ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : আগামী ৭ নবেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পূর্ব ঘোষিত বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সমাবেশকে ঘিরে বিএনপি প্রস্তুতিও নিতে শুরু করেছে। দলের নেতাকর্মীরাও উৎসাহ নিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে অপেক্ষা করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবর সমাবেশের অনুমতি প্রদানের অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, তাদের সমাবেশ হবে শান্তিপূর্ণ। তাই তারা অনুমতিও পাবেন। কিন্তু এতে বাধ সেধেছে ক্ষমতাসীন দল আ’লীগ। দলটির নেতারা বলছেন, বিএনপিকে ৭ নবেম্বর সমাবেশ করতে দেয়া হবেনা। যেকোন মূল্যে সমাবেশকে ঠেকানো হবে। অপরদিকে সমাবেশ আয়োজনে অনঢ় অবস্থানে বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের সমাবেশ ঘিরে সরকারি দলের নেতাদের এমন বক্তব্য অনাকাংখিত। এভাবে যদি গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হয়, তাহলে দেশের গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের মুল চেতনা ধ্বংস হবে। এছাড়া দেশের চলমান সংকটও বাড়বে।
 সূত্র মতে, গেল শনিবার নয়াপল্টনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ৭ নবেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, প্রতিবছরই দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গ দল আলোচনা সভাসহ নানান আয়োজন করে। এবার বিএনপির পক্ষ থেকে বড় আকারে সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়া হয়। এতে দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রদান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। সমাবেশের অনুমতি পেতে পুলিশ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বিএনপির নেতারা বলেন, আশা করি বিএনপি সমাবেশ করার অনুমতি পাবে।
সমাবেশকে ঘিরে যখন নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে তখনই ক্ষমতাসীন দল কর্মসূচি করতে দেয়া হবেনা বলে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় চার নেতা হত্যাকা-ের জন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে তার গড়া দল বিএনপিকে আগামী ৭ নবেম্বর কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ার হুমকি দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। গত  সোমবার  মোহাম্মদুপরের সূচনা কমিউনিটি  সেন্টারে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এক যৌথসভায় বিএনপিকে এমন হুমকি  দেন তিনি। হানিফ বলেন, পঁচাত্তরের ৩ নবেম্বরের ঘটনা আড়াল করতে সিপাহী বিপ্লবের নামে পঁচাত্তরের ঘাতক  গোষ্ঠি তথাকথিত বিপ্লব দিবস পালন করে। এই দিন তারা হাজারো  সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে। এই  সেনা হত্যাকারীদের মাঠে নামার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিপ্লবের নামে এই ঘাতকদের আশ্রয় প্রশ্রয়  দেওয়ার  কোনো সুযোগ  নেই। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার  নেতা হত্যার জন্য জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে তার মরণোত্তর বিচারও দাবি করেন হানিফ।
এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, হুমকি ধামকি দিয়ে লাভ হবেনা। ৭ নবেম্বর গণতন্ত্র ফিরে পাবার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার একটি মহান দিন। এই দিবস পালিত হবে। আমি বিএনপির পক্ষ  থেকে বলছি, হানিফ সাহেবরা প্রতিহত করুন। আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব, দিবসটি পালন করবই।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক হানিফের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, হানিফ যে কথা বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, সরকারের বক্তব্য নয়। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সমাবেশ সরকার করতে  দেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে, পুলিশও তা অনুমোদন  দেবে। তাদের কাছ  থেকে আমরা বিভিন্নভাবে ইংগিতও পাচ্ছি। দলের  চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া উপস্থিতিতে ওই সমাবেশ সুচারু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি  নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আওয়ামী লীগ  নেতা হানিফের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনাদের অস্ত্র আছে, রাইফেল আছে, আপনাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, আপনারা অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের ভেতরে যে দিবসটি পালিত হয়,  সেই দিবসটি মুছবেন কি করে।
সমাবেশ করতে  দেয়া হবে না আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ৭ নবেম্বর সমাবেশ যে কোন মূল্য করা হবে, হানিফের ক্ষমতা থাকলে  সে যেন বাধা দেয়।
আগামী ৭ নবেম্বর বিএনপি যেকোনো মূল্যে সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভাইস  চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল  নোমান। আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে এ কথা বলেছেন তিনি।  সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যে মূল্যে সমাবেশ করবেই।
সমাবেশকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যকে আগ্রাসী মন্তব্য করে ঢাবির সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ বলেন, সমাবেশ করার অধিকার যেকোন দলের রয়েছে। কিন্তু সরকার এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। এমনেিতই অনেক দলই সমাবেশ করতে পারে না। তিনি বলেন, বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেয়ার কারণে সরকারেরই বেশি ক্ষতি হবে। আমরা আশা করি, সরকার সে পথে যাবেনা। প্রত্যেককেই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করার সুযোগ দিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ