ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ধর্ষণ মামলা!

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা : জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দায়েরকৃত গণধর্ষণ মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে উখিয়ার তেলখোলা গ্রামবাসী গত শুক্রবার থানায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ সময় উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ উভয়পক্ষের নিয়ে ঘটনাস্থল তেলখোলায় বৈঠক করে উদ্ভট পরিস্থিতির সমাধান দেয়ার আশ্বস্ত করলে গ্রামবাসী দুপুর ২টার দিকে থানা কম্পাউন্ড ত্যাগ করেন। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় সাধারণ জনমনে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।
মামলার সূত্রে জানা যায়, তেলখোলা গ্রামের সবিন্ন কারবারীর ছেলে চিংকিউ চাকমার দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় ৪০ শতক পিএফ জমি জবর দখল করার অপচেষ্টা করে আসছিল একই গ্রামের রংচাউ চাকমার ছেলে ক্যানচাপু চাকমা। ইতিমধ্যে ক্যানচাপু চাকমা তার বসতভিটায় হামলা চালিয়ে প্রায় লক্ষাধিক টাকার মূল্যবান গাছগাছালি কর্তন করে বাড়িঘর ভাংচুর করার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে একটি বিচার দায়ের করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরেজমিন ঘটনাস্থল তদন্ত করে চিংকিউ চাকমাকে রায় প্রদান করে একটি সালিশনামা প্রদান করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ক্যানচাপু চাকমা তার মেয়ে লাছিংমে চাকমা (২২)কে বাদী করে চিংকিউ চাকমার ছোট ভাই প্রদীপ চাকমা (৪১) ও মংপু চাকমা (৫৭)সহ ৪ জনকে আসামী করে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিলে ওসি তদন্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনা নিয়ে এলাকার বর্তমান ইউপি সদস্য তোফাইল আহমদ, সাবেক মেম্বার মানিক চাকমা, সাবেক মেম্বার কবির আহমদ, হেডম্যান, কারবারি, চৌকিদার ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজন গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে উখিয়া থানায় এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে উক্ত ধর্ষণ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জানতে চাওয়া হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো: কায়কিসলু জানান, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল খায়ের জানান, যেহেতু জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে গণধর্ষণের মামলাটি করা হয়েছে তাই সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষদের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যপ্রমাণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজন বশত: আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ