ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চৌগাছায় কৃষকরা শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) থেকে : যশোরের চৌগাছায় কৃষকরা শীতের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ মৌসুমে এলাকার কৃষকরা ১০ কোটি  টাকার সবজি  উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে  ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায় চলতি মৌসুমে শীতকালিন  আগাম সবজি উপসা-৩, রহিম ও রূপভান জাতের সিম চাষ হয়েছে ৪শ ৫০ হেক্টর, কেকে কুরাচ,  ট্রাপিক মানপ্লাস ও ৭১২ জাতের বাঁধাকপি চাষ ৩শ ৮০ হেক্টর, মারবেল ও আলয়াগান জাতের ফুলকপি চাষ হয়েছে ২শ ৪৫ হেক্টর, বারি-১, পুষা ও রবি জাতের টমেটা ১শ ৭৫ হেক্টর, বেগা, মনিরামপুরি, শিংনাথ ও স্থানীয় বেগুন ৪শ ৮০ হেক্টর, আরলি, জাপানি, ইন্ডিয়া ও স্থানীয় ৪০/৪৫ জাতের মুলা ২শ ৩০ হেক্টর, মারচিলা, হাজারি, লালতীর ও স্থানীয় জাতের লাউ ২শ ৫০ হেক্টর, সুইট, সুপ্রিমা, লালতীর ও স্থানীয় জাতের মিষ্টি কুমড়া ২শ ৭০ হেক্টর, মাগুরা, ইরি ও চরো ঝাল ২শ৭০ হেক্টর, বানী ও সাদা জাতের পোটল ৪শ ৭৭ হেক্টর সহ বিভিন্ন জাতের মোট ৩ হাজার ৭শ ৮০ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষ করা হয়েছে।
যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭০ হাজার ৩শ ১৭ মেঃ টন এবং মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। বুধবার উপজেলার হাজরাখানা, পেটভরা, চাঁদপাড়া. বুন্দেলীতলা, বাদেখানপুর, বড়খানপুর, হোগরডাঙ্গা, সিংহঝুলি, জগদীশপুর, মির্জাপুর, ইছাপুর, কান্দি, আড়কান্দি, আন্দারকোটা, পাতিবিলা, রোস্তমপুর, সাদিপুর, দেবীপুর, টেঙ্গুরপুর, বেলেমাঠ, পাঁচনামনা, ধুলিয়ানী, পাশাপোল, চারাবাড়ী, খড়িঞ্চা, পুড়াপাড়া, কদমতলা, সলুয়া, পলুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চাষিরা অন্যান্য আবাদ বাদ দিয়ে গুরুত্ব সহকারে শীতকালিন আগাম সবজি চাষে মনোনিবেশ করেছেন। চাষিরা জানায় এ সব সবজি শীতকালীন ফসল হলেও আর্থিক লাভবান হবার আশায় ঝুঁকি নিয়ে আগে-ভাগেই এসব সবজির চাষ শুরু করেছি। তবে এ বছর আবহাওয়ার বৈরি ভাবের ফলে সবজি চাষে দারুন ভাবে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জমিতে বীজ ও চারা রোপন করলেও অতিবৃষ্টির ফলে তা প্রথম বার সব ন্ষ্ট হয়ে গেছে। দ্বিতীয় বার জমিতে আবার বীজ ও চারা রোপণ করলেও খুব একটা  ভাল হচ্ছে না। অনেক জমিতে পানি জমে সবজির চারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে প্রতিনিয়ত জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে। তাই অনেক ক্ষেত্রে জমিতে সার ও আগাছা পরিষ্কার করতে অতিরিক্ত লেবার খরচ হচ্ছে।
সবজি চাষী ইছাপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ জানান নিজেদের অভিজ্ঞতায় সবজি চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে শতশত ট্রাক বোঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমান বাজারে এক কেজি সীম ৪০/৫০ টাকা, বেগুন এক কেজি ৫০/৫৫ টাকা, মুলা ২০/২৫ টাকা, ঝাল ১শ/১শ ৫০ টাকা  বিক্রী হচ্ছে। গরীবপুর গ্রামের সিম চাষি বদর আলী বলেন আগাম সবজি চাষ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়েছে। রোস্তমপুর গ্রামের সিম চাষী আবু সাঈদ জানান ১০ কাঠা জমিতে রহিম (সাদা রং) ও রূপভান (লাল রং) জাতের সিম চাষ করেছি ইতিমধ্যে সিম উঠা শুরু হয়েছে। বাজারে সিম ৫০/৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করতে ১০/১২ হাজার টাকা খরচ হয়। সেখানে মৌসুমে ১০ কাঠায় সিম উৎপাদন হয় ৩০/ ৪০ মণ। গড় ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রী করলে ১০ কাঠা জমিতে সিম চাষ করে ৭০/৮০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
 বিশেষ করে উপজেলার পাতিবিলা, মাঠচাকলা, পেটভরা, হাজরাখানা, আন্দারকোটা, বেলেমাঠ, আজমতপুর, শাহাজাদপুর, কাবিলপুর, মনমতপুর, খড়িঞ্চা, জামলতা, সিংহঝুলী, তেতুলবেড়ে, সৈয়দপুর, কান্দি, মাড়ুয়া জগদিশপুর, মির্জাপুর ও পৌর এলাকার ইছাপুর, বেলেমাঠ, পাচনামনা, বাকপাড়া, বিশ্বাসপাড়া  গ্রামের মাঠে মাঠে  ব্যাপক ভাবে শীতকালিন সবজি চাষ করছেন চাষিরা। পাতিবিলা গ্রামের বেগুন চাষি পান্নু মিয়া জানান ১ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি ইতিমধ্যে বেগুন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বাজারে ৪০/৪৫ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়মত কৃষি বিভাগের পরামর্শ পেলে শীতকালিন সবজি আগাম চাষে আরো উন্নতি করা সম্ভব হতো।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দীন জানান শীত মৌসুমের সবজি সাধারণত শীতের শুরুতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতি খরা ও অতিবৃষ্টি এ চাষে বড় অন্তরায় হলেও ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই আগাম শীতকালিন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া শীতের সবজি চাষ শেষ করে একই জমিতে আলু, ইরিঝাল, মিষ্টি কুমড়া ও তরমুজ চাষ করতে পারছে চাষিরা। এতে জমির ব্যবহার বাড়ছে এবং চাষিরা লাভবান হচ্ছে তাই এ এলাকার চাষিরা আগাম শীতকালিন সবজি চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ