ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ হবে। তবে তা এখনই নয়। যখন প্রয়োজন মনে করা হবে, বিএনপির সঙ্গে তখনই সংলাপের আয়োজন হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি একটি বিশাল রাজনৈতিক দল। আমি বিএনপিকে তাচ্ছিল্য করছি না। কিন্তু বিএনপি আন্দোলনেও ব্যর্থ হচ্ছে, নির্বাচনেও ব্যর্থ হচ্ছে। মূলত তাদের ভয় গ্রাস করেছে। তারা ভয়কে জয় করতে পারছে না। কেন তারা এই ভয়কে জয় করতে পারছে না, সেটিই আমার প্রশ্ন।
গতকাল রোববার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত সংলাপে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম শামীম চৌধুরী,সচিবালয় সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি শ্যামল সরকার, সেক্রেটারি সিদ্দিকুর রহমান  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া সংলাপের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তখন বিএনপির অনীহার কারণে সংলাপ হয়নি। গত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু তিনি ওই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বরং দুর্ব্যবহার করেছেন। আরেকবার আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। বিএনপির এই আচরণগুলো সংলাপের জন্য সহায়ক নয় বলেও মন্তব্য করেন কাদের।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গণতন্ত্র বিশ্বাস করবো কিন্তু সংলাপকে বিশ্বাস করবো না এটা তো হতে পারে না। সংলাপ আমিও চাই প্রয়োজন হলে সংলাপ করবো । তবে এ মুহূর্তে সংলাপের প্রয়োজন নেই।
আওয়ামী লীগ নেতা আরো বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচনে অবশ্যই বিএনপি অংশ নেবে। আগের মতো বিএনপি আর ভুল করবে না বলে মনে করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, কেননা ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ তাদেরও আছে। এ কারণেই তিনি মনে করেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার থেকে দলকে আলাদা করার একটা জোর প্রয়াস চলছে। তাই এবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীতে মন্ত্রীদের রাখা হয়নি। তবে নিজে দলের পদ ও মন্ত্রিত্ব দুটিই ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেক মন্ত্রীকে সম্পাদকমন্ডলীতে দলীয় প্রধান (শেখ হাসিনা) রাখেননি। মন্ত্রীদের অনেক কাজ, তাদের পক্ষে দলে সময় দেওয়া অনেক কঠিন।
সরকার ও দল আলাদা করার প্রশ্ন যদি আসে, তাহলে কোন পদ বেছে নেবেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে, যে পারে সব পারে। আমি রাস্তা দেখতে গিয়ে আওয়ামী লীগকে দেখব এবং আওয়ামী লীগকে দেখতে রাস্তা দেখব। আমার সমস্যা হওয়ার কথা না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে ওঠেন। আমি তাকে অনুসরণ করি। কেউ ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠলে সকাল ১০টার মধ্যে আর কাজ খুঁজে পাবেন না। আমি ১০টার মধ্যে কাজ শেষ করে রাস্তায় বের হয়ে যাই। আমাকে আরও কোনো কাজ দিলেও করতে পারব।
সাংবাদিকেরা জানতে চান, দলের এখনকার দুর্বলতাগুলো কী? তিনি বলেন, ‘দুর্বলতা সমস্যা তো আছেই। বড় দল বড় পরিবার, ছোটখাটো মনোমালিন্য আছে, কিছু আবর্জনা ঢুকে গেছে। তাই নানা জায়গায় ঝামেলা হচ্ছে। তাদের বলে দেওয়া হয়েছে সংশোধন করতে।
দুর্বল বিরোধী দল নিয়ে নিজেরা শক্তিশালী হতে পারবেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসেনি বলেই তো এ রকম হয়েছে। জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। তা আমরা অস্বীকার করব কীভাবে।’
বিএনপিকে ভবিষ্যতে নির্বাচনে আনার বিষয়ে কাজ করবেন কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসবে, ভালোভাবেই আসবে। আগের ভুল আর করবে না। না আসলে যেভাবে চলছে এভাবেই চলবে। দেশ চালাবার খায়েশ কি তাদের নেই। তাদের অনেকের তো রাতের ঘুম হারাম। একদিকে তরুণদের ধাক্কা, অন্যদিকে অন্য ধাক্কা।
নির্বাচন কমিশন গঠনে বিএনপি সহায়তা করতে চাইলে নেবেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে এভাবেই হবে। এখানে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে জাতির প্রয়োজনে যদি কোনো সংলাপ প্রয়োজন হয়, তাহলে সংলাপ করব।
দলের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার যতটা শক্তিশালী, দলকেও অতটা শক্তিশালী করতে চাই, তাহলে ভালো ভারসাম্য থাকবে। উন্নয়ন দ্রুততর হবে।
সব জঙ্গি হামলা মোকাবিলা একটা বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সন্ত্রাসবাদ একটা বড় চ্যালেঞ্জ, সরকারের জিরো টলারেন্স এবং ত্বরিত ব্যবস্থার কারণে তারা দমে গেছে। তবে সন্ত্রাস বিদায় নিয়েছে এমন আত্মসন্তোষের সুযোগ নেই। এটা সাময়িক ব্যাপার, হয়তো আরও বড় হামলার জন্য তলে তলে প্রস্তুতি নিচ্ছে জঙ্গিরা। বড় হামলাও আসতে পারে। কারণ, নীরবতা ঝড়ের পূর্বলক্ষণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ