ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জাঞ্জিবারে সাদা বালুর সমুদ্র তীরে বর্শা হাতে অক্টোপাস শিকার

৩০ অক্টোবর, বিবিসি : পূর্ব আফ্রিকার দেশ তাঞ্জানিয়ার জাঞ্জিবারের সাদা বালুর সমুদ্র তীর পর্যটকদের কাছে এক বড় আকর্ষণ। কিন্তু প্রতিদিন যখন সাগরে ভাটার টান ধরে, পর্যটকরা তাদের হোটেলে ফিরতে থাকেন। তখন লাঠি আর বর্শা হাতে একদল মানুষকে দেখা যায় সাগর তীরের হাঁটু পানি ভেঙে এগিয়ে চলছেন।তানজানিয়ায় সবচেয়ে উপাদেয় খাবার অক্টোপাসের সন্ধানে বেরিযেেছ তারা। ভাটার সময় একজন অক্টোপাস শিকারি তার বর্শায় গাঁথতে পারেন ১০টি পর্যন্ত অক্টোপাস। এসব অক্টোপাস থাকে সাগর তীরের বড় বড় পাথর, প্রবাল আর লতাগুল্মের ফাঁকে।
জাঞ্জিবারের বড় বড় হোটেলের পর্যটকদের কাছে এসব অক্টোপাসের ভীষণ চাহিদা রয়েছে।জাঞ্জিবারের উপকূল বরাবর আছে এক প্রবাল প্রাচীর। এর ফলে সেখানে বহু বিচিত্র সামুদ্রিক প্রাণীর বিচরণ।পুরো পশ্চিম ভারতীয় মহাসাগর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি অক্টোপাস ধরা হয় তানজানিয়ায়।ঐতিহ্যবাহী কাঠের নৌকায় অক্টোপাস শিকার করেন ৩৫ বছর বয়সী আবদুল্লাহ আলী।আগে কেবল মহিলাদেরকেই এই অক্টোপাস শিকারের কাজে দেখা যেত। কিন্তু এর চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তার ফলে বেশি আয়ের আকর্ষণে পুরুষরাও এখন এই কাজ বেছে নিচ্ছেন।অক্টোপাস শিকার করে প্রতিদিন ভালোই আয় হয় সাইদ আলীর। প্রতি কেজি অক্টোপাসের জন্য পান দুই ডলার তিরিশ সেন্ট।জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুয়ায়ী, তানজানিয়ায় অক্টোপাসের উৎপাদন যেখানে ১৯৯০ সালে ছিল মাত্র ৪৮২ টন, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২৫০ টনে। যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে।সাগর তটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেসব প্রবাল পাথরের খন্ড, তার ফাঁকে লুকিয়ে থাকে অক্টোপাস। সহজে চোখে পড়ার কথা নয়। কিন্তু পাকা শিকারিরা ঠিকই খুঁজে পান কোথায় লুকিয়ে থাকে এই অক্টোপাস।ডুব সাঁতার দিয়ে সারাদিনের ক্লান্তি ঘোচানোর চেষ্টা করছে অক্টোপাস শিকারি মারিয়াম। মামা জুমা খুবই পাকা অক্টোপাস শিকারি। তিনি প্রতিদিন স্ফটিক স্বচ্ছ পানিতে খুঁজে বেড়ান অক্টোপাস।বিরান সমুদ্র তটেও অক্টোপাস শিকার করেন তরুণীরা। বিরান সমুদ্র তটে এক নিঃসঙ্গ শিকারি অক্টোপাসের সন্ধানে। ওই সাগর তট তাদের জীবিকার একমাত্র উৎস।গ্রিলড অক্টোপাস অনেকের কাছে খুবই উপাদেয় এক খাবার।জানা গেছে, তানজানিয়ার বেশিরভাগ অক্টোপাস রফতানি করা হয় ইউরোপে। তবে জাঞ্জিবারের পর্যটকদের কাছেও এর অনেক চাহিদা। -বিবিসি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ