ঢাকা, রোববার 30 October 2016 ১৫ কার্তিক ১৪২৩, ২৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পবিত্র মক্কার উপর হুতিদের হামলা প্রসঙ্গ

প্রকাশ, গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়ামেন সরকারের সাথে যুদ্ধরত হুতি গেরিলা গোষ্ঠী পবিত্র মক্কা শরীফ লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল বহুল আলোচিত ও বিপদজনক স্কাড ধরনের। মক্কাশরীফ লক্ষ্যে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি পবিত্র মক্কা থেকে ৬৫ কি.মি. দূরে আকাশেই ধ্বংস করে দেয় সউদি সশস্ত্র বাহিনী। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ ইয়ামেন সরকারকে হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সক্রিয় সহায়তা করছে। মনে করা হচ্ছে হুতিরা এই কারণেই মক্কাশরীফের উপরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হুতিদের এই জঘণ্য কাজকে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে নিন্দা করা হয়েছে। আমরা মনে করি গোটা মুসলিম বিশ্ব এবং দুনিয়ার সব মুসলমানসহ সচেতন সকলেই এই জঘণ্য কাজের প্রতিবাদ ও নিন্দা করবে। আমরাও হুতিদের এই কাজের  তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি। এই সাথে আমরা মনে করি, হুতিদেরকে যারা সাহায্য করছে এবং স্কাড ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের মতো কাজে জড়িত তারা সকলেই সচেতন হবে, হুতিদের এই জঘণ্য কাজেরও নিন্দা করবে এবং হুতিদের পিছন থেকে সরে দাঁড়াবে।
সৌদি আরবে অবস্থিত পবিত্র মক্কা এবং মদিনা শরীফ বিশ্বের সব মুসলমানের সবচেয়ে সম্মন্বিত এবং প্রিয়তম সম্পদ। এই পবিত্র স্থানদ্বয়কে কোনো হিংসুক তার হিংসার টার্গেট বানানো এবং এই স্থানদ্বয়ের প্রতি আঘাত ও অসম্মান বিশ্বের মুসলমানরা বরদাস্ত করবে না। অতীতে এই পবিত্র স্থানদ্বয় বিশেষ মহলের হিংসা ও হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষ করে আব্বাসীয় খলিফা মামুনের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে মুসলমানদের কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে এবং তুর্কী খেলাফত আরব ভূ-খণ্ডের উপর শাসন পরিচালনায় অসমর্থ হলে হেজাজসহ আরব ভূ-খণ্ড নৈরাজ্যের শিকার হয়। শক্তিশালী কেন্দ্রীয় শাসন ব্যবস্থার অনুপস্থিতির ফলে আরব ভূ-খণ্ডের মতোই পবিত্র মক্কা-মদিনার শান্তি ও স্বস্তি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব এর প্রধান কারণ ছিল। এই দ্বন্দ্বে মহাসম্মানীত হিজরে আসওয়াদ খুলে বাহরাইনে নিয়ে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনাও ঘটে। ৯৩০ খৃষ্টাব্দে কারমাতিয়ারা (শিয়াদের একটি গ্রুপ) মক্কা দখল করে, পবিত্র শহরে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায় এবং মহাসম্মানীত হিজরে আসওয়াদকে কাবা থেকে বাহরাইনে নিয়ে যায়। পরে যখন তারা বুঝলো যে তাদের এই কাজের ফলে তাদের বদনাম হয়েছে এবং সুন্নি মুসলমানদের লাভ হয়েছে, শুধু তখনই (৯৫০ খৃষ্টাব্দে) তারা হিজরে আসওয়াদ কাবাশরীফে ফিরিয়ে দেয়। আরব ভূ-খণ্ডের এই নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলাপূর্ণ এবং বিখ-িত অবস্থা চলতে থাকে বিশ শতকের শুরুর দিক পর্যন্ত। ১৯৩২ সালে সৌদি বাদশা আবদুল আজিজ আল সৌদ কর্তৃক আরব ভূ-খণ্ডকে একত্রিত করে একক একটি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পর অন্তরবর্তী ঐ দীর্ঘ অন্ধকার যুগের অবসান ঘটে। তারপর ইয়ামেনের হুতিরাই এই প্রথম বিশ্ব মুসলমানের পবিত্র ভূমি মক্কার বিরুদ্ধে তাদের হিংসাত্মক অঙ্গুলি উত্তোলন করলো।
এই ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটুক বিশ্বের মুসলমানদের এটাই দাবি। সৌদি আরবের বাদশা সালমান ইবনে আবদুল আজিজ হারামাইন শরীফাইনের খাদেম হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। সৌদি শাসন আমলে আরব ভূ-খণ্ডে যেমন শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তেমনি বিশ্বের মুসলমানদের হজ্জ পালন নিরাপদ, সহজ, সুন্দর ও সুব্যবস্থাপূর্ণ হয়েছে। পবিত্র মক্কা-মদিনার নিরাপত্তা বিধান তারা করবেন এটাও স্বতসিদ্ধ বিষয়। তবে আমরা মনে করি সৌদি আরবকে তার এই দায়িত্ব পালনে মুসলিম দেশগুলো এবং বিশ্বের মুসলমানদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ