মুখিন হতে হতো না। তাই আমার একটা চাওয়া এই ধরনের ঘটার বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে করলে হয়তো বা এই সকল সমস্যার সমাধান হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ