ঢাকা, সোমবার 31 October 2016 ১৬ কার্তিক ১৪২৩, ২৯ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চিরিরবন্দরে বেড়েই চলছে ধূমপায়ীর সংখ্যা

চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : প্রকাশ্যে ধূমপান করলে জরিমানা করার আইন থাকলেও প্রয়োগ না থাকায় দিন দিন চিরিরবন্দরে বাড়ছে ধূমপায়ীর সংখ্যা। ধূমপানের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির পাশাপাশি ঘটছে সামাজিক অবক্ষয়ও। এছাড়া চিরিরবন্দরে মাদকসেবীদের সংখ্যা বাড়ার ক্ষেত্রে ধূমপানকেই দায়ী করছেন সচেতন লোকজন।
উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন হোটেল, যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা, ভটভটি ,ভ্যান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এমনকি উপজেলা হাসপাতালসহ জনবহুল স্থানে হরহামেশাই চলছে ধূমপান। ধূমপায়ীদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সাধারণ লোকজন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও নানা শ্রেণী পেশার লোকদের দেখা যায়। এতে শুধু ধূমপায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না বিরক্তিসহ নানা সমস্যায় পড়েছেন অন্যরা। প্রকাশ্যে ধূমপানের চিত্র দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি বে-আইনি একটি কাজ।
সচেতন লোকজন বলছেন, ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যা সবার জানা। এছাড়া এই ধূমপানের কারণে সামাজিক অবক্ষয় হচ্ছে এবং বাড়ছে মাদক সেবির সংখ্যা। কারণ বেশিরভাগ মাদকে ধূমপানের ব্যবহার রয়েছে তাই ধূমপানই হচ্ছে মাদক সেবনের প্রাথমিক ধাপ। প্রশাসনের কাছে তাদের প্রশ্ন আইন থাকলেও কেন এই বেআইনি কাজটি থামছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকসেবী এক যুবক জানান, ক্লাস নাইন থেকে বাবার ফেলে দেয়া সিগারেটের অবশিষ্ট অংশ নিয়ে ধূমপানের অভ্যাস শুরু। পরে ধূমপায়ী বন্ধুদের সাথে থেকে পেশাদার ধূমপায়ী হয়ে যাই। ধূমপান থেকে গাঁজা এবং বর্তমানে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতে হয় তাকে।
চিরিরবন্দরের সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র জুয়েল জানান, বাসে, অটোরিকশা বা ভ্যানে যাতায়তের সময় অনেক লোকজন ধূমপান করে। এমনকি ভ্যানসহ সব চালকদেরও দেখা যায় ধূমপান করতে। ফলে বদ্ধ যানবাহনে খুব বেশি অস্বস্তি লাগে। যা খুবই বিরক্তিকর।
এসব লোকদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হলে এই অপরাধ কমতে পারে। তবে অনেক সময় সম্মানী ব্যক্তিদেরও এই কাজ করতে দেখা যায়। তাদেরও সচেতন হওয়া দরকার সমাজকে ধূমপান মুক্ত করতে। মাদকবিরোধী ও মানবসেবা  এক সংগঠনের সভাপতি জানান, সিগারেট কোম্পানিগুলোর কূট কৌশলের কারণে ধূমপায়ীর সংখ্যা বাড়ছে। তিনি প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন যাতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তাই সচেতন মহল ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারীদের সহযোগিতা চেয়েছেন ধূমপান মুক্ত উপজেলা নির্মাণে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ