ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

২৩৬৭ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতির স্থগিতাদেশ বেড়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিতের মেয়াদ আরো দু’সপ্তাহ বাড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর আগে গত ৯ অক্টোবর আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার জজ ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দিয়ে নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এই ২৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধা ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ), কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়ন সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য।
গতকাল রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ স্থগিতাদেশ বৃদ্ধির এই আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
আদালতে সরকার পক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ঊর্মি রহমান।
এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তালিকা প্রকাশের দিন (২০১৩ সালের ২২ জুলাই) থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধাকে সুযোগ-সুবিধা দিতে বলা হয়। বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় দেন। এরপর সরকার পক্ষে রায় স্থগিতের আবেদন করা হলে চেম্বার জজ গত ৯ অক্টোবর হাইকোর্টের রায় ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত করেন। যা গতকাল রোববার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসলে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো দু’সপ্তাহ বৃদ্ধি করলেন।
২০১৩ সালের ২২ জুলাই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে গেরিলা বাহিনীর ২ হাজার ৩৬৭ জন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রকাশ করে। গেরিলা বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার ও ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য কমরেড মণি সিং ও অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের নাম ছিল। তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ওই তালিকার প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের বিশেষ গেরিলা বাহিনীর এই তালিকা বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই বছরের ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করেন। তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপন কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। একই সঙ্গে তালিকা বাতিলের ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারীতা স্থগিত করা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট ৮ সেপ্টেম্বর (গতকাল) রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। এর ধারাবাহিকতায় আদালত রায় ঘোষণা করলেন।
রায়ের পরে রিটের আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বলেছিলেন, গেরিলা বাহিনীর তালিকা বাতিলের প্রজ্ঞাপনটি অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। ফলে ২০১৩ সালের ২২ জুলাই গেরিলা বাহিনীর যে তালিকা করা হয়েছিল, তা বহাল রইলো। তালিকা বাতিলের দিন থেকে এসব মুক্তিযোদ্ধাকে যাবতীয় সুবিধা ও পাওনা নিশ্চিত করতে বলেছেন আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ