ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া দেশে আর কেউ ব্যবসা করতে পারছে না -আমীর খসরু

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের লোকজন ছাড়া দেশের সাধারণ জনগণ ব্যবসা-বাণিজ্য করার সুযোগ পাচ্ছেন না  বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, এমন একটা অবস্থার সৃৃষ্টি হয়েছে যে, পেশাজীবীরা বলছেন তারা কাজ করতে পারছেন না। এমনকি ছাত্ররা লেখাপড়া পর্যন্ত করতে পারছে না।
গতকাল রোববার প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বিএনপির সিনিয়র  নেতা মরহুম আ স ম হান্নান শাহ’র স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। জিয়া পরিষদের উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, আজকে ব্যবসা-বাণিজ্যে জনগণের অংশগ্রহণ নেই, এর কারণ হলো একটি গোষ্ঠীর কারণে জনগণ ব্যবসা করতে পারছে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আমাদের কাছে ব্যবসায়ীরা এসে বলছেন আওয়ামী লীগের লোকজনের কারণে তারা ব্যবসা করতে পারছেন না, পেশাজীবীরা বলছেন তারা কাজ করতে পারছেন না, ছাত্ররা লেখাপড়া করতে পারছে না, চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে পারছেন না।
এসময় দেশের হারানো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নেতা-কর্মীদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে পেশাজীবী ও ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় জাতি যে  সংকটের মধ্যে আছে এই সংকট আরো বৃদ্ধি পাবে। আর ওই সংকট থেকে আওয়ামী লীগও রক্ষা পাবে না।
বিএনপির এ নেতা আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কার্যালয়ে ব্যানার লাগানো হয়েছিল, সেখানে লেখা- শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র, উন্নয়নের গণতন্ত্র। সত্যিকার অর্থে দেশে গণতন্ত্র নেই। এমন গণতন্ত্রের উন্নয়ন আমরা আয়ুব খানের আমলে দেখেছি। আজকে জনগণের ভোটের অধিকার, আইনের শাসন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে বলা হচ্ছে উন্নয়নের গণতন্ত্র, কিন্তু উন্নয়নের নামে দেশে লুটপাট হচ্ছে। গণতন্ত্র বিহীন কোনো দেশে টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে কোনো সরকার বেশি দিন টিকে থাকতে পারেনি।
আমীর খসরু অভিযোগ করেন, সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশের আমানত বাড়ছে, কানাডা, মালয়েশিয়া, দুবাই, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশীদের সম্পদ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটা উন্নয়নের আরেক রূপ!
জনগণের নাগরিক অধিকার নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু বিএনপি নয়, সবাইকে এগিয়ে এসে গণতন্ত্র, ভোট ও নাগরিকদের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। হান্নান শাহ গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই করে গেছেন, সেই পথকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি  অবশ্যই অংশ নেবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা থাকতে পারবে না। তাকে সরে যেতেই হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নেব এই ভেবে সরকারের মাথা গরম হয়ে গেছে। তবে যে যাই বলুক, আগামীর সরকার বিএনপির সরকার। আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
এসময় আগামী নির্বাচনে কেউ জনগণের ভোট কারচুপি করতে গেলে তাদের ঠ্যাং ভেঙ্গে ফেলারও হুঁশিয়ারি দেন বিএনপির এই নেতা।
জিয়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা কবীর মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা প্রফেসর আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্যা নেতাকর্মীরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ