ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঘোষিত জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রক্রিয়া সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের পরিপন্থি

২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে গতকাল রোববার বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : ঘোষিত জেলা পরিষদ নির্বাচন প্রক্রিয়া সংবিধানের মৌলিক বিষয়ের পরিপন্থি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার ব্যাপারে জোটের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। গতকাল রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের মহাসচিবরা অংশগ্রহণ করেন। বৈঠক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনের যাওয়া না যাওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা আলোচনা করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন যে পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তা সংবিধানে মৌলিক বিষয়ের পরিপন্থি। এখানে ইলেক্ট্রল কলেজ আদালত তৈরি করা হয়েছে। যার স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন তারাই ভোট দিতে পারবেন। জনগণ প্রত্যক্ষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। এর আগে কখনো বাংলাদেশে জেলা পরিষদ নির্বাচন ভোটের মাধ্যমে হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানে বলা আছে, যে কোনো প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকারই হউক অথবা জাতীয় নির্বাচনই হউক সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে হতে হবে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমরা দেখলাম সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ফলাফল তাদের অধীনে নিয়ে গেছে। কোথাও ভুয়া ভোট দেওয়ার মাধ্যমে আবার ভোটের আগে রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেলে। এমনও হয়েছে বিরোধী পার্টি জিতেছে তাদেরও ফলাফল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা এখন আর কাজ করছে না। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনই কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। ভবিষ্যতে একটি নির্বাচন করতে পারবেন সেটাও হবে না, বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের কোনো মেরুদণ্ড নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে এই নির্বাচন (জেলা পরিষদ নির্বাচন) কতটা সুষ্ঠু হবে তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। শরিক দলের সবাই প্রশ্ন রেখে তারা বলেছেন এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই কমিশনের অধীনের নির্বাচনগুলো কি অবস্থা হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। নিজেরাই ভোট দিয়েছে, ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিরোধী দল স্থানীয় ফলাফলে নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু পরে দেখা গেছে তারা পরাজিত হয়েছে। এভাবেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়া হয়েছে।

সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিরোধীতা শুরু হয়েছে। তাবেলা সিজার হত্যাকান্ড নিয়ে র‌্যাব-পুলিশ স্ববিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় এই সরকারের ওপর জনগণের কোন আস্থা নেই। দেশে আইনের শাসন নেই জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, সারা দেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙ্গে পরেছে। আজ দেশে আইনের শাসন নেই। তারা যা খুশি তাই করছে।

দেশে গণতন্ত্র নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দলমতকে ধ্বংস করছে। ৭৫’র মত একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় যেতে চাচ্ছে সরকার। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। আবার চলে গেছে, এখন দেশে গণতন্ত্র নেই। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু দিন আগেই বলল বিএনপির সঙ্গে কোন আলোচনা নয়। আজ বলছে আলোচনা দ্বার খোলা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব সুবিধাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত এটা ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে প্রমাণিত হয়।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন মাসে বিনা বিচারে ১৫১ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মাওলানা আশরাফি ইয়াসিন তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামের ঝিনাইদহের ১১ জন নিখোঁজ রয়েছে। অর্থাৎ এটা ফ্রি ফর অল হয়ে গেছে। কোথাও কোনো জবাদিহিতা নেই। মানুষ তুলে নিয়ে মেরে ফেললে কোনো জবাব দিতে হয় না। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনার জন্য আগে সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেসনোট দেওয়া হতো। এখন এই প্রথা চলে গেছে।

২০ দলীয় জোটের মহাসচিব পর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাময়াতের ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মঞ্জুুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টি (জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির রেদওয়ান আহমেদ, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, ন্যাপের এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, লেবার পার্টি শামসুদ্দিন পারভেজ, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, ইসলামিক পার্টির আবুল কাশেম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন সাউদ, পিপলস লীগের সৈয়দ মাহবুব হোসেন, ন্যাপ-ভাসানীর গোলাম মোস্তফা, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সাম্যবাদী দলের এসএম হানিফুল কবীর, ডিএল‘র মতিউর রহমান, ইসলামী ঐক্য জোটের মাওলানা আবদুল করিম, জমিয়তে ওলামার মুহিউদ্দিন ইকরাম প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ