ঢাকা, শনিবার 29 October 2016 ১৪ কার্তিক ১৪২৩, ২৭ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাজারে শীতের সবজি তবু দাম কমেনি

স্টাফ রিপোর্টার : শীতের সবজিতে বাজার পরিপূর্ণ। কিন্তু দাম আকাশ ছোঁয়া। ৫০-৬০ টাকার কমে বাজারে কোন সবজি নেই। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই এখন ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি বৃদ্ধি পাওয়া চালের দামও কমেনি। এদিকে গরু ও খাসির গোশত এবং ব্রয়লার মুরগীর দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং না থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ক্রেতাদের অভিযোগ।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মগবাজার ও সেগুন বাগিচা বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, ঢেঁড়স, পটল, বরবটি, কচুর লতি, করলা, কচুরমুখীসহ প্রায় সব ধরনের সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বাজারে। কিন্তু দাম আকাশচুম্বী। আলু ও পেঁপে ছাড়া অন্য সব সবজি ও তরকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০-১০০ টাকা কেজি।
শীতকালীন পণ্যে বাজার পরিপূর্ণ হলেও বিক্রেতাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কম। ফলে বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ সবজি।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, শীতের সবজি বাজারে আসার প্রথমদিকে সরবরাহ কম বলে দাম বাড়িয়েছিলেন বিক্রেতারা। এখন সরবরাহ বাড়লেও নানা অজুহাতে দাম কমানো হচ্ছে না।
গতকালের বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও প্রতি কেজি শিম ১১০ থেকে ১২০ টাকা; কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা; বেগুন (কালো) ৮০ টাকা ও (সাদা) ৫০ টাকা; গাজর ৭০-১০০ টাকা; ঢেঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা; ঝিঙ্গা ৫০ থেকে ৬০ টাকা; কাকরোল ৬০ টাকা; শশা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া শীতকালীন সবজির মধ্যে প্রতিটি ফুলকপি ৫০-৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৫০ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মূলা ৫০ টাকা, জালি ৫০ টাকা এবং লাউ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে প্রতি হালি লেবু ২০ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে মানভেদে দেশি পেঁয়াজ ৩৫-৪০ টাকা। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৮-৩০ টাকায়। এছাড়া গত সপ্তাহের চেয়ে ৮০ টাকা বেড়ে আদা (দেশি) ১৮০ টাকা এবং আদা (বিদেশি) ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রসুনের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১০ টাকা বেড়ে দেশি ১৬০ টাকা, ভারতীয় ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্য প্রয়োজনীয় মুদি পণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন প্রতি লিটার ১০২ টাকা; কেজি প্রতি দেশি মসুর ডাল ১২০ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৯৫ টাকা, মুগ ডাল ১০৫ টাকা, বুটের ডাল ৫৫ টাকা, মাসকলাই ১৩০ টাকা, ছোলা ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে ঊর্ধ্ব গতি দেখা গেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে ১৫০-১৫৫ টাকায়; লেয়ার মুরগি ১৮০ টাকা; দেশি মুরগি হালি ১২০০-১৪০০ টাকা; পাকিস্তানি লাল মুরগি হালি ৮০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৬০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ১৬০-২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৮০ টাকা, টেংরা ৮০০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-২৮০ টাকা ও দেশি মাগুর ৬০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রকার ভেদে চিংড়ি ৭০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ ধরা, সরবরাহ এবং বিক্রি নিষিদ্ধ থাকায় বাজারে কোনো ইলিশ চোখে পড়েনি।
তবে সপ্তাহের ব্যবধানে গরু এবং ছাগলের গোশতে যথাক্রমে ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি গরুর গোশত বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৪৮০ টাকা এবং খাসির গোশত ৬৫০-৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ ধরে চালের বাজার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল ৪০ টাকা, পারিজা চাল ৪০-৪২ টাকা, মিনিকেট ৫০-৫২ টাকা, মিনিকেট (নরমাল) ৪৬-৪৮ টাকা, বিআর আটাশ ৪২-৪৪ টাকা, নাজিরশাইল ৫২ টাকা, বাশমতি ৫৫ টাকা এবং পোলাও চাল মানভেদে ১০০ টাকা থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ