ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনা ভরা মওসুমে কৃষকরা ধানের দাম পায়নি

  • খুলনার বাজারে বোরো ধান এখন মণ প্রতি ৯৫০ টাকা
  • অথচ মওসুমে কৃষক বিক্রি করেছে ৪-৫শ’ টাকা
  • ধানের ন্যায্য দাম পায়নি কৃষকরা

খুলনা অফিস: খুলনার বিভিন্ন হাট-বাজারে বোরো ধান প্রতিমণ ৯শ’ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বোরো মওসুমে নতুন ধান ওঠার সময় মণপ্রতি মোটা ৪ থেকে ৫শ’ এবং চিকন ৫ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম ও মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করলেও ন্যায্য মূল্য পায়নি কৃষকরা। লাভবান হচ্ছে ফড়িয়া, মহাজন ও রাইস মিল মালিকসহ মধ্যস্বত্বভোগীরা। 

স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি বোরো মওসুমে (চৈত্র ও বৈশাখ) ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটাসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজারে বোরো ধান মণপ্রতি ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে কৃষকের উৎপাদন মজুরীও পায়নি বলে জানা গেছে। 

বোরো আবাদ করতে জমি চাষ, রোপণ করা, সার, কীটনাশক, সেচ প্রদান এবং সর্বশেষ জমি থেকে ধান কাটা ও মড়াই করতে বিঘা প্রতি প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হয়। এ অর্থ যোগাড় করতে কৃষকদের বিভিন্ন মহাজন, এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ গ্রহণ করতে হয়। ধান ওঠার শুরুতে পাওনা পরিশোধে ফড়িয়াদের সিন্ডিকেটের ফলে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। এ সময় মধ্যস্বত্বভোগীরা কম দামে ধান কিনে মজুুদ করে রাখে। সরকার প্রতি কেজির ধানের মূল্য ২২ টাকা নির্ধারণ করলেও বাস্তবে কৃষকরা সে দাম পায়নি। মহাজনদের দেনা পরিশোধে কৃষকদের সব ধানই কম মূল্যে বিক্রি হয়ে যায়। পরবর্তীতে মজুদদাররা এখন চড়া মূল্যে ধান বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। 

বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫নং ভাণ্ডারকোট ইউনিয়নের বড় হাজিরাবাদ গ্রামের মুনসুর আলী বলেন, বৈশাখ মাসে প্রতিমণ ধান সাড়ে পাঁচশ’ টাকায় বিক্রি করে চাষাবাদ ও মাড়াইয়ের খরচ চালিয়েছি। এখন ধান সাড়ে ৯শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কঠোর পরিশ্রম করে ধান উৎপাদন করলেও ন্যায্য দাম আমরা পাইনি। সুবিধা নিয়েছে মজুদাদাররা। 

৭নং আমিরপুর ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ গ্রামের প্রভাষ পাল বলেন, বোরো মওসুমে যদি ধানের এখনকার মতো মূল্য থাকতো তাহলে আমাদের মত গরীব কৃষকরা উপকৃত হতো। সাধারণ কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ধান চাষ করলেও তারা ন্যায্য মূল্য থেকে থেকে বঞ্চিত। লাভবান হচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী মজুদদাররা। 

ডুমুরিয়া উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের কৃষক কৃষ্ণপদ মল্লিক বলেন, এবার প্রায় ৪ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলাম। ধানও ভাল হয়েছিল। কিন্তু চাষাবাদসহ যাবতীয় খরচ মেটাতে প্রায় সব ধানই কম দামে বিক্রি করে দিয়েছে। বর্তমান ঘরে খাবার কোন ধান নেই। তাই বাধ্য হয়ে বেশি দামে চাল ক্রয় করে পরিবার-পরিজনদের খাবার যোগাড় করতে হচ্ছে। ন্যায্য মূল্য পেলে বর্তমান আমাদের এ দুর্দশা হতো না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ