ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

কথাশিল্পী নজিবর রহমানের ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকীপালন ও গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

বাংলা কথাসাহিত্যের অমর শিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্বের ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন ও তাঁর উপর রচিত ৩টি গবেষণামূলক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষ্যে গত রোববার গণগ্রন্থাগার অধিদফতরের সেমিনার কক্ষে (শাহবাগ, ঢাকা) ‘নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন একাডেমি’ ও ‘জাতীয় গ্রন্থ প্রকাশন’-এর যৌথ উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির সভাপতি প্রফেসর ডক্টর আনিসুজ্জামান, এমিরিটাস অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক-গবেষক আবুল কাশেম ফজলুল হক, সাহিত্যিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আলী ইমাম, কথাশিল্পী প্রফেসর অনামিকা হক লিলি। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জনপ্রিয় ইতিহাসবিদ মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ আব্দুল হান্নান, ডক্টর এম.এ. সবুর এবং লেখকের নাতি মোহাম্মদ গোলাম আম্বিয়া। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে অনন্য কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতেœর জীবন ও সাহিত্য সম্পর্কে আলোচনা ও তাঁর উপর মুহম্মদ মতিউর রহমান রচিত ও সম্পাদিত নিম্নোক্ত তিনটি গ্রন্থ ঃ ১. অমর কথাশিল্পী মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরতœÑজীবন ও সাহিত্য, ২. নজিবর রহমান রচনাবলী, প্রথম খ- (সম্পাদিত) ও ৩. নজিবর রহমান রচনাবলী, দ্বিতীয় খ- (সম্পাদিত) ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, নজিবর রহমান বাংলা সাহিত্যর সার্থক কথাশিল্পী। তিনি যে সময়ে সাহিত্য চর্চ্চা শুরু করেন, তখন বাঙালী মুসলিম সমাজ রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে অধপতিত অবস্থায় ছিল। তিনি শিক্ষা দান ও সাহিত্য সৃষ্টির মাধ্যমে স্বজাতিকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সময় অতিবাহিত হবার সাথে সাথে সমাজ তাঁকে অনেকটা বিস্মৃত হতে বসেছে। এমনকি, তাঁর রচিত জনপ্রিয় গ্রন্থসমূহও আজ খুঁজে পাওয়া যায় না। সম্প্রতি মুহম্মদ মতিউর রহমান তাঁর জীবন ও সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করে তাঁর রচিত ছয়টি উপন্যাস একত্রে প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করে বিস্মৃতপ্রায় এ লেখকের প্রতি সকলের সাগ্রহ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এ কাজের মাধ্যমে নজিবর রহমান এর সাহিত্যকর্ম ও অতীতের বাংলা সাহিত্যকে সতুনভাবে জানার সুযোগ হলো। এটা এক বিশাল কাজ, এ জন্য আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
প্রফেসর আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, গত বছর প্রতিষ্ঠিত     ‘নজিবর রহমান সাহিত্যরতœ একাডেমি’ মাত্র এক বছরে লেখকের উপর একটি গবেষণামূলক পত্রিকা, কয়েকটি সেমিনারের আয়োজন করা ছাড়াও এবারে একসাথে তিনটি গ্রন্থ প্রকাশ করে সকলের বিস্ময় উৎপাদন করেছেন। এ জন্য তারা সকলের ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।
আলী ইমাম বলেন, নজিবর রহমান বাংলা সাহিত্যের এক কিংবদন্তীতুল্য জনপ্রিয় সাহিত্যিক। এক সময় তাঁর রচিত আনোয়ারা উপন্যাস শিক্ষিত বাঙালী মুসলিম পরিবারের ঘরে ঘরে পঠিত হতো। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান আনোয়ারা উপন্যাসের ভিত্তিতে অসাধারণ দর্শক নন্দিত ছায়াছবি নির্মাণ করেন। আনোয়ারা টিভি সিরিয়ালও উচ্চ প্রশংসিত হয়। কিন্তু এক সময়কার কিংবদন্তীতুল্য এ জনপ্রিয় সাহিত্যিক বর্তমানে বিস্মৃতপ্রায়। আজ তাঁর ওপর রচিত তিনটি মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে তাঁকে মূল্যায়নের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুহম্মদ মতিউর রহমান বলেন, বিগত ১৯৫৮ সাল থেকে এ খ্যাতনামা লেখকের ওপর তিনি কাজ শুরু করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে তাঁর ওপর তত্ত্ব-তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সম্প্রতি একাজটি মোটামুটি সমাপ্ত হয়েছে। নজিবর রহমানের নিজ গ্রাম চরবেলতৈলের প্রবীণ ব্যক্তিগণ, লেখকের কর্মস্থল কান্তকবি রজনীকান্তসেনের ভাঙ্গাবাড়ি, উল্লাপাড়া ও তার শেষ জীবনের বসত বাড়ি হাটিকুমরুল থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তিনি এ কাজ সম্পূর্ণ করার প্রয়াস পান। একাজে বিশেষভাবে তাকে অনুপ্রাণিত করেন তার শিক্ষক ড. গোলাম সাকলায়েন এবং তাকে মূল্যবান সহযোগিতা করেন তরুণ গবেষক মরহুম বুলবুল ইসলাম। গ্রন্থের যথাস্থানে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে তিনি কেবল প্রাথমিক কাজ সমাপ্ত করেছেন। পরবর্তী লেখক-গবেষকগণ এর ভিত্তিতে নজিবর রহমানের মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ