ঢাকা, রোববার 30 October 2016 ১৫ কার্তিক ১৪২৩, ২৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মিরাজ

স্পোর্টস রিপোর্টার : টেস্ট ক্রিকেটে সফল অভিষেকের পর দ্বিতীয় টেস্টেই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন ডানহাতি অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশের কোন প্রথম বোলার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর টানা দুই ম্যাচে ৫ বা তার বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়লেন তিনি। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন বোলারই অভিষেকের পর টানা দুই ম্যাচে ৫ উইকেট করে নেয়ার কৃতিত্ব গড়তে পারেননি। যদিও এই সুযোগ ছিল বাংলাদেশের ৬ বোলারের সামনে। কিন্তু তারা না পারলেও এটা করেছেন মিরাজ। এর আগে বাংলাদেশের পক্ষে অভিষেক ম্যাচে যে ৬ বোলার ৫ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছিলেন তারা হলেন- নাঈমুর রহমান দূর্জয়, মানজারুল ইসলাম রানা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইলিয়াস সানী, সোহাগ গাজী ও তাইজুল ইসলাম। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের কেউই ৫ উইকেট নিতে না পারায় রেকর্ডটিতে শুধু মেহেদী হাসান মিরাজেরই হয়ে গেঠ। অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই ঘটনা অনেক থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এটা প্রথম। রিয়াদের ৪৪ রানে ৩ উইকেট ছিল আগের সেরা। ২০০০ সালে বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টেই ভারতের বিপক্ষে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন নাইমুর রহমান। বাংলাদেশের সেই সময়ের অধিনায়ক পরের টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বুলাওয়েতে একমাত্র ইনিংসে ১ উইকেট নিয়েছিলেন ৭৪ রানে। বুলাওয়ায়োর সেই টেস্টেই ৬ উইকেট নিয়ে অভিষেক মঞ্জুরুল ইসলামের। বাঁহাতি পেসার পরে টেস্টে হারারেতে ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রথম ইনিংসে রান দিয়েছিলেন ১১৩, দ্বিতীয় ইনিংসে ২১। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অভিষেক ওয়েস্ট ইন্ডিজে। অভিষেকে ৫ উইকেট আর ম্যাচে ৮ উইকেটের পর দারুণ বোলিং করেছিলেন দ্বিতীয় টেস্টেও। প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ৪৪ রানে, পরে ইনিংসে ৩৭ রানে একটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই চট্টগ্রামে ২০১১ সালে অভিষেকে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ইলিয়াস সানি। সিরিজের পরের টেস্টটি খেলতে পারেননি বাঁহাতি স্পিনার। পরের টেস্ট খেলেন চট্টগ্রামেই পাকিস্তানের বিপক্ষে, একমাত্র ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ১২৩ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১২ সালে মিরপুরে সোহাগ গাজী নেন ৭৪ রানে ৬ উইকেট। অভিষেকে যা এখনও বাংলাদেশের সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। পরের টেস্টে খুলনায় প্রথম ইনিংসে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন ১৬৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে এক ওভারে ৮ রান দিয়ে উইকেটশূন্য। মিরাজের আগে অভিষেকে ৫ উইকেট পাওয়া বাংলাদেশের সবশেষ বোলার ছিলেন তাইজুল ইসলাম। যথারীতি প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ! দ্বিতীয় টেস্টে তাইজুলের পারফরম্যান্স ছিল প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ২ উইকেট, দ্বিতীয় ইনিংসে ৮১ রানে একটি। কিন্তু গতকাল মিরাজ ছাড়িয়ে গেলেন পূর্বসূরিদের সবাইকে। তবে পর পর তিন ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড আছে বাংলাদেশের দুইজনের। একজন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অন্যজন আরেক বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। অবশ্য মিরাজ যে সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে তা টেস্ট অভিষেকেই আভাস দিয়েছিলেন। কারণ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট। চট্টগ্রাম অভিষেক ইনিংসে ৮০ রানে ৬ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন ১ উইকেট। আর ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসেও নিয়েছেন ৬ উইকেট। গতকাল জাফর আনসারিকে শুভাগত হোমের তালুবন্দি করে ঢাকা টেস্টে ৫ উইকেট নেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চট্টগ্রামে ক্যারিয়ারে প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন তিনি। তবে গতকাল নিজেকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন মিরাজ। অভিষেকে পর পর দুই ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়েছেন এমন বোলার হিসেবে আছেন তিনি একাই।  ঢাকা টেস্টের প্রথম দিনের শেষ বিকালে মিরাজ নেন দুই উইকেট। অ্যলিস্টার কুক ও গ্যারি ব্যালান্সকে ফিরিয়ে দিয়ে দিনটি বাংলাদেশের করেন তিনিই। আর গতকালও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন তিনি। দিনের তৃতীয় বলেই তুলে নেন মঈন আলীর উইকেটটি। স্ট্যাম্পের বলটি সুইপ করতে গিয়ে ১০ রানে বোল্ড হন মঈন আলী। দ্বিতীয় বারের মতো বল করতে এসে বাংলাদেশকে উৎসবের উপলক্ষ এনে দেন তিনি। জো রুট ও জনি বেয়ারস্টোর ৪৫ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। জনি বেয়ারস্টোকে আউট করে নিজের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন মিরাজ। স্ট্যাম্পের উপরের সাজা বল অন সাইডে খেলতে চেয়েছিলেন বেয়ারস্টো। কিন্তু বলের জায়গায় ব্যাট না চালানোয় বল আঘাত করে প্যাডে। মিরাজের এলবির আবেদনে আম্পায়ার ধর্মাসেনা আঙুল তুলতে ভুল করেননি। ৪ ওভার পর আবার মিরাজের সফল আক্রমন। অভিষিক্ত জাফর আনসারিকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যচে দ্বিতীয় বারের মতো ৫ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ