ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মনিরামপুরে বায়ারের ধানী গোল্ড নামের হাইব্রিড ধান চাষ করে কৃষকদের ফলন বিপর্যয়

মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা: মনিরামপুরে বায়ার কোম্পানির এ্যারাইজ ধানী গোল্ড হাইব্রিড-৪ জাতের ধান চাষ করে কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই জাতের ধান চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষেতে এখন কোনো কোনো গোছায় ধানের শীষ বেরিয়ে পাক ধরেছে, কোনোটির কেবল শীষ বেরিয়েছে, থোড় এসেছে কোনোটির, আবার কোনোটির এখনো থোড়ই আসেনি। যে কারণে কৃষক তাদের চাষকৃত ফসলের কাঙ্খিত ফলন নিয়ে হতাশায় রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস বলছে ভেজাল বীজ অথবা বীজের কলি তাত্ত্বিক (জেনেটিক সেগ্রিগেশন) তারতম্যের কারণে এমনটি হতে পারে। সরেজমিন উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের একটি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি ক্ষেতে ধান গাছের কোনোটির শীষ বেরিয়ে তাতে পাক ধরেছে, কোনোটির শীষ বেরিয়েছে, কোনো কোনো গাছে কেবল থোড় এসছে আবার কোনোটিতে এখনো থোড়ই আসেনি। এ নিয়ে কথা হয় ওই গ্রামের কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকের সাথে। এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক কামাল খান বলেন, বায়ার কোম্পানি তাদের এলাকায় কৃষকদের ওই জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করতে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তাদের কথায় বিশ্বাস করে অধিক ফলনের আশায় চলতি আমন মওসুমে আষাঢ় মাসে উপজেলার রাজগঞ্জ বাজারের ধানী গোল্ডের ডিলার জনৈক তরিকুল ইসলামের কাছ থেকে প্রতি কেজি ধান বীজ ৩৫০ টাকা দরে কিনে বীজতলায় বীজ বপন  করি। এরপর ২৩ দিনের মধ্যে সেই ধানের চারা (পাতা) এক একর জমিতে রোপন করি। নিয়মিত সেচ-সার ও পরিচর্যা করার পর এখন ক্ষেতে ধানের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা করছি। একই গ্রামের আরেক কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রায় সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে ধানী গোল্ড জাতের ধান চাষ করেছি। কিন্তু এখন ক্ষেতের ধানগাছের শীষ বেরিয়ে কোনোটিতে পাক ধরেছে, কোনোটির কেবল থোড় আসছে আবার কোনোটির এখনো থোড়ই আসেনি-ধান বীজের ভেজালের কারণে এমনটি হয়েছে বলে তার অভিযোগ। ধার দেনা করে ধান চাষ করে কাঙ্খিত ফলন না পেলে তাকে পথে বসতে হবে। শুধু ওই দু’জন নয়, ওই এলাকার আব্দুল মালেক, আব্দুর রহমানসহ অনেকেই এই জাতের ধান চাষ করে ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে বায়ার কোম্পানির স্থানীয় পরিবেশক তরিকুল ইসলাম বলেন, ধানের বীজে ভেজাল কিনা কোম্পানির লোকজনই ভালো বলতে পারেন। মুঠো ফোনে বায়ার কোম্পানির যশোর এলাকার বিডিএম (বিজনেস ডেভোলপমেন্ট ম্যানেজার) মফিজুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বীজ নির্ভেজাল দাবি করে বলেন, বীজের টেকনিক্যাল বিষয়ে বোঝার জন্য কৃষি অফিসের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার তরফদার বলেন, ভেজাল অথবা বীজের কলি তাত্ত্বিক (জেনেটিক সেগ্রিগেশন) তারতম্যের কারণে এরকম হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ