ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিজ্ঞান বিচিত্রা

 রোগ প্রতিরোধের শক্তি বাড়ায় ভূতের মুভি!

আপনি কি ভূতের মুভি দেখেন প্রায়-ই? ভূতের মুভি মনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে মারাত্মকভাবে, এ কথা হর-হামেশাই শুনতে হয় আপনাকে? তবে শুনুন, ভূতের মুভি দেখার ইতিবাচক দিক আছে অনেক। সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হল, এতে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। এছাড়া ভূতের মুভি দেখলে ওজনও কমে! কথাগুলো বলছেন ইংল্যান্ডের কোভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা। ‘স্ট্রেস’ নামের এক জার্নালে প্রকাশিত হয় গবেষণাপত্রটি। গবেষকরা অন্ধকার ঘরে কয়েকজনকে বন্দি করেন। প্রচ- ভয়ের একটি ভূতের সিনেমা দেখানো হবে বলে জানানো হয়। অতর্কিত ‘শক’-এর জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউই। সিনেমা শুরুর আগে প্রত্যেকের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। বিরতি চলাকালীন দ্বিতীয়বারের জন্য দর্শকদের রক্তের নমুনা নেন গবেষকরা। সিনেমা শেষে ফের একবার নমুনা সংগৃহীত হয়। অদ্ভুত রকমভাবে শেষ নমুনাটিতে শ্বেত রক্তকণিকার পরিমাণ বেড়ে যেতে দেখা যায়। এটি হল সেই কণিকা, কোনো জীবাণুর আক্রমণে যা সংখ্যায় বেড়ে যায়। লোহিত রক্তকণিকার থেকেও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে জীবাণু প্রতিরোধে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, ভূতের সিনেমা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক শক্তি বাড়াচ্ছে। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ইমিউনোলজিস্ট নাতালি রিডেল আবার খানিক অন্য কথা শোনাচ্ছেন। তার মতে, রোমহর্ষক ভূতের সিনেমায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অ্যাড্রেনালিন হরমোন ক্ষরিত হয়। এই অধিক ক্ষরণ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায়। শুধু তাই নয়, এর ফলে বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন। বেড়ে যায় বিএমআর (বেসিক মেটাবলিক রেট)। যার মাধ্যমে শরীরে সঞ্চিত শক্তি (এনার্জি) ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ ভূতের সিনেমা রোগ প্রতিরোধকের সঙ্গেই ওজনও কমাতে সাহায্য করে। নাতালি জানাচ্ছেন, সিনেমা পিছু প্রায় ১১৩ ক্যালরি করে ঝরানো যায়, যা ৩০ মিনিট দ্রুতবেগে হাঁটার সমান! ইন্টারনেট।

উপার্জনের নতুন সুযোগ তৈরি করছে ফেসবুক 

জনপ্রিয় ভিডিও সাইট ইউটিউবের মতোই সরাসরি এখন ভিডিও পোস্ট করা যাচ্ছে ফেসবুকে। ফেসবুক ভিডিওর ব্যবসায়িক দিকটিও লক্ষ্য করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুকে ভিডিও জনপ্রিয় হওয়া মানে সাইটে আরও বেশি ‘হিট’ আসা। আর এতে করেই বাড়বে ফেসবুকের বাণিজ্য। সেই কারণে এখন থেকেই ফেসবুক লক্ষ লক্ষ ডলার খরচ করছে বিভিন্ন সেলিব্রিটিকে দিয়ে ভিডিও রেকর্ড করে ফেসবুকে পোস্ট করার জন্য। আগামী বছর ভিডিও ফিচারের পিছনে ফেসবুক মোট ৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছে বলেও জানা যায়। সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিও ফিচার যুক্ত হওয়ার পরে শুধু আমেরিকাতেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৯৪ শতাংশ। আর সারা পৃথিবীতে ফেসবুক গ্রাহকের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। আমেরিকায় প্রতিদিন ১০ কোটি ফেসবুক ভিডিও দেখা হয়। আমেরিকার নেট ব্যবহারকারী মানুষদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ মানুষ ভিডিও খোঁজার জন্য প্রথমেই ফেসবুকে নক করে। তবে আশার কথা হলো ফেসবুক থেকে আপনিও অর্থ উপার্জন করতে পারেন। জানা যায়, ফেসবুক থেকে অর্থ উপার্জন করতে চাইলে গ্রাহকদের যা করতে হবে তা হল, একটি মৌলিক ভিডিও রেকর্ড করে তা পোস্ট করতে হবে ফেসবুকে। সেই ভিডিও যদি যথেষ্ট আকর্ষণীয় হয়, এবং সেই ভিডিও থেকে যদি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অর্থ উপার্জন করতে পারে তাহলে সেই লভ্যাংশের ৫৫ শতাংশ চলে যাবে সেই ফেসবুক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে, যিনি ভিডিওটি তৈরি করে ফেসবুকে আপলোড দিয়েছেন। ইন্টারনেট।

মাছের আঁশ থেকে বিদ্যুৎ 

সাধারণত ফেলেই দেয়া হয় মাছের আঁশ। কিন্তু এবার বোধ হয় তা মহার্ঘ হয়ে উঠল। কেননা এই মাছের আঁশ থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগালেন ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তৈরি করে ফেলেছেন ‘বায়োডিগ্রেডেবল এনার্জি হারভেস্টর’। যেখানে মাছের আঁশ থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। মাছের আঁশে থাকে প্রচুর পরিমাণে কোলাজেন ফাইবার বা তন্তু থাকে। এই কোলাজেন তন্তুর বিশেষ গুণ আছে। বাহ্যিক চাপ প্রয়োগের ফলে তাতে ইলেকট্রিক চার্জ দেখা দেয়। এই ধর্মকে কাজে লাগিয়েই বায়ো-পিজোইলেকট্রিক ন্যানোজেনারেটর তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই ন্যানোজেনারেটরগুলি শারীরিক সঞ্চালনে যে মেকানিক্যাল শক্তি মেলে, তা থেকেই বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এই ধরনের ন্যানোজেনারেটারে যদি বারবার আঙুল ছোঁয়ানো যায়, তবে অন্তত ৫০টি ব্লু-এলইডি জ্বলতে পারে। নতুন এই আবিষ্কার চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে পারে বলে ধারনা বিজ্ঞানীদের। পেসমেকার বদলে দেয়া থেকে শুরু করে আরো বহু মেডিকেল ডিভাইসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে এই আবিষ্কার। ইন্টারনেট।

দ্রুতগতির র‌্যাম

বাজারে এসেছে কিংস্টোন ব্র্যান্ডের হাইপারএক্স ফিউরি ডিডিআরফোর র‌্যাম। ইন্টেলের ১০০ সিরিজ কিংবা এক্স৯৯ চিপসেটের মাদারবোর্ডের সর্বোচ্চ পারফরমেন্স নিশ্চিত করতে অটোমেটিক ওভারক্লকিংয়ের মাধ্যমে এই র‌্যাম সর্বোচ্চ ২,৬৬৬ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়া যায়। দ্রুতগতিতে ভিডিও এডিটিং, থ্রিডি, রেন্ডারিং, গেমিং এবং উচ্চপর্যায়ের গ্রাফিকস প্রসেসিংয়ে ইন্টেলের ২, ৪, ৬ এবং ৮ কোরের প্রসেসরের  সর্বোচ্চ পারফরমেন্স নিশ্চিত করে এই র‌্যাম। এর অন্যতম গুণ হচ্ছে ডিডিআরথ্রি -এর চেয়ে ১.২ ভোল্ট কম বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এছাড়া, বিশেষ অপ্রতিসম ডিজাইনের কারণে অন্যান্য র‌্যামের তুলনায় এই র‌্যাম কম তাপ উৎপন্ন করে। প্রোডাক্ট লাইফ টাইম ওয়ারেন্টিসহ ২ হাজার ৪০০ মেগাহার্টজের এই র‌্যামের ৪ ও ৮ জিবির দাম যথাক্রমে ২ হাজার ৫০ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ টাকা। ইন্টারনেট।

স্মার্টফোনের পরে নতুন ডিভাইসের সন্ধান চলছে 

ব্ল্যাকবেরি, অ্যাপল, স্যামসাং ও মটোরোলার মতো ডিভাইস নির্মাতাদের হাত ধরে প্রায় এক দশক আগে স্মার্টফোনের স্বর্ণযুগের সূচনা হয়। এর পর খাতটিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। অনেক স্টার্টআপ এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। এরপরেও স্মার্টফোন বাজার গত কয়েক বছর ধরে ভালো পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। আর এর ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ডিভাইস নির্মাতা নতুন পুরনো সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ওপর। এ কারণেই বিকল্প পণ্য নিয়ে ভাবছে এ খাতের বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারীরা পরবর্তী এমন কোনো পণ্য চিহ্নিত করতে সমর্থ হননি, যা প্রযুক্তি খাতে স্মার্টফোনের মতো ব্যবসার ধারা সৃষ্টি করতে পারে। বিনিয়োগকারীরা সব সময় পরবর্তী বড় কোনো কিছুর পেছনে ছুটতে পছন্দ করেন। এ ধারাবাহিকতা এখনো চলমান। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক হতে পারে এমন কোনো পণ্য এখনো চিহ্নিত করতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। এটা রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক। এর পরেও স্মার্টফোনের পরবর্তী সম্ভাব্য লাভজনক প্রযুক্তিপণ্য হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয়েছে বেশ কিছু পণ্যকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বচালিত গাড়ি, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো নতুন ডিভাইস। বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে সাড়া ফেলতে পারে এমন পণ্যের সন্ধানে এক দিকে বিতর্ক, অন্য দিকে অর্থ সংগ্রহ দুটোই চলছে সমানতালে। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রযুক্তি খাত নিয়ে বহুবার উত্থান-পতনের সম্মুখীন হয়েছে সিলিকন ভ্যালি। মার্কিন বিনিয়োগকারীরা তাই এ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নন। তাদের বিশ্বাস, কোনো-না-কোনো উপায় বের হবেই। সংশ্লিষ্ট খাতে শিগগিরই এমন কোনো এক পণ্য আসবে, যা গ্রাহক আকৃষ্টের দিক থেকে স্মার্টফোনকেও হার মানাবে। ১৯৭০ সালে বড় ধরনের সঙ্কটে পড়ে সিলিকন ভ্যালি। ১৯৮০ সালে যখন পার্সোনাল কম্পিউটার (পিসি) ব্যবহারে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হয়, তখন ওই সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে সমর্থ হয়। আর সেই সময়ই উত্থান ঘটে ইন্টেল করপোরেশন, অ্যাপল ও মাইক্রোসফটের মতো আজকের প্রতিষ্ঠিত একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের। ১৯৯০ সালে প্রায় এক দশক পর যখন পিসি বিক্রিতে মন্দা ভাব দেখা যায়, তখনো ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা তাদের গুরুত্ব পরিবর্তন করে। এর পর ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব নিয়ে একটি বিপ্লব ঘটে। বিনিয়োগকারীরা ১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এ খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ সম্পন্ন করে। ঠিক ওই সময়ই মার্কিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ও ইয়াহু ইনকরপোরেশনসহ প্রায় এক হাজার স্টার্টআপ পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হয়। ইন্টারনেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ