ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত তান্ডব মহলবিশেষের গভীর ষড়যন্ত্র - মিজা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্টে পবিত্র কাবা শরিফ অবমাননা করাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত তান্ডব মহলবিশেষের গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দোষীদের শাস্তি দাবি করেন।
বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, মানুষের স্বাধীনতা আজ দুস্কৃতিকারীদের দ্বারা বিপন্ন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিতান্তই পুলিশী-দমন-তৎপরতা ও মামলা হামলা নির্ভর। সেজন্য জনসমাজের সর্বত্র হিংসা ও বিদ্বেষের বিষবাষ্পে আচ্ছন্ন।
গত ৩০ অক্টোবর রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় রসরাজ দাস নামে একজন ব্যক্তি পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা করে আপত্তিকর ছবি সামাজিক গণমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অত্র এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ও বসতবাড়িতে যে তা-ব চালানো হয়েছে সেটিকে ন্যাক্কারজনক ও নজীরবিহীন আখ্যা দিয়ে এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন বিএনপি মহাসচিব। একই সঙ্গে তিনি এই সরকারের আমলে বার বার ইসলাম ধর্ম, বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (স:) ও পবিত্র কাবা শরীফকে নিয়ে বিকৃত, অরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য অব্যাহত থাকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সকল ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর স্বাধীন ধর্মচর্চা, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্রিয়াকর্মের স্বাধীনতায় গভীরভাবে বিশ্বাসী। সকল জনগোষ্ঠির নিরাপত্তা বিধান ও ধর্মীয় স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বিএনপি অঙ্গীকারাবদ্ধ। এই সরকারের আমলে ক্রমাগতভাবে সাম্প্রদায়িক সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়া চিরদিনের জন্য অবসান ঘটাতে সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, এই সরকারের আমলেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও তাদের ধর্মগুরুদের ওপর সবচাইতে বেশি হামলা হয়েছে। এতে সহায় সম্পদ ও জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা আক্রান্ত হয়েছে দুস্কৃতিকারীদের দ্বারা। এদেশের নানা সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিকে বহুমাত্রিক ধারণার মধ্যে সম্পৃক্ত করে নির্বিঘেœ জীবন-যাপন করেছে। ধর্মীয় সংস্কৃতির আদান প্রদানের মধ্যদিয়ে নিজেদের একটি মজবুত ও অভিন্ন ঐতিহ্য তৈরি করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে পরস্পরের প্রতি একটি সহানুভুতিসম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জানমাল, উপাসনালয়ের ওপর আক্রমন চালিয়ে যে ভীতিজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য দায়ী দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় ফেসবুক পোস্টে পবিত্র কাবা শরীফ অবমাননা এবং এটিকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত তা-ব আরো একটি চক্রান্তের অংশ। এটি মহল বিশেষের গভীর ষড়যন্ত্র। ইতোমধ্যে রসরাজ দাসের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি পোস্ট করার বিষয়টি সে অস্বীকার করেছে। সুতরাং প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় না এনে একটি অরাজক পরিস্থিতির সুযোগ সৃষ্টি হওয়া সন্দেহজনক।
মির্জা ফখরুল বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির, দত্তবাড়ি মন্দির ও জগন্নাথবাড়ি মন্দিরসহ ১৩টি বাড়িঘর লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত তৎপর হলেই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো যেতো। ভীতি প্রদর্শ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করেছে। ফলে বাংলাদেশে আজ কোনো মানুষেরই জীবনের নিরাপত্তা নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ