ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫০তম টেস্ট খেলছেন মুশফিক

স্পোর্টস রিপোর্টার : গতকাল শুক্রবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডে খেলতে মাঠে নামে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের যেটি ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট ম্যাচ। বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এ মাইফলক স্পর্শ করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশের দুজন ব্যাটসম্যানের এ কৃতিত্ব আছে। এরা হলেন মোহাম্মদ আশরাফুল এবং হাবিবুল বাশার। আশরাফুল ৬১টি এবং হাবিবুল ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। এবার এ মাইলফলকে পা রাখলেন মুশফিকও। মুশফিক নিজেও বেশ রোমাঞ্চিত ৫০তম টেস্ট নিয়ে। তবে নিজের অর্জনের চেয়ে তিনি দলের প্রয়োজনটাই বেশি বড় করে দেখছেন। দলে অবদান রাখতে পারাটাই তার মূল লক্ষ্য। তবে বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫০ টেস্টে খেলার অর্জনটাকেও মোটেও ছোট করে দেখছেন না তিনি।
এ মাইলফলককে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তাই সাংবাদিকদের কাছে মুশফিক অনুভূতি ব্যক্ত করেছিলেন এভাবে, ‘আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো লাগছে। বাংলাদেশে ৫০টি টেস্ট খেলা খুব সহজ নয়। আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া। চেষ্টা করব ব্যক্তিগত ভালো খেলতে এবং দল যেন ভালো করে এবং দলের ভালোর জন্য আমার যা যা অবদান দেওয়ার, আমি চেষ্টা করব। ৫০তম টেস্টটি তিনি খেলছেন নিজ দেশের মাটিতে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশের ইংল্যান্ড সফরে জায়গা হয়েছিল তরুণ এক ক্রিকেটারের। ক্রিকেটের তীর্থ লর্ডসে টেস্ট ক্যাপ পান মুশফিক। তখন তার বয়স মাত্র ১৭ বছর ৩৫১ দিন। যা লর্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট অভিষেক ছিল। আর সেই রেকর্ডটি এখনো অক্ষুন্নই আছে। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে তার দায়িত্ব। হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ দলের এক নির্ভরতার প্রতীক। অভিষেক ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ ও ৩ রান করে হারিয়েছিলেন দলের জায়গা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজ শহর বগুড়ায় মাত্র ২০ ও ০ রানে বাদ পড়েন দল থেকে। ১৬ মাস পর মুশফিক আবার সুযোগ পান । শ্রীলঙ্কার ওই সফরে প্রথম টেস্টে দলের একাদশের বাইরেই ছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টে দলে জায়গা মিলল উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে। খালেদ মাসুদের ফর্মহীনতায় সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সেবারই প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নামা তার। তবে ওই ম্যাচে ৮০ রানের দুরন্ত এক ইনিংস খেলে নিজের প্রতিভার জানান দেন। এরপর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ২০০৭ সালের জুলাই থেকে বাংলাদেশের হয়ে টানা ৪৭টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন মুশফিক। চলতি বছর দুটি টেস্ট খেলেই বাংলাদেশের সামনে আর কোনো টেস্ট ম্যাচ নেই। তবে সামনের বছরের টেস্টগুলোও নিশ্চয়ই এমন ধারাবাহিকভাবেই খেলে যেতে পারবেন মুশফিক। তাহলে হয়তো ছাড়িয়ে যেতে পারবেন আশরাফুলকেও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ