ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

যুবকদের প্রতি উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব সমাজকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকাশক্তি থেকে দূরে থেকে নিজস্ব মেধা ও মননকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি এবং পরিবারিক জীবনকে সুন্দর করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে সম্পৃক্ত হবার আহবান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যুবক। যা পৃথিবীর অনেক দেশেরই নেই। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডপূর্ণ সদ্ব্যবহারকল্পে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল কর্মকা-ে ব্যাপকভাবে সম্পৃক্তকরণের বিকল্প নেই।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় যুব সমাজকে ‘দেশের প্রাণ এবং উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার চালিকা শক্তি,’ বলেও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার উদ্বোনকালে এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যুবকদের সংগঠিত করে বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে উজ্জীবিত করেছিলেন, উদ্যমী করেছিলেন। এই যুবকরাই মুক্তিযুদ্ধে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমরা বিজয়ী জাতি। এখন সবাইকে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে উজ্জীবিত হতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কারো কাছে হাত পাতবো না, আত্মমর্যাদাশীল, কর্মউদ্যমী হয়ে উঠবো।’
‘আমরা চাই না আমাদের যুবশক্তি কোনোভাবেই বিপথে যাক এবং তাদের অভিভাবকদের যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াক। তাদেরকে অবশ্যই মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ থেকে দূরে থাকতে হবে। এগুলো কোনো সুস্থ ধারা নয়, এগুলো সবসময়ই যুব সমাজের সুন্দরভাবে বিকাশের অন্তরায়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, শান্তির ধর্ম ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। ইসলাম কোনোভাবেই মানুষ হত্যাকে সমর্থন করে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হায়াত এবং মউতের মালিক একমাত্র আল্লাহ। এসব তাঁরই হাতে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন সিকদার, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জাহিদ আহসান রাসেল অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন, যুব সংগঠক অমীয় প্লাবন চক্রবর্তী, সেলফ এমপ্লয়ার সুলতানা পপি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। যুব ও ক্রীড়া অধিদফতরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কারে ভূষিত করেন।
এ বছরের জাতীয় যুবদিবসের প্রতিপাদ্য ‘আত্মকর্মী যুবশক্তি, টেকসই উন্নয়নের মূলভিত্তি’ অত্যন্ত যথোপযুক্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে দেশে যুব জাগরণ ঘটেছে। বিশেষ করে আত্মকর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। দেশের সকল জেলায় যুবকদের জন্য একই ধরণের প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামোগত সুবিধা সৃষ্টির লক্ষ্যে নতুন করে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে এবং বিদ্যমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ পেয়ে যুবকরা আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। সরকার যুব উন্নয়ন অধিদফতরের মাধ্যমে বেকার যুবকদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ঋণ সহায়তা ও পরামর্শ দিয়ে তাদেরকে মানবসম্পদে পরিণত করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটায় ২০০৯ সালে সারা দেশে পলিটেকনিকে ভর্তির আসন ছিল যেখানে মাত্র ২৫ হাজার। বর্তমানে তা ১ লাখ ২৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদফতর প্রতিষ্ঠার পর থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত প্রায় ৪৮ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৬২ জনকে দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৭৮৯ জনকে ১ হাজার ৪৫৯ কোটি ১৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষিত যুবদের মধ্যে ২০ লক্ষ ২১ হাজার ১০৩ জন আত্মকর্মে নিয়োজিত হয়েছে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকার যুবদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যে কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত একজন যুবক-যুবনারী প্রতিমাসে ৬০০০ টাকা কর্মভাতা পেয়ে থাকেন। এ পর্যন্ত ২৮টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় প্রশিক্ষণ সমাপনকারীর সংখ্যা মোট ১ লক্ষ ১১ হাজার ১১৬ জন। কর্মসংস্থান প্রাপ্তদের সংখ্যা ১ লক্ষ ০৮ হাজার ৭৮২ জন। অস্থায়ী কর্মসংস্থান শেষে অনেকে স্থায়ী কর্মসংস্থান কিংবা আত্মকর্মী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ