ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঝামেলা হিলারির পিছু ছাড়ছে না

* প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর ব্যবধান মাত্র ২ পয়েন্ট
৩০ অক্টোবর, এবিসি নিউজ/নিউইয়র্ক টাইমস : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন শহর কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি না নিয়েই তার বাড়ি মেরামত ও পুনর্বিন্যাসের কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শহর কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছে। অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত সংস্কারকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত গ্রীষ্মে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল এলাকা উয়েস্টচেস্টার এলাকার চাপাকুয়াতে ১৬ লাখ ডলার দিয়ে একটি বাড়ি কেনেন ক্লিনটন দম্পতি। অক্টোবরের প্রথম দিকে ওই বাড়ির গাছ কাটার বিষয়টি নজরে এলে এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, সমস্যা আরও গভীরে। ভবন পরিদর্শক দেখতে পান, অনুমতি না নিয়ে বাড়িটি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। রান্নাঘরকে করা হয়েছে আধুনিকায়ন। নতুন করে হিটিং ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। বাড়ির কাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে একটি সুইমিংপুলও। গত আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া এসব কাজের জন্য শহর কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে পরিদর্শনে বেরিয়ে আসে।
গতকাল শনিবার নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের ভবন পরিদর্শক উইলিয়াম মাসকিল প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। মাসকিল তার প্রতিবেদনে বলেছেন, ভবন নির্মাণে বেশ কিছু নিয়মনীতি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ১৭ অক্টোবর বাড়ির মালিককে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ২১ অক্টোবর পুনরায় পরিদর্শনে গিয়ে অনুমতি না নেওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শহরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাড়ির মালিক ইচ্ছা করলেই নকশা পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিন্যাস করতে পারেন না। এ জন্য যথাযথভাবে আবেদন করতে হয়। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মতামত নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেলে তবেই অনুমতি দিয়ে থাকে। অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কাজ করা হলে বাড়ির মালিককে বড় মাপের জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।
এদিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিতর্কের ফল যা-ই হোক না কেন দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপে এ দুজনের ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে।
এবিসি নিউজ এবং ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপে দেখা গেছে, হিলারির সমকক্ষ হতে ট্রাম্পের আর মাত্র দুই পয়েন্ট বাকী আছে। যা আসলে একটিমাত্র পয়েন্টের ব্যাপার। কারণ ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও এক পয়েন্ট যোগ করলে নি:সন্দেহে হিলারির এক পয়েন্ট কমে যাবে। তাই বলা যায়, এ ব্যাবধান কোন ব্যাবধানই নয়।
গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত ওই জরিপে দেখা যায়, হিলারির প্রতি সমর্থন ছিলো ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর আর ট্রাম্পের ৪৫ শতাংশ। অথচ তিনটি বিতর্ক শেষ হওয়ার পর গত সপ্তাহে হিলারি ট্রাম্পের চেয়ে প্রায় ১২ পয়েন্ট লিড নিয়েছিলেন। সেই পয়েন্ট অনুসারে হিলারির তিন পয়েন্ট অবনমন হয়েছে আর অবিশ্বাস্যভাবে ট্রাম্পের যোগ হয়েছে সাত পয়েন্ট।
জরিপটি হিলারির ইমেইল নিয়ে এফবিআই তদন্ত ঘোষণার আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফবিআই তদন্ত ঘোষণার পরে হলে ট্রাম্প আরও ভালো ফল করতেন।
গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবরের মধ্যে ওই জরিপটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১ হাজার ১৪৮ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশগ্রহণ করেন। জরিপে ‘মার্জিন অব এরর’ ধরা হয়েছে তিন পয়েন্ট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ