ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবপুরে তিন খুনের ঘটনায় পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করছে না

মোঃ আব্দুস শহীদ, হবিগঞ্জ: জেলার মাধবপুরে আলোচিত তিন খুনের ঘটনায় পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করছে না বলে অভযোগ নিহতদের পরিবারের। পাশাপাশি হত্যার সাথে জড়িতদেরকে বাচাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রহম আলীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ তাদের। মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা।
নিহত জাহানার খাতুনের স্বামী, শারমীন আক্তারের বাবা ও শিমুল মিয়ার চাচা সৌদি আরব প্রবাসী গিয়াস উদ্দিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি ’৯১ সাল থেকে সৌদি আরবে থাকেন। তার ছেলেও প্রবাসে থাকেন। পারিবারিকভাবে তারা সকলেই পৃথক। তার পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ও উন্নতি দেখে হিংসা থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ৭/৮ জনের বেশী লোক জড়িত থাকলেও পুলিশ মাত্র ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একজন লোক কিভাবে ঘর ভেঙ্গে প্রবেশ করে ৩ জন লোককে মারে এবং ১ জনকে আহত করে। আর যারা আশে পাশে থেকে ঘটনা দেখেছেন পুলিশ তাদের কোন সাক্ষ্য নেয়নি। সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে ১০ কিলোমিটার দূরের লোকজনের।
তিনি আরও অভিযোগ করেন দেশে আসার পূর্বেই তার আত্মীয় মোহন মিয়াকে দিয়ে শুধুমাত্র আবু তাহের উরফে তাহির উদ্দিনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রহম আলী তাকে ভয় দেখিয়েছেন যদি বেশী আসামী দেয়া হয় তাহলে তার ১২টা বাজিয়ে দিবেন। তিনি বলেন, তার কথায় থানা চলে, তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। বাদী মোহন মিয়া অভিযোগ করেন, তাকে লাশের সনাক্তকারী হিসাবে সাদাকাগজে দস্তখত নিয় মামলার বাদী করা হয়েছে। ঘটনার পর কোন পুলিশ বা তদন্তকারী কর্মকর্তা তার কাছে একবারও যাননি। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, আবু শ্যামা ও আব্দুল আলম।
এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রহম আলী বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছুই জানি না। ঘটনার সময় আমি চৌমুহনী বাজারে ছিলাম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সবাইকে সান্ত্বনা দিয়েছি। আমি আসামীর বিষয়ে কিছুই বলিনি। আর যদি আমি যদি এমনটি বলে থাকি তাহলে তারা এটি প্রমাণ করুক।
মাধবপুর থানার ওসি মোক্তাদির হোসেন জানান, এই মামলাটির তদন্ত করছে ডিবি পুলিশ। তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবেন না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবির ওসি আজমিরুজ্জামান বলেন, আসামী নিজেই আদালতে স্বীকার করেছে সে তিনজনকে হত্যা করেছে। সেখানে অন্য লোকজনকে হয়রানীর জন্য নিহতের পরিবার চেষ্টা করছে। ঘটনার সময় যদি সাক্ষী থেকেই থাকত তাহলে তারা কেন একের পর এক মার্ডার হল কিন্তু বাধা দিল না। মূলত বাদী পক্ষ পুলিশকে দিয়ে অন্য মানুষকে হয়রানী করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এ ধরনের অভিযোগ করছে।
বরং বাদীর লোকজনের অত্যাচারে আশপাশের মানুষ অতিষ্ট হয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট রাতে মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের বীরসিংহপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে আবু তাহের নামে এক ব্যক্তি তার আপন ভাবী জাহানারা খাতুন, ও অন্তঃস্বত্ত্বা ভাতিজি শারমীন আক্তার এবং  প্রতিবেশী শিমুল মিয়াকে ছোড়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ঘাতক আবু তাহের উরফে তাহির উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আবু তাহের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ