ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনার তেরখাদায় জোবার মাটি জ্বালানি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে

খুলনা অফিস : খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুরের কোলা বাসুখালী বিলের জোবা মাটি জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
সেখানকার মানুষ শুষ্ক মৌসুমের চার মাস এ মাটি সংগ্রহ করে। নিম্নবিত্ত পরিবারের বেশিরভাগ মানুষ এ মাটি বিক্রি করে আসছে। এখানকার জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
খুলনা মহানগরীর ১৪ কিলোমিটার দূরে কোলা বাসুখালী বিলের অবস্থান তেরখাদা উপজেলা এলাকায়। মধুপুর ইউনিয়নের কোলা বাসুখালী বিল জুড়ে জোবা মাটি।
সেখানকার মানুষ জৈব সার হিসেবেও এ মাটি ব্যবহার করে। জ্বালানী ও সারের ব্যবহারের কারণে অর্থনৈতিকভাবে এ মাটির গুরুত্ব বেড়েছে।
হরহামেশা উত্তর মোকামপুরের চায়ের দোকানীরা জ্বালানী হিসেবে জোবা মাটি ব্যবহার করছে।
মধুপুর ইউনিয়নের প্রমোদনগর গ্রামের কৃষক গোপীনাথ বিশ্বাস জানান, শুষ্ক মৌসুমে কোলা বিলে মাটি খুঁড়ে জোবার মাটি পাওয়া যায়। এ মাটি নিয়ে এসে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
নয়াবারাসাত শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নবীর হোসেন জানান, চৈত্র-আষাঢ় মাস পর্যন্ত কোলা মৌজায় প্রচুর পরিমাণে জোবার মাটি পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা এসব সংগ্রহ করে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করে।
এতে স্থানীয়দের জ্বালানীর চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নয়াবারাসাত গ্রামের গৃহিনী তবেলা বেগম, আয়শা বেগম ও মনিরা বেগম জানান, শুষ্ক মৌসুমে জোবার মাটি সংগ্রহ করা হয়।
এই মাটি শুকিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়।
এতে জ্বালানী কেনার প্রয়োজন হয় না।
মধুপুর গ্রামের ইটভাটার শ্রমিক রুহুল আমিন বলেন, ইটভাটার মাটি কাটার সময়ে নদীর পাশ দিয়ে অনেক সময়ে জোবা মাটি পাওয়া যায়।
এগুলো সংগ্রহ করে বস্তায় রেখে আমরা অনেক সময়ে বিক্রি করি। স্থানীয়রাসহ অনেকে চায়ের দোকানীরাও এ মাটি ক্রয় করে।
জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৬৫ সালে উত্তর মোকামপুর সংলগ্ন কোলা বিলে পিট কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়।
পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে ও বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর পর তিন দফা এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।
আর্থিক সংকটের কারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কোন রূপ অগ্রগতি হয়নি বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ