ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভাষাসৈনিক শিক্ষাবিদ সোলায়মান খান স্মরণে আলোচনা সভা

ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার উদ্যোগে চট্টগ্রামের কৃতীসন্তান প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী ভাষাসৈনিক অধ্যাপক সোলায়মান খান এর মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে এক আলোচনা সভা ২২ অক্টোবর, শনিবার দুপুরে বহদ্দারহাটস্থ মেরিট বাংলাদেশ কলেজের ভাষাসৈনিক মাওলানা হাসান শরীফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। ভাষা আন্দোলন স্মৃতিরক্ষা পরিষদের সভাপতি ইতিহাস গবেষক সোহেল মুহাম্মদ ফখরুদ-দীন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও পরিস্থিতি ২৪ডট কম এর যুগ্ম সম্পাদক নুরু মোহাম্মদ রানা। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ মোহাম্মদ মুছা কলিম উল্লাহ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম জেলা স্কাউটস এর সাধারণ সম্পাদক এস.এম শাহনেওয়াজ আলী মির্জা, মোহাম্মদ ফারুক, অমর কান্তি দত্ত, সৈয়দ শিবলী সাদিক কপিল, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, চাটগাঁ সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহেল তাজ, নজরুল ইসলাম, কবি মাহমুদ নয়ন, রাজীব দত্ত, উদয়ন বড়–য়া, এডভোকেট খায়ের আহমেদ প্রমুখ। সভায় ভাষাসৈনিক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সোলায়মান খান এর মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা আবদুল করিম। সভায় বক্তারা বলেছেন, মাতৃভাষা বাংলা আন্দোলনে সূচনালগ্নে ভাষাসৈনিক অধ্যাপক সোলায়মান খান এর অবদান অপরিসীম। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্থপতি অধ্যক্ষ আবুল কাসেম এর সাথে ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা প্রকাশণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অধ্যাপক সোলায়মান খান খেলাফত রব্বানী পার্টির প্রথম আহবায়ক ও পরে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৩ সালে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে নির্বাচন সংগ্রামে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রাম লাইট কলেজে শিক্ষকতাকালীন সময়ে তিনি চট্টগ্রামে তমদ্দুন মজলিসের সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পালন করেন। আজকের দিনে অনেক বাঘাবাঘা রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ ভাষাসৈনিক সোলায়মান খান এর কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। ক্ষণজন্মা এই মহাপুরুষ চন্দনাইশ উপজেলা বরকল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৫ সালে কলকাতা থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পথে রাজবাড়ির অদূরে গোয়ালন্দের মাঝখানে চলমান ট্রেনে সোলায়মান খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরের দিন তাঁকে গোয়ালন্দ হতে অনতিদূরে উজান চর নাজিরুদ্দিন হাই স্কুলের সম্মুখে কবরস্থানে দাফন করা হয়।                     
 -উদয়ন বড়ুয়া

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ