ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বালুর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে যমুনা তীরের হাজার হাজার একর জমি

এমএ জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে: বালুর আস্তরণে ঢাকা পড়েছে শাহজাদপুরের যমুনা তীরের হাজার হাজার  একর ফসলী জমি।
এ বছর বন্যায় প্রবল স্রোতে যমুনা নদী থেকে নির্গত বালু ভেসে যমুনা তীরের ৩টি ইউনিয়নের হাজার হাজার একর ফসলী জমি আস্তরণে ঢেকে গেছে। যার ফলে প্রধান চাষাবাদ ইরি-বোরো হুমকী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরজমিনে ঘুরে, যমুনা অববাহিকার এসব ফসলী মাঠ চাষাবাদেও অনুপযোগী বলেই মনে হয়েছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী কৈজুরী, গালা, জালালপুর ইউনিয়নের কয়েক হাজার একর জমিতে ৩/৪ ফুট গভীর হয়ে বালুর আস্তরণ পড়েছে যার ফলে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। এ বছর বন্যায় শাহজাদপুরের প্রায় ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ফসলের ক্ষয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্রে জানা গেছে। যার কারণে আসন্ন ইরি-বোরো চাষাবাদ বালুর আস্তরণ পড়ার কারণে ব্যাহত হওয়ার  আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতি বছর বন্যার পরে যমুনা তীরবর্তী ফসলী জমির মাঠ বালুর আস্তরণে ঢেকে গেলেও  এ বছর আরও বেশি আস্তরণ পড়েছে। শাহজাদপুর উপজেলা নিম্নাঞ্চল হওয়ায় বছরে ইরি- বোরো, রবি সরিষার চাষাবাদ ছাড়া অন্য কোন চাষাবাদ সম্ভব হয়না। তাই কৃষকদের চাষাবাদ বছরে দুইবার করে কৃষিখাতে খুব সাফল্য দেখাতে পারছে না।
এ ছাড়াও ইরি ধান ঘরে তোলার আগেই বন্যার পানিতে ভেসে যায়। অপরদিকে যমুনা নদীর ভাঙনে কয়েক হাজার ফসলী জমি কয়েক বছওে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে বালুর আস্তরণ দেখে কৃষকদের যেন মাথায় হাত। ফলে বন্যার পানি নেমে গেলেও গভীর বালুর আস্তরণ সরাতে না পেরে চাষাবাদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যাপারে জামিরতা গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম জানান, তাদেও জমিগুলো যমুনা তীরবর্তী হওয়ায গভীন ঘনফুট বালুর আস্তরণে পুরো জমি ঢেকে গেছে। মাষকালাই, খেসারী ডাল রোপণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া রবি শস্য, ধান রোপণ করা তো সম্ভব হবে না। যমুনা তীরের কৃষকদের হতাশা যেন কমছেই না প্রতি বছর বন্যার পানি এলেই কৃষকদের মধ্যে হতাশা চলে আসে। এসব বালু দ্রুত সরাতে না পারলে চাষাবাদ করতে ব্যর্থ কৃষকদেও অনাহারে অনাদারে দিন কাটাতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ