ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জ্বালানি ছাড়াই অটো চার্জার কার

আব্দুর রাজ্জাক রানা : সারা বিশ্ব যখন জ্বালানি সমস্যার নিয়ে চিন্তিত ঠিক তখনই সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট খুলনার ইলেকটিক্যাল ডিপার্টমেন্ট আবিষ্কার করেছে ‘অটো চার্জার কার’। এটি কোন প্রকার জ্বালানি ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিরতিহীনভাবে চলাচল করতে পারবে। একদিকে এটির গঠন প্রণালি যেমন সহজ তেমনি এটি তৈরি করতে খুব বেশি খরচ লাগে না। এটি তৈরি করতে তারা ব্যবহার করেছে একটি ডায়নামা, যেটি চলবে ডিসি সরবরাহের মাধ্যমে। আর এই ডায়নামাতে ম্যাকানিক্যাল এনার্জি সরবরাহ করবে একটি ডিসি মোটর। আবার এই ডিসি মোটরটিকে ইলেকটিক্যাল এনার্জি  সরবরাহ করবে গাড়িতে থাকা ব্যাটারি। আর এই ব্যাটারিটি চার্জিং এর জন্য যে ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি দরকার সেটি সরবরাহ করবে এই ডায়নামা। সুতরাং খুব সহজেই ব্যাটারিটি চার্জ হবার সুযোগ পাবে। এবং গাড়ি চলার সাথে সাথে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানালেন এর উদ্ভাবক সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট খুলনার ইলেক্ট্রিক্যাল টেকনোলজির প্রথম পর্বের ছাত্র তনুময় সরকার। আর তাকে এই উদ্ভাবনের কাজে সহযোগিতা করেছেন একই পর্বের শুভ্র মুখার্জি ও কলিন্স হালদার। গতকাল রোববার ‘সরকারি-বেসরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের স্কিলস্ কম্পিটিশন-২০১৬’ চলাকালে তনুময় সরকার এই ‘অটো চার্জার কার’ আবিষ্কারের পদ্ধতির নানা দিক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, জ্বালানির সমস্যা দূর, জ্বালানির সঠিক ব্যবহার, অল্প বিদ্যুতে বেশি কাজ নেয়া ও পরিবেশ দুষণরোধ করতে এ কার ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, এ গাড়ি চালাতে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না, রাস্তায় কোথাও তেল ফুরিয়ে গেলে যাত্রিদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না, গাড়ি নিজেই নিজেই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। এ কার তৈরি করতে একটি গাড়ি, ডিসি মোটর, ডায়নামা, চার্জিং সার্কিট ও ব্যাটারি লাগবে। 

সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট খুলনা কর্তৃক স্কিলস্ কম্পিটিশন এর উদ্বোধনী মেলায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শেখ জাহাঙ্গীর আলম। এ মেলায় অতিথি ছিলেন খুলনার সরকারি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ মো. আমিনুর রহমান, খুলনা প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আনিসুজ্জামান, কেএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (নর্থ) মো. আব্দুল্লাহ্ আরেফ পিপিএম, খালিশপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম সানাউল্লাহ নান্নু, আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন,  ইঞ্জিনিয়ার কাজী মাকসুদুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানা, দৈনিক পূর্বাঞ্চলের স্টাফ রিপোর্টার আহমদ মুসা রঞ্জু প্রমুখ। এ সময় কলেজের উপাধ্যক্ষ শেখ হাবিবুর রহমানসহ উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ছাত্র/ছাত্রীর উপস্থিতিতে উক্ত উদ্বোধনী মেলা এক আনন্দ মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের ৯টি টেকনোলজি ১৭টি প্রজেক্ট প্রদর্শন করা হয়। মেলা সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেল ৫ টায় শেষ হয়।

প্লাস্টিক বোতলের অপচয় রোধ, মাটিকে দূষণের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা ও কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি করণের লক্ষে ‘ব্যবহৃত প্লাস্টিক বোতলের পুনঃব্যবহার’ এর উদ্ভাবক করেন সিভিল টেকনোলজি ৬ষ্ঠ পর্বের ছাত্র সাকিবুজ্জামান। তাকে সহযোগিতা করেন একই পর্বের সৌরভ সিকদার ও খান সজিব। এছাড়া ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল দ্বারা বাচ্চাদের খেলনা তৈরি, প্লাইউড বোর্ডের সাহায্যে ফটোকপি যন্ত্র তৈরি, কম খরচে প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি ও দামি খেলনার বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

বৈদ্যুতিক তারে কারেন্ট আছে কিনা তা ইন্সুলেটর এর উপর দিয়ে পরীক্ষা করা, আর্থিং পরীক্ষা করা, বৈদ্যুতিক তারে কোথাও ছেঁড়া আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য মেকানিক্যাল টেকনোলজির ৩য় পর্বের ছাত্র মো. রাজু আহমেদ ‘আধুুনিক টেস্টার’ উদ্ভাবন করেন। আর তার এ উদ্ভাবনে সহযোগিতা করেন অভিজিৎ ও আশরাফুল।  দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা, সময় বাঁচানো, বৈদ্যুতিক এনার্জির অপচয় রোধ করা, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করা জন্য ‘ব্লুটুত কন্ট্রোল এপ্লিকেশন’ উদ্ভাবন করেন ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির ৫ম পর্বের ছাত্র মো. লিটন শেখ। তাকে  সহযোগিতা করেন সত্যজিৎ রায়। 

‘ফিকুইনসি এর মাধ্যমে গেট খোলা ও বন্ধ’ করার উদ্ভাবন করেন টেলিকমিউনিকেশন টেকনোলজি ৫ম পর্বের ছাত্র মো. মেহেদী হাসান। আর তাকে সহযোগিতা করেন একই পর্বের ছাত্র প্রিন্স তন্ময় হালদার ও ইউসুফ আল রাজি। ‘ভয়েস ট্রান্সফার সিস্টেমের’ উদ্ভাবন করেন কম্পিউটার টেকনোলজি প্রথম পর্বের ছাত্র মো. ছানোয়ার হোসেন বাবু এবং তাকে সহযোগিতা করেন একই পর্বের ছাত্র নাদিম আহমেদ। ‘আধুনিক ও উন্নতমানের শহর’ উদ্ভাবন করেন কম্পিউটার টেকনোলজি পঞ্চম পর্বের ছাত্র অমিয় গোলদার এবং তাকে সহযোগিতা করেন একই পর্বের ছাত্র অনিক ও আরিফ। ‘অটোমেটিক এ্যালার্ম সিস্টেম’ উদ্ভাবন করেন কম্পিউটার টেকনোলজি তৃতীয় পর্বের ছাত্রী রুনা ইয়াসমিন তাকে সহযোগিতা করেন একই পর্বের ছাত্রী জুঁই ইসলাম ও আসমা খাতুন। ‘লেজার সিকিউরিটি সিস্টেম ও ফোনে অটোকল’ এর উদ্ভাবন করেন কম্পিউটার টেকনোলজি তৃতীয় পর্বের ছাত্র মো. জসীম আলী তাকে সহযোগীতা করেন একই পর্বের ছাত্র নাফিজ হাসান ( অন্তর) ও ফয়সাল আহমেদ ( ইশান)। ‘আধুুনিক ইট ভাঙ্গা মেশিন’ এর উদ্ভাবন করেন মেকানিক্যাল টেকনোলজি পঞ্চম পর্বের ছাত্র মেহেদী হাসান শুভ।

এ সব উদ্ভাবনের ব্যাপারে সিটি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট খুলনার অধ্যক্ষ শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সারাদেশে এ প্রতিযোগিতা চলছে। অর্থনৈতিক, প্রজেক্টের জন্য ভালো পরিবেশ, চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান না থাকাসহ নানা সমস্যা নিয়েই আমাদের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করাতে হয়। এ সব সমস্যা সমাধান করতে পারলে আমাদের ছেলে-মেয়েরা আরো ভালো ভালো কিছু আবিস্কার করতে পারতো বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ