ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নির্বাচিত হলে হিলারি মিশেলকে মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই দেবেন

সংগ্রাম ডেস্ক : নির্বাচিত হলে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে মন্ত্রিপরিষদে ঠাঁই দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। তিনি বলেন, ৮ নবেম্বর নির্বাচনে জয়ী হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিপরিষদের দরজা সবসময় মিশেলের জন্য খোলা থাকবে। ফার্স্ট লেডির সঙ্গে এক যৌথ নির্বাচনী প্রচারাভিযানে এই ঘোষণা দেন হিলারি।
হিলারিকে নির্বাচনী প্রচারণায় সহযোগিতা করছে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। মিশেলের প্রশংসা করে হিলারি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তাহলে মিশেলের জন্য পার্লামেন্টে একটি আসন রাখার কথাও জানান। দ্য হিল, বাংলাট্রিবিউন, সিএনএন, বিবিসি, আলজাজিরা।
এ সময় হিলারি ৮ বছর দক্ষতার সঙ্গে ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করার জন্য মিশেলের প্রশংসা করেন এবং সব সময় মিশেলের সহযোগিতা কামনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনের প্রচারাভিযান শেষ পর্যায়ে। মিশেল ওবামা ইতিমধ্যে প্রচারাভিযানে হিলারির ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। ৮ নবেম্বর নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন জয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
এর আগে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। হিলারিকে অনুসরণ করে ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হবেন এমন ধারণা করছিলেন অনেকে। সেই ধারণা ওবামা ভেঙ্গে দিয়েছেন।
ওবামা স্পষ্ট জানিয়ে দেন মিশেলের প্রেসিডেন্ট হবার কোনো সম্ভাবনা নেই। ওবামার মতে, মিশেল মেধাবী ও বুদ্ধিমতি তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউজে গিয়ে কাজ করার মতো যে ধৈর্য ও ইচ্ছা থাকার প্রয়োজন তা মিশেলের নেই। তাই মিশেলের প্রেসিডেন্ট হবার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান বারাক ওবামা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল বিতর্ক বেশ ভালোই উপভোগ করছেন রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার তিনি মন্তব্য করেছেন, হিলারি ক্লিনটন বার বার আইন ভেঙেছেন। আমরা নিশ্চিত যে, তার এসব ই-মেইল জাতিকে গভীরভাবে বিচলিত করার মতো। গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ই-মেইল ইস্যুতে হিলারির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তুলেছেন তার স্বপক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল নিয়ে এফবিআই নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয়ায় এফবিআই প্রধান জেমস কোমিকেও ধন্যবাদ জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি এফবিআই’কে কৃতিত্ব দিতে চাই। যেটা ঘটেছে সেটা খুবই খারাপ। এফবিআই’র পরিচালক জেমস কোমি’কে সাহস নিয়ে এই তদন্তকাজ পরিচালনা করতে হবে। আমি তার ভক্ত নই। কিন্তু আমি বলবো, তিনি যেটা করেছেন এর মাধ্যমে তিনি নিজের সুনাম ফিরিয়ে এনেছেন।
এদিকে হিলারির ই-মেইল নিয়ে এফবিআই’র নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণার পর ট্রাম্পের সঙ্গে হিলারির ব্যবধান কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ জরিপে হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যকার ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। বলা যায়, বেশ হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানেই এখন রয়েছেন তারা। রোববার এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের ওই জরিপে দেখা গেছে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ট্রাম্পের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্টে এগিয়ে আছেন হিলারি। জরিপে হিলারির পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৬ শতাংশ মানুষ আর ট্রাম্পের পক্ষে রায় দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ মানুষ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ৯ দিন আগে জরিপটি প্রকাশ করা হলো।
গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ভোটারদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে জরিপটি চালানো হয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, অন্য দুই প্রার্থী অর্থাৎ লিবারটারিয়ান গ্যারি জনসনের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ৪ শতাংশের এবং গ্রিন পার্টির জিল স্টেইনের পক্ষে সমর্থন রয়েছে ২ শতাংশ মানুষের।
সম্প্রতি ই-মেইল ইস্যুতে হিলারির বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরুর ঘোষণা দেয় মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। আর এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরের রোষাণলে রয়েছে তদন্ত সংস্থাটি। ডেমোক্র্যাটরা দাবি করে আসছে, এফবিআই নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে। তবে এবিসি নিউজ/ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিনী এফবিআই-এর তদন্ত ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে তাদের সিদ্ধান্ত পাল্টাতে রাজি নন। প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে ৬ জনই বলেছেন তাদের ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে ই-মেইল ইস্যুটি কোনো পরিবর্তন ঘটাবে না। প্রতি ১০ জনে তিন জনের বেশি মার্কিনী জানিয়েছেন, তারা হিলারিকে সমর্থন দেবেন না বলে মনে করছেন। আর ২ শতাংশ মানুষ বলেছেন, এ ঘটনার পর তারা হিলারিকে ভোট দেয়ার কথা আরও বেশি করে ভাবছেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরু করার খবরটি সামনে আসে। হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ই-মেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ই-মেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ই-মেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারির দাবি, তিনি ভুল কিছু করেননি। হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহার করে ই-মেইল আদান-প্রদানের কারণে আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআই। গত ২৯ জানুয়ারিতে সংস্থাটির অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ই-মেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত শেষ করে এফবিআই।
সম্প্রতি এফবিআই থেকে জানানো হয়, হিলারির ই-মেইল নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি। ওই তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন নতুন কিছু ই-মেইলের সন্ধান পাওয়ায় তদন্ত হবে। হিলারির প্রচারণা শিবিরের ভাইস চেয়ারপার্সন হুমা আবেদিনের ই-মেইল তদন্তের জন্যও এফবিআই-এর কাছে একটি ওয়ারেন্ট আছে বলে জানানো হয়।
আগামী ৮ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। এ নির্বাচনে ২০০ মিলিয়ন রেজিস্টার্ড ভোটার রয়েছেন। এরইমধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আগাম ভোট দিয়েছেন ২০ মিলিয়ন ভোটার।
দু’টি ভোট দিন
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আমেরিকার রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য তিনি বলেছিলেন, ফলাফল মেনে নেবেন যদি তিনি নির্বাচনে বিজয়ী হন। নির্বাচনী ভোট গণনার মেশিনগুলোতেও কারচুপি করা হচ্ছে বলেও ট্রাম্প দাবি করেন। ফলে তার বিরুদ্ধে একটি গভীর চক্রান্ত হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
সম্প্রতি আইওয়া অঙ্গরাজ্যের এক নারী ভোট জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেফতার হন। অভিযোগ ছিলো- তিনি ট্রাম্পকে দুটি ভোট দিতে গিয়েছিলেন। তার ভয় ছিলো ট্রাম্পকে ভোট দিলেও এটি হিলারির খাতায় যোগ হবে। মহিলার এই দাবিটি ট্রাম্প সমর্থকদের আলোড়িত করেছে। আলোড়িত হয়েছেন ট্রাম্প নিজেও।
কলোরাডোর গ্রিলিতে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প তার সমর্থকদের ‘মেইল ব্যালট’-এর ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ভোট দিতে বলেছেন। তার ভয় মেইল ভোটিংয়ের ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের ভোট গণনা করা হবে না। তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা আপনাদের ভোটগুলোকে পুনরায় যাচাই করুন, এগুলোকে ঠিকঠাক গণনা করা হয়েছে কি-না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রে আপনারা গিয়ে ব্যালট চাইবেন। যদি তারা আপনার পুরনো ভোটটিকে গণনায় না ধরে তবে তারা আপনাকে নতুন ব্যালট দেবে।’
সবশেষে ট্রাম্প যুক্তি দেখান, যদি মেইল ভোট ঠিকমতো গণনা না হয় তবে একজনের ভোট একাধিকবার গণনারও সুযোগ থাকে। কলোরাডোতে এ বছর থেকেই একটি নতুন নিয়ম চালু হয়েছে, যার ফলে ভোটের দিন বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ