ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শামসুর রহমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

স্টাফ রিপোর্টার : আজ ২ নবেম্বর মুহাম্মদ শামসুর রহমানের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মটবাটি গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম হয়। তার পিতা ও পিতামহ ছিলেন এলাকার বিখ্যাত, শিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান ও ধার্মিক ব্যক্তিত্ব।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কথা যাতে দেশে-বিদেশের, বিশেষতঃ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌছতে পারে সে জন্য তিনি কিশোর বয়স থেকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়াকালীন সময়ে উপমহাদেশের বিখ্যাত “আনন্দবাজার” পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতো। এরপর তিনি ইংরেজি দৈনিক “পাকিস্তান অবজারভার” এবং এসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) এর খুলনা আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি কিছুদিন কৃষি বিভাগে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কয়েক বছর পর তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে একটি পত্রিকা প্রকাশ করার সংকল্প করেন। এরপর ১৯৫০ সালে তিনি খুলনা থেকে “সাপ্তাহিক তওহীদ” নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে পত্রিকাটি (অধুনালুপ্ত) অত্র অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে।

মুহাম্মদ শামসুর রহমান দীর্ঘ ২২বছর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা “মুসলিম এইড ইউকে” এর বাংলাদেশ শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনার পাইকগাছায় তার প্রতিষ্ঠিত সিরাতুল হুদা হাফিজিয়া মাদ্্রাসা ও এতিমখানা এবং হোমিও দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র এখনও পরিচালিত আছে।

সাংবাদিকতার সুবাদে তিনি তৎকালীন সময়ের জাতীয় নেতাদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে-ই-বাংলা এ,কে,এম ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন, খান এ সবুর ইত্যাদি প্রভাবশালী নেতাদের সাথে সখ্যতা ছিল।

সাংবাদিকতা পেশার আরও শক্তিশালী অবস্থান সৃষ্টি করার জন্য তিনি কয়েক জন সাংবাদিক বন্ধুকে নিয়ে গড়ে তোলেন “খুলনা প্রেসক্লাব” এবং তিনি তার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য তার মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সাংবাদিক গণসংবর্ধনা দেয়া হয়। এ সময় তাকে ক্লাবের পক্ষ থেকে উক্ত অঞ্চলের সাংবাদিকতার দিকপাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

রাজনীতি, সাংবাদিকতা, সমাজসেবার অন্যতম ব্যক্তিত্ব মুহাঃ শামসুর রহমান। তিনি ১৯৩৯ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রী (বি.এ) অর্জন করার পর প্রথমে ভারতের মেদিনীপুর জেলায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করে তার প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন। ব্যাচেলর শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি হোস্টেলের বেকার ছাত্রদের নিয়ে “কন্টাই রিলিফ কমিটি” গঠন করেন এবং তিনি সে কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি গ্রামের দরিদ্র মানুষের দুরাবস্থা দেখে তা নিরসনের জন্য “পল্লী মঙ্গল” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং গ্রামীণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন ।

 তিনি পরবর্তীতে রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন এবং ১৯৫৪ সালে তিনি শেরে-ই- বাংলার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রণ্টের এমএনএ (পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য) প্রার্থী পদের জন্য মনোনীত হন। এরপর তিনি ১৯৬২ সালে খুলনা-সাতক্ষীরার (পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর) পাঁচটি উপজেলা মিলে একটি প্রভিন্সের এমএনএ নির্বাচিত হন। ।

পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। জামায়াতে ইসলামীতে তিনি সেক্রেটারি জেনারেলসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি সিনিয়র নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ