ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চাল নিয়ে চালবাজি

হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি উদ্যোগে দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচি চলছে সারাদেশে। ডিলারের দোকানে এ চাল বিক্রি হচ্ছে কার্ডের মাধ্যমে। কিন্তু কার্ড যাদের পাওয়ার কথা তারা পাচ্ছে না বলে সারাদেশ থেকে অভিযোগ আসছে। ক্ষমতাসীনদের সমর্থক পত্রিকাগুলোতে প্রায় প্রতিদিনই দশ টাকার চাল বিক্রি নিয়ে দুর্নীতির খবর প্রকাশ পাচ্ছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ আরও কয়েকমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও অনিয়ম কমছে না। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ দলীয় নেতাকর্মীর নিজস্ব গোডাউনে দশ টাকার চাল মজুতের খবরও ছাপা হয়েছে। বেশ কয়েক স্থান থেকে এ চাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারও করেছেন। খোদ প্রধানমন্ত্রীর জেলা থেকেও দশ টাকার চাল বিক্রি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। দশ টাকায় চাল প্রাপ্তির কার্ড হতদরিদ্রদের না দিয়ে বড়লোকদের দেবার অভিযোগ উঠেছে। টাকার বিনিময়ে বড়লোকদের দেয়া হয়েছে এ কার্ড। ফলে দশ টাকার চাল বিক্রির কর্মসূচির মাধ্যমে যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা তারা না পেয়ে মজা লুটছে এক শ্রেণির সামর্থ্যবান। তাই এ কর্মসূচিকে আসলে ‘তেলা মাথায় তেল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইতোমধ্যে।
দশ টাকার চাল বিক্রির কর্মসূচির মাধ্যমে গরিব মানুষের উপকারের পরিবর্তে একশ্রেণির প্রভাবশালী হরিলুট চালাচ্ছে বলেই মনে হয়। কারণ এ কর্মসূচির কার্ড গরিবের হাতে দেয়া হয়নি বেশির ভাগ এলাকায়। কার্ড পেয়েছে যাদের বাড়ি আছে, গাড়ি আছে। গরিব মানুষ তেমন সুবিধা পাচ্ছে না দশ টাকার চাল বিক্রি কর্মসূচির মাধ্যমে। উল্টো তারা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ সাধারণ মানুষের মোটা চাল এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে যে মোটা চাল বাজারে পাওয়া যেতো ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ টাকা দরে, সে চাল এখন কেজিতে দশ থেকে পনের টাকা বেড়ে হয়েছে পঁয়তাল্লিশ থেকে প্রায় পঞ্চাশ টাকার কাছাকাছি। অর্থাৎ তারা দশ টাকার চালের ধারে কাছে যেমন ভিড়তে পারছে না, তেমনই বাজার থেকেও মোটা চাল দশ-পনেরো টাকা বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছে। তাহলে দশ টাকার চাল বিক্রির কর্মসূচি কাদের জন্য? এমন প্রশ্ন উঠছে হতদরিদ্র মানুষের পক্ষ থেকে। অর্থাৎ মাঠপর্যায়ে প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্যে দরিদ্র মানুষের জন্য একটি মহৎ কর্মসূচি প্রায় ব্যর্থ হতে চলেছে।
বলতে দ্বিধা নেই, অনিয়ম আর দুর্নীতির দরুন সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ মাঠে মারা যায়। দশ টাকা কেজি দর চাল বিক্রির কর্মসূচি ইতোমধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। গরিবের চাল যাচ্ছে বড়লোকের ঘরে। কোথাও কোথাও তা বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে চল্লিশ-পঁয়তাল্লিশ টাকা কেজি দরে। কারা এ কারসাজি করে মেরে দিচ্ছে গরিবের চাল? এটা বের করা কঠিন নয় মোটেও। সুতোয় টান মারলেই অপরাধীদের ধরা যেতে পারে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের সে সদিচ্ছা থাকলে তো? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে চালবাজরা ধরা পড়লেও রহস্যজনকভাবে মামলা হচ্ছে না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে অনেক জায়গা থেকে। এই যদি হয় এমন একটি গরিববান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে, তাহলে আরও বড় বড় কর্মসূচিতে কী ঘটছে বা ঘটতে পারে- তা সহজেই অনুমেয়। যাহোক, হতদরিদ্র মানুষের জন্য গৃহীত দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন করতে হলে চালবাজি বন্ধ করে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ