ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

চলতি অর্থবছর শেষে করদাতা হবে ২৫ লাখ -অর্থমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছর শেষে দেশে প্রায় ২৫ লাখ করদাতা হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য সবাইকে কর প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই রাষ্ট্রের উন্নয়ন করা সম্ভব।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্মাণাধীন জাতীয় রাজস্ব ভবনে জাতীয় আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান,এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ও এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ এবং এনবিআরের সদস্যরা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ লাখ করদাতা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম চার মাসে সাড়ে তিন লাখ নতুন করদাতা পেয়েছি। আশা করছি চলতি অর্থবছর শেষে দেশে করদাতা হবে প্রায় ২৫ লাখ।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের দেশে করদাতার সংখ্যা খুবই কম। তবে আশা করছি আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সংখ্যা একটা সম্মানজনক জায়গায় পৌঁছাবে। কর প্রদান পদ্ধতি আমরা অনেক সহজ করেছি। এখনও আর কর দিতে কোন আইনজীবীর প্রয়োজন হবে না। আপনি ইচ্ছা করলেই নিজের রির্টান নিজেই দাখিল করতে পারবেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে রাজস্ব দেই। একসময় শুধুমাত্র দেশ পরিচালনার জন্য রাজস্ব আদায় করা হতো। কিন্ত এখন রাজস্ব আদায় করা হয় রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে।

মুহিত বলেন, আয়কর মেলার উদ্দেশ্য ছিল করদাতাকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা এবং কর আদায়কারীদের মধ্যে জনবান্ধব মনোভাব তৈরি করা। আয়কর মেলা এখন উৎসবে পরিণত হয়েছে।

এম এ মান্নান বলেন, কর কাঠামোকে আরো সহজ করতে সংস্কার চলছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া, ভবিষ্যতে আরো সহজ করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন,রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি সহজ হওয়ার কারণেই গত তিন মাসে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টিআইএন বেড়েছে। এবছর কর দাতার সংখ্যা বেড়ে প্রায় দ্বিগুন হবে। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলের রাষ্ট্রের উন্নয়ন হবে।

মাতলুব আহমাদ বলেন, রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে ট্যাক্স পুলিশ গঠন করতে হবে। তাহলেই কর আদায়ের পরিমাণ আরও কয়েকগুন বাড়বে। উন্নত দেশে ট্যাক্স পুলিশ রয়েছে। আমাদের দেশে এটির প্রবর্তন করা দরকার। কোনো ব্যক্তির রাজস্ব বকেয়া থাকলে তাদের সতর্ক করতে পারবে ট্যাক্স পুলিশরা। এটি করা হলে রাজস্ব ফাঁকি অনেকটা রোধ করা সম্ভব হবে।

 তিনি বলেন, বাংলার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ভ্যাট ট্যাক্স দিতে চায়। তবে তারা দেওয়ার পদ্ধতি আরও সহজ চায়। তিনি আরও বলেন, এখন অনলাইনে রিটার্ন দেওয়া যাচ্ছে। ভবিষ্যতে হয়তো সব ট্যাক্স দেওয়া যাবে।

মাতলুব আহমাদ বলেন, জেলা ও বিভাগীয় শহরে রাজস্ব কমপ্লেক্স করা প্রয়োজন। এছাড়া ঢাকা শহরে আঞ্চলিক রাজস্ব কমপ্লেক্স করা এখন সময়ের দাবি।

নজিবুর রহমান বলেন, আমরা রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি আরও সহজ করবো। এজন্য কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনলাইনে রির্টান দাখিল পদ্ধতি চালু হয়েছে। এতে কোন করদাতা কর অফিসে না গিয়েও রির্টান দাখিল করতে পারবেন।

দেশের একটি কর বান্দব পরিবেশ তৈরি করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সকলের সহায়তা লাগবে। মূলত আমরা সেবার মনোভাব নিয়েই কাজ করছি। করদাতার সেবা নিশ্চিত করতেই আমাদের যত সব উদ্যোগ। আর এ কারণেই সারা দেশের ১৫০ স্থানে এবার মেলা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ