ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শিক্ষক সাংবাদিকের নামে ১০ টাকার চালের কার্ড

সংগ্রাম রিপোর্ট : শিক্ষক-সাংবাদিক, আইনজীবী, প্রবাসীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নামেও দেওয়া হয়েছে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ১০ টাকার চালের কার্ড। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর দীননাথ উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। ১০ টাকার চালের কার্ডে দুই মাসে ৬০ কেজি চাল তুলেছেন। রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ডিলার ভূপতি বণিক বলেন, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের কার্ড নম্বর ১৫৫। তিনি ওই কার্ডে সেপ্টেম্বরে ৩০ কেজি ও অক্টোবরে ৩০ কেজি করে মোট ৬০ কেজি চাল তুলেছেন।
এ বিষয়ে দুলাল চন্দ্র বলছেন, “আমি কার্ড চাইনি। কে বা কারা আমার নামে কার্ড ইস্যু করেছে তা আমি জানি না। আমার নামে কার্ড ইস্যু হওয়ায় আমি অবাক হয়েছি। দুই মাসে ৬০ কেজি চাল নিয়ে তিনি দুঃস্থদের দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি করেন। দুলালের নাম ২০১৫ সালের শেষ দিকে তালিকাভুক্ত করেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য শ্যামল বিশ্বাস। তিনি বলেন, “দুলাল আমার কাছে কার্ড চান। পরে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিও পাঠান। আমি হতদরিদ্রের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করি। দুলাল আমাদের গ্রামের স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তিনি দৈনিক দেশকাল পত্রিকার সাংবাদিক। এছাড়া সংবাদ প্রতিদিনেও কাজ করেন। এসব প্রভাব খাটিয়ে কার্ড নিয়েছেন। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মোর্শেদ বলেন, “শিক্ষক দুলাল একজন বিত্তবান ও স্বচ্ছল মানুষ। তাকে যিনি কার্ড দিয়েছেন তিনি ও দুলাল দুইজনই সমান অন্যায় করেছেন। দুজনেরই বিচার হওয়া উচিত।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “এ ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে মঙ্গলবার রাতে টেকেরহাটের একটি গুদাম থেকে ৫০ বস্তা চালসহ পিকআপ ও দুজনকে আটক করা হয় বলে জানান মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জালাল উদ্দিন। রাগদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন জানান, গুদামটির মালিক ইমরুল কায়েস ১০ টাকার চাল বিক্রির ডিলার নন। মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নইম মো. মারুফ খান বলেন, ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শরীয়তপুর জেলার চিকন্দী ইউনিয়নের তালিকায় দেখা গেছে, চেয়ারম্যান এনামুল হক মুন্সির মা আলেয়া বেগমের নাম রয়েছে হতদরিদ্রদের তালিকায়। তালিকায় তার ক্রমিক নম্বর ৮২৭। তালিকায় রয়েছেন চেয়ারম্যানের ভাই সাগর মুন্সী ও আমিনুল হক, মামা বেলায়েত সরদারসহ অনেকে। আমিনুল হক একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছেন। বেলায়েত সরদার একজন সেনাসদস্য। চেয়ারম্যানের চাচা আব্দুর রব মুন্সী চিকন্দী শরফ আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। তিনিও তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কুয়েত প্রবাসী হাতেম ফকিরের নাম রয়েছে ৮৬৪ নম্বরে। একইভাবে দক্ষিণ কেবলনগর গ্রামের স্বপন খা শরীয়তপুর জজ কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ভোটার। ৪০ বছর ধরে তিনি সপরিবার শরীয়তপুর জেলা শহরে বসবাস করছেন।
তিনি বলেন,আমি ১০ টাকার চালের কার্ডের জন্য আবেদন করিনি। আমি এর প্রতিবাদ করব। এ বিষয়ে চিকন্দী ইউপি চেয়ারম্যান ও সেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক মুন্সি বলেন, নির্বাচনের পরপরই হতদরিদ্রদের এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়।“তখন অসচেতনতাবশত ভুল হয়ে থাকতে পারে। আমরা তালিকা সংশোধন করতে উদ্যোগ নিয়েছি।”
শরীয়তপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, চলমান এই কর্মসূচি সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো অনিয়মের অভিযোগ এলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে যে বা যারা অসদুপায় অবলম্বন করবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব এলাকায় তালিকা প্রণয়নে অস্বচ্ছতা ও নিয়মভঙ্গ হয়েছে, সেসব এলাকায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে তালিকা সংশোধন করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ