ঢাকা, মঙ্গলবার 01 November 2016 ১৭ কার্তিক ১৪২৩, ৩০ মহররম ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

৫ টাকা এবং ২ টাকার ধাতবমুদ্রা নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা

ইবরাহীম খলিল : ৫ টাকা এবং ২ টাকার ধাতবমুদ্রা নিয়ে বিপাকে গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫ এবং ২ টাকার ধাতবমুদ্রা দোকানীরা নিতে চান না। আর ১ টাকার ধাতব মুদ্রা ভিখারীরাও নিতে চান না।  দোকানীরা বলছেন, কোন কোম্পানির লোকজনও এসব মুদ্রা নিতে চান না। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে এসব মুদ্রা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। আর কোম্পানির লোকজনের বক্তব্য হচ্ছে ব্যাংকের লোকজনের কাছে মুদ্রা নিয়ে গেলে বিরক্ত বোধ করেন। না নেয়ার জন্য নানা অজুহাত দেখান। ফলে তারাও দোকানদারের কাছ থেকে খুচরা মুদ্রা নেন না। আর খুচরা কয়েন না নেওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো- পকেটে রাখা যায় না। আর পকেটে রাখলেও পড়ে যায়। এছাড়া ধাতবমুদ্রা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও অবমূল্যায়ন বেশি। ১শ’ টাকার মুদ্রা দিলে পাওয়া যায় কাগজের ৭০ টাকা।
শখ করে কুমারের কাছ থেকে মাটির ব্যাংক কিনে ২ হাজার টাকার ৫ টাকা আর ২ টাকার কয়েন জমা করেছিলেন মুগদাপাড়ার গৃহবধূ মারুফা খাতুন।  ব্যাংকটি যখন ভরে যায় তখন ব্যাংকটি ভেঙ্গে দেখেন ২ হাজারের কিছু বেশি টাকা জমা হয়েছে। মনের আনন্দে ৫০ টি ৫ টাকার ধাতবমুদ্রা নিয়ে মেয়ের জন্য দুধের প্যাকেট কিনতে যান। কিন্তু দোকানে গিয়ে এই মুদ্রা নিয়ে পড়েন বিপাকে। কোন দোকানী  নিতে রাজি হচ্ছেন না। ধাতবমুদ্রার বিনিময়ে দুধ দিতে রাজি হচ্ছেন না কোন দোকানী। কয়েকটি দোকান ঘুরে মহা বিরক্তি নিয়ে বাসায় ফিরেন।
গৃহবধূ মারুফা খাতুন জানান, দোকানীদের বার বার অনুরোধ করেও কোন কাজ হয়নি। তারা কোনভাবেই এই মুদ্রা নিতে রাজি হননি।
দোকানীদের বক্তব্য এসব মুদ্রা অনেক জমা হলে কেউ নিতে চান না। যাদের কাছ থেকে পণ্য কেনা হয়। বিশেষ করে কোম্পানিগুলোর লোকজন, এমনকি ব্যাংক পর্যন্ত এসব মুদ্রা নিতে চান না। কথা হয় মুগদাপাড়ার দোকানী কবির হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ১ টাকা, ২ টাকা এবং ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা না নেয়ার কারণ। বললেন, আমরা যদি কাজে না লাগাতে পারি তাহলে কেন এগুলো নেবো। বলতে পারেন এসব মুদ্রা নিয়ে আমরা রীতিমত বিপাকে। কারণ কোন কোম্পানির লোকজন বোঝার কারণে নিতে চান না। এমনকি ব্যাংকের লোকজন পর্যন্ত ধাতবমুদ্রা নিতে নারাজ। আর ধাতবমুদ্রা দিয়ে কাগুজে টাকা নিতে গেলে ১০০ টাকার ধাতব মুদ্রার পরিবর্তে পাওয়া যায় কাগুজে ৭০ টাকা।
দোকানী কবির হোসেনের কথার সত্যতা পাওয়া গেল আশপাশের কয়েকটি দোকানে খোঁজ নিয়ে। দোকানীরা জানান, কোম্পানির লোকজনকে ধাতবমুদ্রা দেওয়া নিয়ে মারামারি পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই তারা ধাতব মুদ্রা নিতে রাজি না।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ব্যাংক ১, ২ ও ৫ টাকার ধাতব মুদ্রা এবং ২ টাকার কাগজের নোট জমা দিতে গেলে নানা অজুহাত তুলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ফলে দুর্ভোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মহাবিপাকে পড়েছেন খুচরা দোকানীরা।
একারণে অনেক ব্যবসায়ী ক্রেতাদের দেয়া ১,২ ও ৫ টাকার ধাতবমুদ্রা এবং ২ টাকার কাগুজে নোট নিতে চাইছেন না। এ অবস্থায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে বাকবিতার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। তাদের অভিমত একেতো ধাতবমুদ্রা তাদের জন্য বোঝা। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো ধাতবমুদ্রা নিতে রাজি হয় না।  দোকানীদের  কথার সত্যতা জানতে এই প্রতিবেদক যান স্থানীয় জনতা ব্যাংকের শাখায়।
রাজধানীর মুগদাপাড়ার ব্যাংকের শাখাগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল, লোকজন ব্যাংকে কেবল ধাতবমুদ্রা জমা দেয়ার জন্য  নিয়ে আসে। কেউ নিতে আসেন না। ধাতবমুদ্রা নিয়ে আমরা নিজেরাও বিপাকে। 
২০১৫ সালে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে ধাতবমুদ্রা গ্রহণ করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে বলা হয়, জনসাধারণের স্বাভাবিক লেনদেনের স্বার্থে প্রতিটি শাখায় ১, ২ এবং ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রার প্রতিটির ন্যূনতম ১০ হাজার পিস করে সংরক্ষণ করতে হবে। স্থানীয় বড় শাখাকে বর্ণিত সংখ্যার তিন গুণ অর্থাৎ প্রতিটি মূল্যমানের ৩০ হাজার পিস করে ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণ করতে হবে। কিন্তু এর সত্যতা পাওয়া গেল না মাঠ পর্যায়ে।
ধাতব মুদ্রার বিড়ম্বনা নিয়ে তুরাগ বাসের হেলপার রবিউল জানান, যাত্রীরাও ৫ টাকার ধাতবমুদ্রা নিতে চান না। আর পকেটে থাকা ধাতবমুদ্রা পড়ে যায়। বাধ্য হয়ে ধাতবমুদ্রা দিয়ে কাগজের টাকা নিতে হয়। এতেও আরেক সমস্যা। ১০০ টাকার ধাতবমুদ্রা দিলে ৭০ টাকা পাওয়া যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ