ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে রুগ্ন ও দেউলিয়া শিল্পের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) : মাধবদীতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে ডাইং, ফিণিশিং, স্পিনিং কারখানা এবং র্গামেন্টস ফ্যাক্টরী গুলোতে উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রয়মূল্য কমে যাওয়া, বাজারজাত ও বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতায় এ খাতের উদ্যোক্তারা লোকসানের মুখে পড়ে স্ব-স্ব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা তাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানকে রুগ্ন ঘোষণা করে বন্ধ করে দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকাভুক্ত করার জন্য আবেদন নিয়ে ঘুরছেন। অনেকে ইতিমধ্যেই তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমই এতে আবেদন করেছেন বলেও জানিয়েছেন বেশ ক’জন শিল্প মালিক। এক সাধারণ পরিসংখ্যানে দেখা যায় অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে বন্ধ ও রুগ্ন শিল্পের তালিকা বেশি। দীর্ঘদিন লোকসান গুনে নরসিংদী সদর উপজেলায় বেশ ক’টি বৃহৎ পোশাক শিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। 

প্রায় দু’মাসের বেশী সময় লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যে সব কারখানা ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল সে সব কারখানাগুলো দেউলিয়া ঘোষণা করায় এক দিকে সরকারী রাজস্ব লোকসানের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ পরিশোধের সম্ভাবনা ক্ষীণ অন্যদিকে বেকার শ্রমিকদের সমস্যা ও প্রকটাকার ধারণ করেছে। মাধবদী এলাকায় স্বাধীনতা উত্তরসময় থেকে বিক্ষিপ্ত ভাবে গড়ে উঠা হাজার হাজার কারখানায় উৎপাদিত বস্ত্র সারাদেশের মোট বস্ত্র চাহিদার প্রায় ৪০ ভাগ তৈরি হয় এ অঞ্চলে। শুধু এদেশেই নয় উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরি এখানকার তৈরী কাপড় বহির্বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশেও ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু পাওয়ারলুম ও গার্মেন্টস সেক্টরে সাম্প্রতিক সময়ে এ শিল্পের সাথে জড়িতরা বলেছেন দেশীয় তৈরি পোশাক ও কাপড় বিক্রিতে সমস্যার মূল কারণ হচ্ছে অবৈধ পথে আসা বিদেশী কাপড় শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে এ দেশে আসার কারণে বিক্রেতারা কম মূল্যে বিক্রি করতে পারছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা যেখানে কম মূল্য দিয়ে বিদেশী কাপড় ক্রয় করতে পারছে সেখানে বেশী মূল্য দিয়ে দেশীয় কাপড় ক্রয় করছেনা। 

এ কারণে নিয়মিত শ্রমিক বিল পরিশোধ করা যাচ্ছেনা এবং  তুলার সমস্যায় সুতা তৈরি সীমিত রয়েছে বলে প্রয়োজন মতো সুতা আসছেনা সুতার দামও বেড়েছে অনেক। আর তাই উৎপাদন মুল্য বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্খিত মূল্যে কাপড় বিক্রি করতে না পারায় বাধ্য হয়ে কারখানার মালিকদের কারখানা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। এ ছাড়াও রপ্তানির ক্ষেত্রে কোটাভিত্তিক আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, এয়ারফ্রেইট ও শিপমেন্ট ডিলে এবং তৈরি পণ্য জাহাজীকরণের বাড়তি খরচসহ চাঁদাবাজি ও বাড়তি করের চাপে ক্ষতিকর মুখে পড়ে রপ্তানি চেইন ধসে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আস্থা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ