ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৮ ॥ থানায় মামলা দায়ের

সংগ্রাম রিপোর্ট : পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহলযুক্ত হাড়িভাসা ইউনিয়নে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও পুলিশ জানায়, পুলিশের সাথে নয় ধাওয়া-পাল্টা ঘটেছে জামায়াত-শিবিরের সাথে ছাত্রলীগের।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমের সামনে এই ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড় জেলা আমীর মাওলানা আবদুল খালেক বলেন, আমরা জয়লাভ করেছি। আমরা কেন বিশৃঙ্খলা করব। বরং ফলাফল পক্ষে নিতে ছাত্রলীগ বিশৃঙ্খলা করেছে।

এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান আকতারসহ ৮ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান আকতার ও সহসভাপতি মুরাদ হোসেনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এ খবর ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাংচুরসহ পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের চৌরঙ্গী এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত স¤্রাটের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষে সোমবার রাতে ৩ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বেসরকারি ফলাফল প্রতিটি উপজেলার কন্ট্রোলরুম থেকে ঘোষণা করা হচ্ছিল। এ সময় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মাত্র ৯৪ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেনকে হারিয়ে জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইয়েদ নূরে আলম বিজয়ী হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুঁড়িতে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ ৮ জন গুরুতর আহত হন।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

উত্তেজিত নেতা-কর্মীরা পরে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত স¤্রাট তাদের শান্ত করেন। 

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সাথে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কোন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। বরং জামায়াত-শিবিরের কিছু নেতাকর্মী কন্ট্রোলরুমে ইট-পাটকেল মেরে ভাংচুর চালানোর চেষ্টা করে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদেরও তারা মারধর করে। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ২৭ জন নেতা-কর্মীসহ আরো অজ্ঞাত ৭০ জনকে আসামী করে পরাজিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে রাতেই হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী ফলাফলসহ জেলার মোট ৯টি ইউনিয়ন পরিষদের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

ফলাফলে, পঞ্চগড় সদর উপজেলায় বিলুপ্ত ছিটমহলযুক্ত হাফিজাবাদ ইউনিয়নে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম মুছা কলিমুল্লাহ নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ইসমাইল হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৭ ভোট।

হাড়িভাসা ইউনয়িনে নির্বাচিত জামায়াত সমার্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইয়েদ নুরে আলম অটোরিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ ভোট। তার নিকটতম আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবুল হোসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮৫৯ ভোট।

বোদা উপজেলার বোদা সদর ইউনিয়নে শুধুমাত্র চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মশিউর রহমান মানিক নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬৩৮ ভোট।

ময়দানদিঘী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল জব্বার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৬২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত হাবিব আল আমিন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৩৩ ভোট।

মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবু আনসার মো. রেজাউল করিম শামীম নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী রহুল আমিন প্রধান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৩৯ভোট।

বড়শশী ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আফজাল হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ১১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. ময়ুর রহমান নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৬১ ভোট ।

কাজলদিঘি কালিয়াগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আলাউদ্দিন আলাল চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ২৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান শ্যামল নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৯৭ ভোট।

দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম রহমান সরকার নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৭২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু তাহের-আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৪১ভোট।

চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল মোস্তাহারুল হাসান নয়ন নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ১৭৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সহিদুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৮৪ ভোট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ