ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এফবিআইয়ের তদন্ত সত্ত্বেও এগিয়ে হিলারি

১ নবেম্বর, রয়টার্স : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলীয় প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ইমেইল কেলেঙ্কারি নিয়ে এফবিআই নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়ার পর তার জনসমর্থন কিছুটা কমলেও তিনি ভালোভাবেই অগ্রগামিত ধরে রেখেছেন।

গত সোমবার প্রকাশিত বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জরিপ সংস্থা ইপসোসের সর্বশেষ জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিদ্বন্দ¦ী রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন হিলারি।

২৬ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে করা এই জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা হিলারিকে ভোট দিতে পারেন; অপরদিকে ৩৯ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করতে পারেন বলে জানিয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপের ফলাফলে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন হিলারি।

তবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের করা জরিপে দেখা গেছে হিলারির অগ্রগামিতা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স দেখিয়েছে, শুক্রবার হিলারি চার দশমিক ছয় পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও সোমবার তার অগ্রগামিতা হ্রাস পেয়ে দুই দশমিক পাঁচ পয়েন্টে এসে ঠেকেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সব জরিপের ফলাফলের গড় প্রকাশ করে থাকে রিয়েল ক্লিয়ার পলিটিক্স্।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের পরিচালক জেমস কোমি এক চিঠিতে দেশটির কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, হিলারির সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে এমন নতুন অনেকগুলো ইমেইল তদন্ত করে দেখছে তাদের সংস্থা। শুক্রবার এই চিঠির কথা প্রকাশ পায়।

এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী পরিবেশের রং পাল্টানোর ইঙ্গিত পাওয়া যেতে থাকে। বিভিন্ন জরিপে হিলারির অগ্রগামিতা হ্রাস পেতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ব্যক্তিগত ইমেইল সার্ভার ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় তথ্য আদান-প্রদান করেছিলেন। তার এই ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার ও কেমনভাবে তিনি রাষ্ট্রের গোপনীয় তথ্য নিয়ে কাজ করেছেন তা আগেই একবার তদন্ত করে দেখেছিল এফবিআই।

জুলাইয়ে ওই তদন্ত শেষে কোমি জানিয়েছিলেন, গোপনীয় তথ্য নিয়ে কাজ করার সময় হিলারি ও তার সহযোগীরা ‘অত্যন্ত অসতর্ক’ ছিলেন, তবে হিলারির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ আনার মতো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৪ রাজ্যে মামলা

ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চারটি রাজ্যে মামলা করেছে ডেমোক্রেট পার্টি। এই চারটি রাজ্যের ভোটারদের ওপর অনেকটা নির্ভর করে কে হচ্ছেন নতুন প্রসিডেন্ট।

সোমবার ডেমোক্রেট দলের কর্মকর্তারা ওই চারটি রাজ্যের ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া রাজ্যগুলো হলো- পেনসিলভ্যানিয়া, নেভাদা, আরিজোনা ও ওহাইও।

এ রাজ্যগুলো সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর অন্যতম। তাই এ রাজ্যগুলো ব্যাটলগ্রাউন্ড বা রণক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত।

মামলায় বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকান দলের কর্মকর্তারা সেখানে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। রিপাবলিকানদের এ প্রচেষ্টা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে ওই মামলায়।

এতে আরো বলা হয়েছে- এমন ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ১৯৬৫ সালের ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট বা ভোটাধিকার আইন এবং ১৮৭১ ল’ ভঙ্গ করা হয়েছে।

ওহাইও রাজ্য ডেমোক্রেটিক পার্টি মামলায় লিখেছে, ভোটারদের চাপে রেখে ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণা জোরালো করতে বলেছেন। এতে সবচেয়ে তীব্র মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে তার সমর্থকদের বলেছেন অবৈধভাবে ভোটারদের ভীতি প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকতে। একই রকম ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে অন্য রাজ্যগুলোর মামলায়ও। এ বিষয়ে ট্রাম্প শিবির থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এতে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিনে যেসব স্থানে ভোট জালিয়াতি হওয়ার ঝুঁকি আছে সেসব জায়গায় মনিটরিং করতে সমর্থকদের আগস্ট থেকেই আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প।

মাঝে মাঝেই তিনি ফিলাডেলফিয়া, সেন্ট লুইসের মতো শহরে নিবিড় নজরদারির নিন্দেশ দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এসব শহরে বসবাসকারীদের বেশির ভাগই সংখ্যালঘু। ওহাইওতে নির্বাচনী প্রচারণায় হিলারি ক্লিনটন অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে যাতে লোকজন ভোট দিতে না যান সেজন্য তাদেরকে অনুৎসাহিত করার প্রত্যাশা করছেন ট্রাম্প।

হিলারি ক্লিনটন ক্লিভল্যান্ডে বলেছেন, ট্রাম্পের পুরো কৌশল হলো ভোট চাপিয়ে রাখা। এ জন্য প্রচ- হুমকি দেয়া হবে। ভোট থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়ার প্রচ- চেষ্টা করা হবে।

তাই রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি ট্রাম্পের প্রচারণা অথবা নির্বাচন মনিটরিংয়ে রাজ্যের দলগুলোর সঙ্গে যেন কাজ না করে সেজন্য চেষ্টা করছে ডেমোক্রেটরা।

আলাদা একটি মামলায় বলা হয়েছে, আদালতের দীর্ঘদিনের নির্দেশ আছে, রাজনৈতিক জাতীয় দলগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো যাতে নির্বাচনে নিরাপত্তায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করে সে জন্য তাদেরকে এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না হওয়ার।

তবে জবাবে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি (আরএনসি) বলেছে, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে জড়িত নয়। তবে অন্য এলাকাগুলোতে ট্রাম্পের সমর্থনে কাজ করে যাচ্ছে। আরএনসি বলেছে, এটা রাজনীতি। কোনো অন্যায় নয়।

এদিকে ঠান্ডা যুদ্ধে সময় থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার শীতল সম্পর্কের কথা সর্বজনবিদিত। মার্কিন মুলুকের রিপাবলিকানদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ধরে কি সেই সম্পর্কের নতুন মোড় আসতে পারে? এমনই দাবি আমেরিকার হ্যাকার টি লিভেজের।তিনি বলছেন, মস্কোর একাধিক ব্যাঙ্কের সঙ্গে গোপন ইন্টারনেট সার্ভার দিয়ে যুক্ত ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি সংস্থা। গোপন নজরাদারি চালিয়ে এই তথ্য উদ্ধার করেছেন তিনি।

তবে সেই সার্ভারের সুরক্ষাবলয় এতটাই মজবুত, যে নজরদারি শুরু করার কিছুক্ষণেই মধ্যেই ‘অফলাইন’ হয়ে যায় সার্ভারটি। কয়েকদিন আগেই পেন্টাগন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, রাশিয়ার হ্যাকাররা নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাবিষয়ক তথ্য চুরি করার চেষ্টা করছিল। সেখানে কেন ট্রাম্প গোপনে রাশিয়ার সঙ্গে সন্দেহজনক যোগাযোগ রাখছেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লিভেজ এবং তার সহকর্মীরা।

লিভেজ বলেছেন, ‘ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। পেশার প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশের ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হতেই পারে। কিন্তু তার জন্য গোপন সংকেতের আদান প্রদান করলে বিষয়টা সন্দেহজনক রূপ নিতে বাধ্য।’বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই মুখ খুলেছেন ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিন্টন। টুইটারে তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রাখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক। এবার ট্রাম্পের উচিত জবাবদিহি করা।’ যদিও এই বিষয়ে একই সুর রাশিয়ার ব্যাঙ্ক এবং ট্রাম্পের সংস্থার। দুপক্ষেরই জবাব, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ