ঢাকা, বুধবার 02 November 2016 ১৮ কার্তিক ১৪২৩, ১ সফর ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পশ্চিম পাশে মাদকের হাট

সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা : দিন দিন বাড়ছে মাদকের বিস্তার। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পশ্চিম অংশে বসছে মাদকের হাট। মাদকসেবীর সংখ্যাও বাড়ছে। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা ওই মাদকহাট-অসামাজিক কাজ বন্ধের দাবিতে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে গণদরখাস্ত দিয়েছেন।

গণদরখাস্তে বলা হয়, বিমানবন্দরের পশ্চিম পাশে তেলীপাড়া, মুন্সিপাড়া, বানিয়াপাড়া, হাতিখানা কবরস্থান, মন্ডলপাড়া, হাতিখানা মহুয়া গাছ, সাহেবপাড়া, ইসলামবাগ এলাকা, গোলাহাট, কামারপুকুর, নতুন বাবুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিনই মাদকহাট বসছে। এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই হাটে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা করে থাকে। কেবল মাদক নয়, ওইসব এলাকায় চলছে জুয়ার আসর ও গভীর রাতে অন্য এলাকা থেকে মেয়ে এনে চলে অসামাজিক কাজ। এসব বন্ধে বহুবার প্রশাসনকে অবহিত করেও কোন ফল মেলেনি বলে ওই দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়।

দরখাস্তে বিমানবন্দর পশ্চিম অংশের ৪৬ জন বাসিন্দা স্বাক্ষর করেছেন। তবে ওই দরখাস্তে মাদক বিক্রেতা কিংবা অসামাজিক কাজে জড়িত ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

গণদরখাস্তে স্বাক্ষরকারী এলাকাবাসী নবী আলম মন্ডল জানান, বিমানবন্দরের উঁচু দেওয়াল থাকায় এর এক অংশ সন্ধ্যে নামার সঙ্গে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। সে সুযোগে দেওয়ালের ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে কতিপয় ব্যক্তি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা অত্যন্ত প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস রাখেনা। মাদক হাটে গিয়ে উঠতি যুবকেরা মরণনেশায় মেতে উঠছে। সাথে চলছে অসামাজিক সব কাজ কারবারও। এতে করে নেশা ও অসামাজিক কাজের অর্থ জোগাতে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই, মোটরসাইকেল চুরি। গরু চুরিও বাড়ছে। রাতে ওই এলাকায় চলাচল অনিরাপদ হয়ে ওঠে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যক্তি জানান, মাদক ও জুয়ার গ্রাসে এলাকার কয়েকটি পরিবার সর্বশান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ওই ব্যক্তির নিজের পরিবারের সদস্যরাও রয়েছে বলে জানানো হয়।

দরখাস্তে স্বাক্ষরকারী মো. আহাদ-উল-হক জানান, বিমানবন্দরের পূর্ব অংশ রয়েছে সেনানিবাস। আর পশ্চিম অংশে সাধারণ মানুষের বসবাস। এ সুযোগে একটি চক্র কমপক্ষে পাঁচটি পয়েন্টে মাদকের আখড়া বসিয়েছে। এসবে প্রচুর মানুষের আনাগোনা হচ্ছে। তাদের দ্বারা চুরি, ছিনতাইসহ অসামাজিক কাজ সংঘটিত হচ্ছে। অবৈধ এসব কারবারে নতুন নতুন মানুষের আগমনে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকেও বিঘিœত করতে পারে বলে আশংকা রয়েছে। এসব বন্ধে এলাকায় পুলিশি টহল দাবি করা হয়। মাদকদ্রব্য, জুয়া ও অসামাজিক কাজ বন্ধ না হলে এলাকার সচেতন মানুষ সামাজিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সঙ্গে। তিনি দরখাস্ত প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি বিস্ময়কর। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। কোন ক্রমেই যাতে ওই এলাকার পরিবেশ বিঘিœত না হয় তা দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ