ঢাকা, রোববার 30 October 2016 ১৫ কার্তিক ১৪২৩, ২৮ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ছড়া/কবিতা

ষড়ঋতুর দেশ
আহাদ আলী মোল্লা

চারিদিকেই ঝাঁজালো রোদ চৌচির মাঠ ফেটে
তেষ্টা জাগে নদী নালা দীঘি খালের পেটে
বনবনানী কাতর কাতর পিপাসা খুব পেল
শুকনো পাতার আওয়াজ তুলে গ্রীষ্ম কাছে এলো।

সাদা সাদা মেঘের ভেলা হাওয়ায় ভেসে চলে
জমায় খেলা সারা বেলা সুনীল আকাশ তলে
হেলে দুলে নেচে গেয়ে বজ্র বাসন খামে
 সোনার দেশে বৃষ্টি নিয়ে বর্ষা হঠাৎ নামে।

 পেঁজা পেঁজা ধূসর ছায়া ভেসে বেড়ায় নীলে
কাশের ফুলে মাথায় দোলায় হাঁসপাখি যায় বিলে
শিউলি ফোটে আপন মনে ঝিঁঝিঁর মিঠেল গানে
শরৎ আসে ধীর কদমে বাংলাদেশের পানে।

পাকা ধানের গন্ধ হারায় সরষে ক্ষেতে ক্ষেতে
শ্যামল রঙের বাহার নিয়ে সবুজরা যায় মেতে
কুসুম রোদের কণা মেখে ফসলি মাঠ সুখী
ঘোর কুয়াশার রেলে এসে হেমন্ত দেয় উঁকি।

পুঁইয়ের বানে মেচড়ি দানায় রস টলমল করে
কুটুম পাখি নামে সোজা বিল-বাঁওড়ের চরে
থরথরিয়ে জাড়ের কাঁপন লাগায় সোজাসুজি
খেজুর রসের হাঁড়ি কাঁখে শীত নেমেছে বুঝি।

ফুলে ফুলে পরাগ ছড়ায় মৌমাছিরা গিয়ে
গুনগুনিয়ে ফেরে তারা অনেক মধু পিয়ে
গাছগাছালি সাজে নতুন কুশি পাতার বেশে
বসন্ত ওই কড়া নাড়ে ষড়ঋতুর দেশে।


হাতটা বাড়াও
আবদুল হাই ইদ্রিছী

পথের ধারে একটি শিশু
পেটের ক্ষিদে পুড়ছে,
ক্ষিদার জ্বালায় হাতটা পেতে
দ্বারে দ্বারে ঘুরছে।

তোমার খোকা হরেক রকম
দামি খাবার খাচ্ছে,
টিফিন বক্সটা সাথে নিয়ে
পাঠশালাতে যাচ্ছে।
ফুটপাতের ঐ শিশু যত
তোমার খোকার মত,
ওদের চোখে জেগে আছে
স্বপ্ন শত শত।
ওদের দিকে হাতটা তোমার
একটু বাড়িয়ে দাও,
মনটা ভরে একটা নজর
তাদের দিকেও চাও।



নবান্ন 
 মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

মাঠের পরে মাঠ ভরেছে
 সোনারাঙা ধান
কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে আজি
নবান্নের-ই গান!
 সোনা ধানে ভরবে  গোলা
জাগলো মনে খুশির বান
কৃষাণ-কৃষাণী বেজায় খুশি
 পেয়ে নতুন ধানের ঘ্রাণ!
নতুন চালের পিঠা,পায়েস,মুড়ি খই
ঘরে ঘরে হবে রান্না
নবান্নের-ই আগমনে বইছে বাংলায়
অফুরন্ত সুখের বন্যা!


নবান্নের উৎসব
 সৈয়দ মাশহুদুল হক

 হৈমু এলো গাঁও-গেরামে
নবান্নের উৎসবে
ঘরে ঘরে সবাই খুশি
হাসছে কলরবে।
কার্তিক শেষে অগ্রহায়ণে
পাকা ধানের মাঠে
মনের সুখে সব চাষিরা
 সোনালী ধান কাটে।
জারিসারি গানের সাথে
চলে ধানের মাড়াই
পিঠা-পুলির ধুম পড়ে যায়
সকল পাড়ায় পাড়ায়।
সঙ্গে নিয়ে পিঠার হাঁড়ি
নবান্ন উৎসবে
আসবে জামাই শ্বশুর বাড়ি
 মোরগ হবে জবে',
 হেমন্ত জুড়েই খুশির জোয়ার
ঘরে ঘরে রবে।
 বোরোধানের বীজ তলাতে
আড্ডায় বসে চাষি
আগামী দিনের স্বপ্ন বুনে
হাসবে সুখের হাসি।


মায়ের মত
জাহাঙ্গীর ডালিম

দেশটি আমার মায়ের মত
শান্তি যে তার বুকে
দেশটি আমার বুবুর মত
পদ্য যে তার মুখে।

দেশটি আমার দাদুর মত
সূর্যি যেন হাসে
দেশটি আমার পিতার মতো
শিশির পড়া ঘাসে।


"ফুলপাখি"
শাহ্ আলম শেখ শান্ত

যখন আমি পড়তে বসি
দুই চোখেতে ঘুম আসে
টুনটুনি আর দোয়েল শ্যামা
ঘুরে আমার চারপাশে।
খেলতে হবে চড়ুই ডাকে
গাইতে ডাকে বুলবুলি
ঘ্রাণ নিতে ডাকছে আমায়
শত রঙের ফুলগুলি।
বন্ধু ভ্রমর সুধাসুরে
গুনগুন শোনায় গান
ঘুঘু ডাকে ভরদুপুরে
 কোকিল গায় কুহুতান।
আব্বু আম্মু যতই বকুক
 দেকনা যত গাল-
ফুল পাখিদের সনে আমি
 খেলবো চিরকাল।


মুখোশ
আসাদুজ্জামান আসাদ

রীতি,নীতি, প্রীতির কথা
বলছি  রোজেই বেশ
মিষ্টি কথা মুখে বলে
করছি সমাজ শেষ।
কাজের মাঝে ফাঁকি ঝুঁকি
করি ফাঁকিবাজ
নিত্যদিনে কাজ কর্মে
করি না যে লাজ।
চোখের জলে হার মানি না
ভিজায় নিজের বুক
আবার  দেখি দূরে বসে
পাই যে মনে সুখ।
এ সব গুণের অধিকারী
মুখোশধারী লোক
তাদের সাথে কোন কাজে
রাখি না সংযোগ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ