ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিছানায় মোবাইল ফোন রাখা মারাত্মক ঝুঁকি

ঘুমের সময় বিছানায় মোবাইল ফোন রাখলে আগুন ধরা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকেরা। একই সঙ্গে আরো মারাত্মক ঝুঁকির কথাও বলেছেন তারা।

গবেষকরা বলছেন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেটের মতো কোটি কোটি যন্ত্রের ব্যাটারি থেকে কয়েক ডজন মারাত্মক গ্যাস বের হয়। বিছানার পাশে মোবাইল ফোন রাখলে ত্বক, চোখ ও নাকের মধ্যে তীব্র চুলকানিসহ পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

‘ন্যানো এনার্জি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাসংক্রান্ত নিবন্ধে এ তথ্য জানানো হয়।

চেক রিপাবলিক ও চীনের গবেষকেরা সম্প্রতি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি থেকে বের হওয়া ১০০-র বেশি মারাত্মক গ্যাস শনাক্ত করেছেন। এসব গ্যাসের মধ্যে রয়েছে কার্বন মনোক্সাইডের মতো মারাত্মক গ্যাস।

ইনস্টিটিউট অব এনবিসি ডিফেন্স ও সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বলেন, “অধিকাংশ ফোন ব্যবহারকারী ফোনের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, পুনঃ চার্জযোগ্য ডিভাইসে খারাপ চার্জার ব্যবহারের ক্ষতি সম্পর্কে জানেন না।”

গবেষক জি সান বলেন, “আজকাল লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হচ্ছে। লাখো পরিবারে এ ধরনের ব্যাটারিচালিত যন্ত্রের ব্যবহার দেখা যায়। তাই সাধারণ মানুষের এ ধরনের ব্যাটারির ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।”

গবেষক সান বলেন, “কোনো ছোট ও বদ্ধ পরিবেশে যদি কার্বন মনোক্সাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান বের হতে থাকে, তবে তা খুব কম সময়ের মধ্যে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি ও বিমানের মতো জায়গায় বেশি ক্ষতি হতে পারে।”

ব্যাটারি বিস্ফোরণের ঝুঁকির কারণে অনেক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা লাখ লাখ পণ্য ফেরত নিয়েছে। যেমন ২০০৬ সালে ডেল লাখো ল্যাপটপ ও ২০১৬ সালে নোট ৭ স্মার্টফোন ফেরত নিয়েছে স্যামসাং।

‘গ্যালাক্সি নোট ৭’ নিয়ে ওবামা

এদিকে, নিজের বক্তৃতায় স্যামসাং ‘গ্যালাক্সি নোট ৭’-কে উদাহরণ হিসেবে টেনে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

তিনি বলেন, “ফোনে যদি কোনো সমস্যা ধরা পড়ে, তবে তারা (প্রতিষ্ঠান) এর সমাধান বের করে, সংস্কার করে।”

মৃদুহাস্যকর অবস্থায় ওবামা বলেন, “যদি না এতে (স্মার্টফোনে) আগুন ধরে। তখন এটি বাজার থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়।”

প্রেসিডেন্ট তার বক্তৃতায় এটি নিয়ে তুলনাকালে বলেন, “কিন্তু আপনি এই আবর্তনশীল ফোনকে আর ব্যবহার করবেন না। আপনি বলবেন না, ঠিক আছে আমরা স্মার্টফোনটিকে প্রত্যাহার করছি, আমরা শুধু ডায়াল আপ-এর জন্য ব্যবহার করব। এটি আপনারা করবেন না।”

স্যামসাং তাদের নতুন স্মার্টফোন গ্যালাক্সি নোট ৭-এর সঙ্গে পর্যায়ক্রমে যা কিছু করেছে সব কিছুর জন্যই সমালোচনার স্বীকার হয়েছে। উন্মোচনের পরেই ফোনটিতে ব্যাটারির সমস্যাজনিত কারণে আগুন ধরায় ভোক্তাদের কাছ থেকে ফেরত নিয়ে নতুন সংস্করণের নোট ৭ দেয়া হয়। আর বলা হয় এগুলো পুরোপুরি নিরাপদ। পরবর্তীতে আবার ফোনটিতে একই রকম সমস্যা ধরা পড়ে এবং সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাজার থেকে সব নোট ৭ তুলে নেয় এবং ফোনটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। নতুন বার্তা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ