ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সমস্যার অন্ত নেই

খুলনা অফিস: খুলনার তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি দীর্ঘদিন পর আবারও অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। ডাক্তার স্বল্পতার কারণে ভর্তিকৃত ও বহিরাগত রোগীদের দুর্ভোগের অন্তঃ নেই। কিছুদিন ধরে একজন মাত্র দুই জন ডাক্তার পার্ট টাইম সেবা প্রদান করেছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার না থাকায় সেবা বঞ্চিত হয়ে চিত্রা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা চম্পার স্বামী এস এম আসাদুজ্জামানের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। তিনি গত ১৫ অক্টোবর রাতে হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। ঐদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ডাক্তার ছিল না। একজন সেবিকা তখন দাঁত মাজন করছিলেন। তাকে কয়েকবার বলার পর তিনি আসাদুজ্জামানকে দেখতে আসেন। তিনি মেডিকেল অফিসার নন ফলে কোন চিকিৎসাও দিতে পারেননি। পরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা চম্পার ভাগ্নের (মেডিকেল অফিসার) সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে প্রেসক্রিপশন নিয়ে ওষুধ কিনতে গেলে অধ্যক্ষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদসহ ১৫ জন ডাক্তারের পদ রয়েছে। তদস্থলে এখানে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও একজন গাইনী কনসালটেন্ট কর্তব্যরত ছিলেন। পরে আরেকজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করেন। আবাসিক ভবন জরাজীর্ণ হওয়ায় সকলেই খুলনা থেকে আসা-যাওয়া করেন। ফলে রাতের বেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিকৃত রোগীরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। বহিরাগত রোগী এলেও একই অবস্থা।
অপরদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভর্তিকৃত রোগীদের খাবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা নাটক চলে এলেও এখন পর্যন্ত তার কোন সুরাহা হয়নি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। রোগীদের চারদিন গোশ্ত দেয়ার কথা থাকলেও তার পরিবর্তে মাত্র একদিন পোল্ট্রি মুরগীর গোশ্ত দেয়া হয়। তাও সিচের আকার খুবই ছোট। আবার দিনে রোগী ভর্তি ১০ জন থাকুক আর ২০ জন থাকুক ডাক্তারদের চাপ প্রয়োগ করে প্রতিদিন ৩১জন রোগীর খাবারের তালিকায় স্বাক্ষর নেয়া হয়। সাধারণ রোগীদের ক্ষেত্রে এমনি অনিয়ম ও অবহেলা করা হচ্ছে। এসব বিষয় নিয়েও কারো কোন মাথাব্যথা নেই। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে এক্স-রে মেশিনটি। টেকনিশিয়ানও নেই, প্যাথলজি আছে-প্যাথলজিস্ট নেই, আলট্রাসনো মেশিন আছে- এক্সপার্ট নেই, ডেন্টাল যন্ত্রপাতি আছে- ডেন্টিস্ট নেই, অপারেশন থিয়েটারে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি নেই, এম্বুলেন্সটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, মেরামতের উদ্যোগে নেই। মেডিকেল অফিসার ১৫ জনের স্থলে আছে তিনজন। অন্য দুইজন ডাক্তার ইতোপূর্বে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে তেরখাদা ত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সব সময় অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। অন্য ডাক্তাররা আসেন খুলনা থেকে। এখানে ৯ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও ৪ জনের পদ শূন্য রয়েছে। বহুবিধ সমস্যা বিদ্যমান থাকলে কিভাবে তেরখাদা উপজেলার এই অবহেলিত জনপদের মানুষ কাক্সিক্ষত সেবা পাবে? তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি এখন নিজেই রোগী হয়ে পড়েছে এমন মন্তব্য করেন তেরখাদার সকল শ্রেণি ও পেশার লোকেরা।
এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনা খাতুন জানান, ডাক্তার স্বল্পতা রয়েছে অনেকদিন থেকে। যারাই আছেন তারা বাসযোগ্য বাসভবন না থাকায় এখানে থাকতে চান না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ